প্রতিষ্ঠানের মোট লভ্যাংশের ৫ শতাংশ শ্রমিকদের মাঝে বণ্টন না করলে প্রতিষ্ঠানের লাইসেন্স নবায়ন করা হবে না বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছে শ্রম মন্ত্রণালয়।
শ্রম মন্ত্রণালয় থেকে সম্প্রতি জারি করা এ সম্পর্কিত প্রজ্ঞাপনে শ্রম আইন-২০০৬ এর আওতাভুক্ত সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান সম্পর্কে বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছে।
শ্রম মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা যায়, শ্রম আইন পাস হওয়ার পর থেকেই প্রতিষ্ঠানের লভ্যাংশের যে অংশ শ্রমিকদের দেয়ার কথা তা বাস্তবায়নে নানা পদক্ষেপ নিয়ে তেমন সুফল না পাওয়ায় কর্তৃপক্ষ কঠোর হতে বাধ্য হয়েছে। এ জন্য শ্রম মন্ত্রণালয়ের কল কারখানা পরিদর্শকরা মাঠ পর্যায়ে তাদের কার্যক্রম পরিচালনা এরইমধ্যে শুরু করেছে।
এ বিষয়ে শ্রম আইন বিশেষজ্ঞ অ্যাডভোকেট জাফরুল হাসান শরীফ বলেন, শ্রম আইন বাস্তবায়নে সরকারের এ ধরনের পদক্ষেপ রাখা খুব জরুরি ছিলো। শ্রমিকদের মাঝে লভ্যাংশ বণ্টনের বিষয়ে প্রজ্ঞাপন জারি হয়েছে যা সরকারকে সাধুবাদ দেয়ার মতো বিষয়। আর এই আইন বাস্তবায়ন হলে দেশের বাইরেও শ্রম পরিবেশ সম্পর্কে আরো ইতিবাচক ধারণা হবে।
শ্রম আইন-২০০৬ এর ২৩২ ধারা অনুযায়ী, কোনো প্রতিষ্ঠানের পরিশোধিত মূলধন যদি এক কোটি টাকা ও স্থায়ী সম্পদ ২ কোটি টাকা থাকলে তাদের ক্ষেত্রে এ আইন প্রযোজ্য হবে।
তবে যেসব প্রতিষ্ঠান সম্পূর্ণ রফতানির লক্ষ্য নিয়ে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে তাদের ক্ষেত্রে এই আইন প্রযোজ্য হবে না। প্রতিষ্ঠানের ৫ শতাংশ মুনাফা শ্রমিকদের কল্যাণে বণ্টন করতে হবে। ৫ শতাংশ মুনাফার অংকের ৮০ শতাংশ শ্রমিকদের নির্দিষ্ট সময় শেষে দিতে হবে। আর ১০ শতাংশ শ্রমিকদের কল্যাণ তহবিলে ও বাকি ১০ শতাংশ সরকারের শ্রমিক কল্যাণ তহবিলে দেয়ার বিধান রয়েছে।
মন্ত্রণালয় সূত্র আরও জানায়, এই সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারির প্রক্রিয়া গত দুইবছর ধরে চলমান থাকলেও তা মালিকপক্ষের চাপে এতোদিন আনুষ্ঠানিকভাবে দেয়া সম্ভব হয়নি। তবে শেষ পর্যন্ত সরকারের উচ্চ পর্যায়ের চাপে এবং জিএসপি পুনরুদ্ধারের ‘শ্রম আইন বাস্তবায়ন হচ্ছে না’ এমন মন্তব্য যাতে কেউ না করতে পারে সে জন্যই এই পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে।
উল্লেখ্য, ২০১৩ সালের ২৪ এপ্রিল রানা প্লাজা ধ্বসে ১ হাজার ১’শর বেশী শ্রমিক নিহত হওয়ার পর আন্তর্জাতিক বিশ্বে বাংলাদেশের শ্রম পরিবেশ নিয়ে নানা সমালোচনা শুরু হয়। যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বাংলাদেশের জন্য স্থগিত হয়ে যায়
জিএসপি সুবিধা। জিএসপি পুনরুদ্ধারে কিছু শর্ত আরোপ করে যুক্তরাষ্ট্র সরকার। তার মধ্যে অন্যতম একটি ছিলো শ্রম আইন বাস্তবায়ন। আর তাই গত দুই বছর যাবৎ শ্রম মন্ত্রণালয় ও সরকারের সংশ্লিষ্ট মহল শ্রম আইন- ২০০৬ বাস্তবায়নে নানা পদক্ষেপ নিয়ে যাচ্ছে।
এএইচ





