তুরস্কে সামরিক অভ্যুত্থানের চেষ্টাকে ব্যর্থ করে দেয়া হয়েছে। সরকার আবার পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ গ্রহণ করেছে। প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোগানের আহ্বানে সাড়া দিয়ে হাজার হাজার মানুষ রাস্তায় নেমে এসেছেন। সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, বিদ্রোহের অবসান ঘটেছে, সারা দেশে সরকারের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা হয়েছে।

শুক্রবার রাতে সামরিক বাহিনীর একটি অংশ দাবি করেছিল, তারা দেশের সব নিয়ন্ত্রণ গ্রহণ করেছে। তারা সারা দেশে সামরিক আইন কারফিউ জারি করেছে। ইস্তাম্বুলের আতাতুর্ক বিমানবন্দর বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। বিমানবন্দরের বাইরে সামরিক ট্যাংক মোতায়েন করা হয়েছে।

অভ্যুত্থানের সময় প্রেসিডেন্ট কৃষ্ণ সাগরীয় এলাকায় অবকাশ যাপন করছিলেন। তিনি অভ্যুত্থানের খবর পেয়েই দৃঢ়ভাবে তা প্রতিরোধের নির্দেশ দেন। তিনি রাজধানীতে ফিরে আসার উদ্যোগ নেন।

বিদ্রোহীরা পার্লামেন্ট ভবনের বাইরে গোলাবর্ষণও করে। তারা সেনাপ্রধান হুলসি আকারকে পণবন্দি করেছে বলে আনাদুলু এজেন্সি জানিয়েছে। রাজধানী আঙ্কারার আকাশে সামরিক বিমান উড়ার শব্দও শোনা গেছে।

তবে পুলিশ জানিয়েছে, যেসব সৈন্য সামরিক অভ্যুত্থানচেষ্টার সাথে জড়িত ছিল তাদের বেশির ভাগকে আটক করা হয়েছে।

তুরস্কের প্রধানমন্ত্রী বিনালি ইয়িলদিরিম শনিবার ভেঅরে জানান, তুরস্ক সেনাবাহিনীর একটি গ্রুপ দৃশ্যত ক্যু করার চেষ্টা করেছিল। তবে গণতন্ত্রকে বাধাগ্রস্ত করার কোনো চেষ্টা বরদাস্ত করা হবে না। তিনি তাদের দমন করা হয়েছে বলে জানান। অবশ্য বিস্তারিত বিবরণ দেননি বলেও জানান দেশটির প্রধানমন্ত্রী।

এদিকে, বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবরে দেখা যায় বিদ্রোহী সেনাদের কাউকে কাউকে গ্রেফতার করে নিয়ে যাচ্ছে পুলিশ।

সেনাবাহিনীর একটি অংশের বিদ্রোহ ঘোষণার পর পরই এরদোগানের আহ্বানে সাড়া দিয়ে সাধারণ মানুষ রাস্তায় নেমে আসেন। ফলে ষড়যন্ত্রকারীদের মনোবল ভেঙে যায়। অনেক স্থানে তারা পুলিশের কাছে অস্ত্র সমর্পণ করে। সাধারণ মানুষের অনেকে সামরিক যানের ওপর বসে এরদোগানের প্রতি সমর্থন প্রকাশ করেন।

এদিকে, সরকারি সূত্রের বরাত দিয়ে আলজাজিরা জানায়, অভুত্থান ব্যর্থ করে দেয়ার দাবি করা হলেও এখনো রাজধানী আঙ্কারা ও ইস্তাম্বুল শহরের কেন্দ্রস্থল থেকে বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যাচ্ছে।

এরইমধ্যে আজ (শনিবার) সকালে দেশটির প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোগান ইস্তাম্বুলের প্রধান বিমানবন্দরে এসে পৌঁছান। এ সময় তাকে তার সমর্থক বেষ্টিত অবস্থায় দেখা যায়। সেনাবাহিনীর একটি অংশের ক্যু ঘোষণার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই এরদোগানকে বিমানবন্দরে এভাবে হাজির হতে দেখা যায়।

টেলিভিশন চ্যানেল এনটিভিকে তুরস্কের প্রধানমন্ত্রী বিনালি ইদ্রিমের দেয়া এক সাক্ষাতকারের পরই এরদোগানকে ইস্তাম্বুল আসতে দেখা গেল। প্রধানমন্ত্রী তার ওই সাক্ষাতকারে দাবি করেন, তুরস্কের পরিস্থিতি এখন অনেকটাই নিয়ন্ত্রনে।

এদিকে, এক সংবাদ সম্মেলনে প্রেসিডেন্ট এরদোগান বলেন, তাকে ক্ষমতা থেকে হটানোর এই প্রচেষ্টা হীন ষড়যন্ত্র ও বিশ্বাসঘাতকতা ছাড়া আর কিছুই নয়। এই চক্রান্তের সাথে যারা জড়িত তাদেরকে এর জন্য চড়া মূল্য দিতে হবে বলেও হুসিয়ার করে দেন এরদোগান।

উপকূলীয় শহর মারমারিসে অবকাশ যাপন থেকে ইস্তম্বুলে ফিরে এসে এরদোগান এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেন। তিনি আরও বলেন, তিনি তার জনগণের সাথেই থাকবেন, কোথাও যাবেন না।

এরদোগান সাংবাদিকদের আরও জানান, তিনি অবকাশে যাবার পর পরই শুনতে পেয়েছিলেন তিনি যেসব জায়গায় থাকতেন সেই জায়গাগুলোতে বোমা মারা হয়েছে। বিদ্রোহীরা হয়তো ভেবেছিল তিনি তখনও ওই জায়গাগুলোর কোনটিতে থাকতে পারেন।

কেবি