জন্মের সময় থেকেই পা ছিল না মায়া মেরহির। পায়ের জায়গায় পুরনো টিউব আর টিনের কৌটা লাগিয়ে সিরিয়ার উত্তরের একটি শরণার্থী শিবিরে ঘুরে বেড়াতো সে।

সামাজিক মাধ্যমে ছোট্ট মেরহির ছবি ভাইরাল হয়ে পড়ে। মেহরির চিকিৎসায় বিভিন্ন মহল আগ্রহ দেখালে তাকে গত সপ্তাহে প্লেনে করে তুরস্কে নিয়ে যাওয়া হয়।

শুক্রবার বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, বিশেষভাবে তৈরি নকল পা দেয়া হয়েছে মেরহিকে। এখন ছোট ছোট পা ফেলে ইস্তাম্বুলে হাঁটছে সে।

তার বাবা মোহাম্মদ মেরহিও তার মেয়ের মতো একই জন্মগত অসুখে ভুগছেন। সিরিয়ার আলেপ্পোতে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর তিনি তার স্ত্রী ও ছয় সন্তান নিয়ে সেখান থেকে পালিয়ে এসে বিদ্রোহী নিয়ন্ত্রিত ইদলিব অঞ্চলে আশ্রয় নেন।

তিনি বলেন, ‘অনেক কষ্ট করতে হয়েছে আমাদের, বিশেষ করে যেখানে থাকতাম সেখান থেকে তাঁবুতে আসা... পুরো অবস্থাটাই খুব কঠিন ছিল।’

মেরহি হাঁটতে পারত না, একারনে মাটি থেকে তাকে সুরক্ষা দিতে টিউব আর টিন দিয়ে নকল পা তৈরি করে দেন তার বাবা।

ডাক্তাররা আশা করছেন, তিন মাসের মধ্যে মেরহি তার নতুন কৃত্রিম পা লাগিয়ে সম্পূর্ণ স্বাভাবিকভাবে হাঁটতে পারবে। তারা আরও বলেন, তার বাবার স্থির সংকল্পের কারণে তাদের কাজ আরও সহজ হয়ে গিয়েছে।

‘তিনি এই বাচ্চাটাকে হাঁটানোর জন্য সব কিছু করেছেন এবং আল্লাহ তাদেরকে সাহায্য করুন’ বলেন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক মেহমেত জাকি কুলচু। ‘সাধারণত কেউ বিশ্বাস করত না যে, কাজ চালানোর জন্য তৈরি ওই নকল পা লাগিয়ে হাঁটা সম্ভব’ যোগ করেন তিনি।

সিরিয়ার যুদ্ধে এখন পর্যন্ত ঘর হারিয়েছে এক কোটিরও বেশি মানুষ। এদের অর্ধেক এখনও সিরিয়ায় রয়েছে এবং বাকি অর্ধেক পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে শরণার্থী হিসেবে আছে। তুরস্কে আশ্রয় নিয়েছে ৩৫ লাখ মানুষ।

জেড