অর্থনৈতিক উন্নয়নে বিদেশি বিনিয়োগ জরুরি বলে মনে করেন প্রধানমন্ত্রীর অর্থনীতি বিষয়ক উপদেষ্টা ড. মশিউর রহমান। তিনি বলেন, ‘অর্থনীতিকে শক্তিশালী করতে নিজেদের শিল্প খাতগুলোর উন্নয়ন করতে হবে। এ জন্য ভারী ও বড় শিল্পের পাশাপাশি মাঝারি ও ক্ষুদ্র শিল্পের ওপর গুরুত্ব দিতে হবে।’
সোমাবার ডেইলি স্টার ভবনের মিলনায়তনে ইন্টারন্যাশনাল বিজনেস ফোরাম অব বাংলাদেশ (আইবিএফবি) আয়োজিত এক সেমিনারে ড. মশিউর রহমান বলেন, ‘জিএসপি নিয়ে অনেক কথা হচ্ছে। অথচ বিদেশি আয়ের মাত্র এক শতাংশ সুবিধা এসেছে জিএসপি থেকে।’
আইবিএফবির চেয়ারপারসন ড. হাফিজুর রহমান খানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ওই অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উস্থাপন করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. ইসমাইল হোসেন। তিনি তার প্রবন্ধে বিশ্বের অর্থনীতির গতিধারার সঙ্গে বাংলাদেশের অর্থনীতির একটি তুলনামূলক চিত্র তুলে ধরেন।
ওই প্রবন্ধে বাংলাদেশের সঙ্গে প্রতিবেশি দেশ ভারতের সীমান্তবর্তী প্রদেশগুলোর আর্থিক অবস্থা, বাংলাদেশের বিনিয়োগের সম্ভাবনা, রপ্তানি বাড়ানো এবং আমদানি কমিয়ে কীভাবে অর্থনৈতিক বৈষম্যের অবসান ঘটানো সম্ভব তার ওপর আলোচনা করেন।
মশিউর রহমান বলেন, ‘বাংলাদেশের অর্থনীতি বিদেশের ওপর নির্ভরশীলতা অনেকখানি কাটিয়ে উঠেছে। তবে শক্তিশালী হতে হলে রপ্তানি আরো বাড়াতে হবে। সেই সঙ্গে নতুন নতুন শিল্প স্থাপন ও বিদেশে বাজার সৃষ্টি করা দরকার।’
‘এখন রিজার্ভ ২০ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়েছে। বাড়ছে রেমিট্যান্স। এখন দরকার আরো নতুন শিল্পের প্রসার ঘটানো। এজন্য আইবিএফবি যে প্রতিবেদন তৈরি করেছে, তার আলোকে কী ধরনের পদক্ষেপ বাংলাদেশের অর্থনীতির প্রেক্ষাপটে গ্রহণ করা যায় তা নিয়ে চিন্তা-ভাবনা করা দরকার। সেই মতো সরকার কাজ করলে অর্থনীতির সূচকগুলো আরো ঊর্ধমুখী হবে।’
বিদেশি বিনিয়োগ বাড়ানোর কৌশল এবং খাতগুলো কী হতে পারে সে বিষয় নিয়েও চিন্তা-ভাবনা করতে বলেন তিনি।
উপস্থিত অতিথিদের মধ্যে থেকে বাংলাদেশে ব্যাংকের কনসালট্যান্ট সুভাষ সীনহা তার মতামত তুলে ধরতে গিয়ে বলেন, ‘বর্তমান সময়েও বাংলাদেশের অর্থনীতি বড় শিল্পের দিকে ঝুঁকছে। অথচ বাংলাদেশের অর্থনীতির মেরুদ- হচ্ছে মাঝারি ও ক্ষুদ্র শিল্প। কিন্তু এই শিল্প খাতগুলোকে ততটা গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে না বিভিন্ন বিজনেস ফোরাম থেকে। তবে সরকার অর্থনীতিকে আরো শক্তিশালী করতে ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পকে সামনের দিকে নিয়ে এসেছে। আইবিএফবির মতো সংস্থাগুলোর উচিত দেশের এই শিল্প খাতগুলোকে অগ্রাধিকার দেওয়া। বিশ্ববাজারে যাতে বাংলাদেশের ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প আরো বেশি স্থান করে নিতে পারে সে জন্য কাজ করতে পারে আইবিএফবি।’
মুলত বাংলাদেশের বর্তমান অর্থনৈতিক অবস্থার চিত্র তুলে ধরে আইবিএফবি ভবিষ্যতে বাংলাদেশে বিনিয়োগ বাড়ানো এবং অর্থনীতির পরিধি বাড়ানোর বিষয়টি তাদের প্রবন্ধে তুলে ধরেছে।
এএইচ





