দেশের সর্ববৃহৎ ভোগ্য পণ্যের বাজার খাতুনগঞ্জে শনিবার দেখা গেছে, কর্ম ব্যস্ত এ বাজারে এখন বিরাজ করছে কবরের নিরবতা। নেই শ্রমিকদের হাঁক-ডাক। ক্রেতা-বিক্রেতার দেখা মেলাও ভার। কেউ দোকান খুলে অলস সময় পার করছেন। কেউ আবার দোকানই বন্ধ রেখেছেন। রাস্তার পাশে ক্যারম কিংবা লুডু খেলে সময় পার করছেন ঠ্যালাওয়ালা ও পণ্য খালাসে নিয়োজিত শ্রমিকরা।
প্রতিদিন যেখানে শত শত ট্রাকে পণ্য উঠানো নামানো হতো সেখানে এখন কয়েকটি ট্রাকের দেখা মেলা ভার। এক কথায় অচল খাতুনগঞ্জ।
ব্যবসায়ীদের মতে, বিএনপি-জামায়াত জোটের ৩৩ দিনের অবরোধ-হরতালে ভোগ্য পণ্যের এ বাজারে ক্ষতির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৩৩ হাজার কোটি টাকারও বেশি। তবে কাঁচা পণ্য নষ্ট হয়ে এ ক্ষতি আরও বাড়বে বলে জানালেন ব্যবসায়ীরা।
রাজনৈতিক দ্বন্দ্বের যাঁতাকলে ব্যবসায়ীরা পিষ্ট হচ্ছে বলে মন্তব্য করেন দেশের এ শীর্ষ আমদানিকারক।
খাতুনগঞ্জ ট্রেড অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজ অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক ছৈয়দ ছগীর আহমদ বলেন,‘ প্রতিদিনই ব্যবসায়ীরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। ব্যাংকের টাকায় ব্যবসায়ীরা ব্যবসা করেন। রাজনৈতিক অস্থিরতায় এখন ২০ শতাংশ ব্যবসাও হচ্ছে না। এভাবে কিছুদিন গেলে দেউলিয়া হয়ে যেতে হবে। ’
ব্যবসায়ীরা জানান, যেখানে খাতুনগঞ্জ থেকে ইশ্বরদীতে একটি পণ্য বোঝাই ট্রাকের ভাড়া ছিল ১৮ হাজার টাকা, এখন সে ভাড়া দাঁড়িয়েছে ৪০ হাজার টাকা। বেনাপোল, সোনামসজিদসহ বিভিন্ন স্থল বন্দর থেকে খাতুনগঞ্জে ভাড়া ছিল ২৫ থেকে ৩০ হাজার টাকার মধ্যে। এখন সে ভাড়া দাঁড়িয়েছে ৭০ থেকে ৮০ হাজার টাকা। জামালপুর, ময়মনসিংহে এক ট্রাক পণ্য যেত ১৫-২০ হাজার টাকায়, এখন সেটা দাঁড়িয়েছে প্রায় ৩০ হাজার টাকায়।
খাতুনগঞ্জ ট্রেড অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজ অ্যাসোসিয়েশনের সাংগঠনিক সম্পাদক মুহাম্মদ জামাল হোসেন বলেন, খাতুনগঞ্জে দেড় থেকে দুই হাজার ব্যবসায়ী। এদের ঘিরে কয়েক হাজার শ্রমিক কাজ করছে। হরতাল-অবরোধে একদিকে ব্যবসা হচ্ছে না, অন্যদিকে দোকান কর্মচারীদের বেতন, প্রতিষ্ঠানের বিদ্যুৎ বিল, কর আদায় ও ব্যাংক ঋণের সুদে জর্জরিত ব্যবসায়ীরা।
হরতাল-অবরোধে পণ্য উঠানো নামানোর কাজ না থাকায় কর্মহীন হয়ে পড়েছেন খাতুনগঞ্জের কয়েক হাজার শ্রমিক। এদের একজন আবুল কালাম।
বললেন, যেখানে প্রতিদিন ৭-৮শ’ টাকা আয় হতো এখন কয়েকশ’ টাকাও হচ্ছে না। পেটতো আর বন্ধ রাখতে পারি না। ঋণ করে আর কতদিন চলবো। জানুয়ারি মাসের বাসা ভাড়াও দিতে পারি নাই। পরিবার নিয়ে বড় কষ্টে আছি। তারা ক্ষমতার জন্য কামড়া কামড়ি করবে, কষ্ট পেতে হবে আমাদের। আমাদের কথা কেউ ভাবে না।
এএইচ





