ভারতের প্রকৌশলীরা হিমালয় অঞ্চলে বিশ্বের সবচেয়ে উঁচু রেলসেতু নির্মাণ করার কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। ২০১৬ সালের মধ্যে এ সেতু নির্মাণ শেষ হবে এবং এটি আইফেল টাওয়ারের চেয়েও ৩৫ মিটার বেশি উঁচু হবে।
ধনুক আকৃতির সেতুটি চেনাব নদীর উপর নির্মিত হবে এবং এর মাধ্যমে ভারত নিয়ন্ত্রিত উত্তরাঞ্চলীয় জম্মু ও কাশ্মিরের অপরূপ প্রাকৃতিক দৃশ্য সমৃদ্ধ পার্বত্য এলাকার সঙ্গে সংযোগ স্থাপন করা হবে। নির্মাণ কাজ শেষ হওয়ার পর সেতুটির উচ্চতা হবে ৩৫৯ মিটার (১১৭৭ ফুট)। চীনের গুইঝাও প্রদেশের বেইপানজিয়াং নদীর সেতুটিকে বর্তমানে বিশ্বে সবচেয়ে উঁচু রেলসেতু হিসেবে গণ্য করা হয় এবং এটির উচ্চতা ২৭৫ মিটার।
ভারতীয় রেলওয়ের একজন পদস্থ কর্মকর্তা বলেছেন, ২০১৬ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে এ সেতু নির্মাণের কাজ শেষ হবে বলে আশা করা হচ্ছে। তিনি জানান, প্রকৌশলগত দিক থেকে এটি হবে অনবদ্য একটি স্থাপনা। ভূমিকম্প এবং ঝড়ো বাতাস সহ্য করার ক্ষমতা সেতুটির থাকবে বলেও জানান তিনি।
২০০২ সালে রেলসেতু নির্মাণের কাজ শুরু করা হলেও নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ এবং সেতু এলাকার ঝড়ো বাতাসের কথা বিবেচনা করে ২০০৮ সালে তা বন্ধ করে দেয়া হয়। অবশ্য তার দু’বছর পর আবার নির্মাণ কাজে ঝাঁপিয়ে পড়েন ভারতীয় প্রকৌশলীরা। ভারতের রাষ্ট্রীয় সংস্থা কোনকান রেলওয়ে কর্পোরেশন এ সেতু নির্মাণ প্রকল্পে কাজ করছে এবং এ প্রকল্পের প্রাক্কলিত ব্যয় ধরা হয়েছে ৯ কোটি ২০ লাখ ডলার।
এ সেতুর মাধ্যমে জম্মুর সঙ্গে বারামুলার সংযোগ ঘটবে এবং এ পথে ভ্রমণে বর্তমানের চেয়ে অর্ধেক সময় অর্থাৎ ছয় ঘণ্টা ব্যয় হবে।
১,৩১৫ মিটার দীর্ঘ রেলসেতুটি নির্মাণে ২,৫০০ টন ইস্পাত ব্যবহার করা হবে। দুর্গম ভূ-প্রকৃতির কারণে কিছু কিছু নির্মাণ সামগ্রী হেলিকপ্টারে করে নেয়া হচ্ছে।
চেনাব নদীটির গতি প্রবাহে কোনো বাঁধা সৃষ্টি না করে রেলসেতুটি নির্মাণ করা সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠেছে বলে ভারতীয় রেল কর্মকর্তারা জানান। সূত্র: আইআরআইবি
ঢাকা, ১১ জুলাই (টাইমনিউজবিডি.কম) //এমএ