বর্তমানে বিশ্ব বাজারে ৩ নম্বরে থাকা বাংলাদেশের জাহাজ শিল্প ধ্বংসের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। গত কয়েক বছর জাহাজ রফতানি ভালো অবস্থায় থাকলেও রাজনৈতিক অস্থিরতা ও অর্থনৈতিক মন্দায় জাহাজ রফতানি আশঙ্কাজনক হারে কমে গেছে।
ইপিবির সূত্র মতে, জাহাজ শিল্পে চলতি অর্থবছরের প্রথম ৭ মাসে (জুলাই থেকে জানুয়ারি) লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করতে পারেনি। ৩ দশমিক ৫০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার টার্গেট থাকলেও রপ্তানি হয়েছে শূন্য দশমিক ৬ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের।
উল্লেখ্য, ২০০৮ সালে স্টেলা মেরিস নামে জার্মানিতে একটি জাহাজ রফতানি করা হয়। এর মধ্য দিয়ে জাহাজ রফতানি শিল্পে বিশ্ববাজারে প্রবেশ ঘটে বাংলাদেশের। নতুন শিল্প হিসেবে বাংলাদেশকে আশার আলো দেখায়। প্রতিবছর সরকার এ খাত থেকে আসতে থাকে হাজার কোটি টাকার রাজস্ব।
জানা গেছে, এই যাবত ২০০৮ থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত দুটি কোম্পানি (ওয়েস্টার্ন মেরিন ১২টি ও আনন্দ শিপইয়ার্ড ১২টি) মোট ২৪টি জাহাজ রফতানি করেছে। ওই সময়ে প্রায় ৫শ কোটি টাকা আয় হয় তাদের। ইপিবির এক কর্মকর্তা জানান, বর্তমানে রপ্তানি ৩০ শতাংশে নেমে আসায় রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানটি দেশীয় জাহাজ, ফেরি, ড্রেজার ইত্যাদি নির্মাণ করেই টিকে থাকতে চাচ্ছে। এখন পর্যন্ত জার্মানি, নেদারল্যান্ডস, মোজাম্বিক, পাকিস্তান ও সুইডেনে জাহাজ রফতানি করা হয়েছে।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী দেশ ভারত এবং চীনে এ শিল্পে সরকারি আর্থিক সহায়তার পরিমাণ ৩০ শতাংশ। বাংলাদেশে এ খাতে সরকারি কোনও পৃষ্ঠপোষকতা ছিল না। বর্তমানে মাত্র ৫ শতাংশ সুবিধা দেওয়া হচ্ছে। এই শিল্পে বিপুল অর্থের দরকার হলেও সরকারি-বেসরকারি অধিকাংশ ব্যাংক ঋণ দিতে আগ্রহ দেখাচ্ছে না। কোনও-কোনও ব্যাংক ঋণ দিলেও সুদের হার অত্যন্ত চড়া।
ইপিবি সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, অর্থনৈতিক মন্দার কারণে রপ্তানি কমেছে। কয়েকটি দেশে জাহাজ রফতানি করলেও বর্তমানে অর্থনৈতিক অবস্থায় রফতানি বাড়ানো সম্ভব নয়। সরকারি সহায়তা ৫ শতাংশ থাকায় নতুন বাজার খোঁজাও সম্ভব হচ্ছে না।
[b]ঢাকা, ৫ মার্চ (টাইমনিউজবিডি.কম) // এমআর[/b]