মধ্যপ্রাচ্যের ক্যান্সার খ্যাত ইসরায়েলি হায়েনাদের বর্বরতা যেন থামছেই না। একের পর এক নৃশংস হত্যাকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছে নিরস্ত্র ফিলিস্তিদের ওপর। বোমার আঘাতে ক্ষতবিক্ষত ফিলিস্তিনিদের এখন আগুনে পুড়িয়ে হত্যায় মেতেছে বসতি স্থাপনকারী ইসরায়েলিরা।

গত শুক্রবার (৩১ জুলাই) ভোরে ইসরায়েল অধিকৃত পশ্চিম তীরের নাবলুসের কাছে দোওমা গ্রামে আঠারো মাসের ফিলিস্তিনি শিশু আলীকে জীবন্ত পুড়িয়ে হত্যা করে একদল ইসরায়েলি।

শিশুপুত্র আলীর পদাঙ্ক অনুসরণ করে পরপারে পাড়ি জমালেন ওই ঘটনার দগ্ধ আলী সাদ দাওয়াবশেহ। শনিবার ভোরে শরোকা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু বরণ করেন ৩২ বছর বসয়ী দাওয়াবশেহ।

চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, ইসরায়েলিদের দেয়া আগুনে পুড়ে শিশুপুত্র আলী মারা গেলেও দাওয়াবশেহ গুরুতর আহত হয়েছিলেন। তার শরীরের আশি শতাংশ পুড়ে যায়। ঘটনার পর থেকেই তাকে শরোকা হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছিল।

দাওয়াবশেহের স্ত্রী রিহাম এবং তাদের চার বছরের শিশুপুত্র আহমাদের অবস্থা এখনো মুমূর্ষু। তাদেরকে তেল হাশোমির হাসপাতালে তাদেরকে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন নিহত দাওয়াবশেহের ভাই।

ইসরায়েলি পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার (৩১ জুলাই) ভোরে দোওমা গ্রামের আলী সাদ দাওয়াবশেহের বাড়িতে হামলা চালায় ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীরা। ওই সময় আলী সাদের পরিবারের সবাই ঘুমিয়ে ছিল।

হামলাকারীরা বাড়িতে অগ্নিসংযোগ করে। আলী সাদ তার স্ত্রী ও চার বছরের এক ছেলেকে নিয়ে বেরিয়ে আসতে পারলেও ১৮ মাস শিশুপুত্র আগুনে পুড়ে মারা যায়। বাড়িটির কাছাকাছি একটি দেয়ালে হিব্রুতে ‘প্রতিশোধ’ শব্দটি লিখে রেখে যায়। আগুনে অপর একটি বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বাড়িটি দাউ দাউ করে জ্বলছিল। আলী সাদ স্ত্রী ও এক ছেলেকে উদ্ধার করতে পারলেও শিশুটিকে উদ্ধার করতে পারেননি। ওই ঘটনায় আলী সাদ, তার স্ত্রী ও এক ছেলে গুরুতর আহত হন।

ইসরায়েলি পুলিশের মুখপাত্র লুমা সামরি বলেন, জাতীয়তাবাদীরা এই হামলা চালিয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) এক বিবৃতিতে জানায়, প্রাথমিক তদন্তে ধারণা করা হয়, ভোরের দিকে হামলা চালানো হয়। বাড়িতে অগ্নিসংযোগ করা হয় এবং হিব্রুতে দেয়ালে লিখে হামলাকারীরা পালিয়ে যায়। হামলায় সন্দেহভাজনদের ধরতে এই মুহূর্তে অভিযান চালাচ্ছে আইডিএফ।

ফিলিস্তিনের প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাসের মুখপাত্র নাবিল আবু বলেন, ইসরায়েলকেই এই ঘটনার পূর্ণ দায় নিতে হবে। তারাই অবৈধ বসতি স্থাপনকারীদের সব কাজে সমর্থন করে আসছে। এই ঘটনায় কোনো প্রতিবাদ না জানানোয় আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সমালোচনা করেন নাবিল আবু।

জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৫ সালের শুরু থেকে বর্তমান সময় পর্যন্ত ইসরাইল অধিকৃত পশ্চিম তীরে অবৈধ বসতি স্থাপনকারীদের ১২০টি হামলার ঘটনা ঘটেছে।

ইসরায়েলি মানবাধিকার সংস্থা ইয়েশ দিনের এক সাম্প্রতিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইসরায়েলি হামলায় ফিলিস্তিনিদের অভিযোগের ৯২ দশমিক ৬ শতাংশের বেশি ক্ষেত্রে ইসরায়েলি পুলিশ কোনো পদক্ষেপ নেয় না।

এআর