মিশরের ক্ষমতাচ্যুত প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ মুরসিকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে দেশটির একটি আদালত। গুপ্তচরবৃত্তি এবং কারাভঙ্গ করে আসামিদের বের করে আনতে সহযোগিতার অভিযোগে শনিবার তাকে এ সাজা দেয়া হয়। খবর এএফপি’র।

মুরসি ছাড়া এ মামলায় গাজার ইসলামপন্থী দল হামাস এবং লেবাননের শিয়া সংগঠন হেজবুল্লাহর আধা ডজন নেতাও আসামি।

মিশরে মুসলিম ব্রাদারহুড সমর্থিত দল ফ্রিডম অ্যান্ড জাস্টিস পার্টির এ নেতাকে ২০১৩ সালের জুলাইয়ে ক্ষমতাচ্যুত করে সেনাবাহিনী। এর পর থেকে মিশর শাসন করছেন সেনাশাসক আবদেল ফাত্তাহ আল-সিসি।

মুরসির পতনের পর থেকে মুসলিম ব্রাদারহুডের নেতাকর্মীদের ওপর ব্যাপক নিপীড়ন চালাচ্ছে স্বৈরশাসক সিসির সরকার।

সেনাবাহিনীর ক্ষমতা দখলের পর থেকে শত শত গণতন্ত্রকামীকে হত্যা ও হাজার হাজার নেতাকর্মীকে কারাবন্দী করার পর এখন প্রহসনের বিচারের মাধ্যমে মৃত্যদণ্ড ও দীর্ঘমেয়াদী কারাদণ্ড দেয়া হচ্ছে।

আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠনগুলোর অভিযোগ, প্রেসিডেন্ট সিসি আদালতকে নিপীড়নের মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করছেন।

২০১২ সালের পতিত স্বৈরশাসক হোসনি মুবারকের বিরুদ্ধে বিপ্লব চলাকালে সহিংতার অভিযোগে গত মাসে মুরসিকে ২০ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছে মিশরের একটি আদালত অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যানশাল এই রায়কে ‘প্রহসনের বিচার’ বলে নিন্দা জানিয়েছে।

মুরসির বিরুদ্ধে দায়ের কারা আরো দুটি মামলায় শনিবার রায় ঘোষণার কথা রয়েছে, যাতে তার মৃত্যুদণ্ড হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

এর একটি হচ্ছে বিচার বিভাগকে তাচ্ছিল্য করা এবং অপরটি প্রেসিডেন্ট থাকাকালে কাতারের পক্ষে ‘গুপ্তচরবৃত্তি’।

মিশরের ইতিতাসে মুরসি ছিলেন প্রথম গণতান্ত্রিক প্রেসিডেন্ট। শুধু তাই নয়, হোসনি মোবারকের পতনে পর সিসির ক্ষমতা দখলের আগ পর্যন্ত মিশরে যতগুলো নির্বাচন হয়েছে তার প্রতিটিতে জয়লাভ করেছে মুসলিম ব্রাদারহুড।

অথচ সিসি এই দলটিকে উৎখার করার ঘোষণা দিয়েছেন এবং একে সন্ত্রাসী সংগঠনের তালিকাভুক্ত করেছেন।

এআর