মিয়ানমারের বিরুদ্ধে নতুন নিষেধাজ্ঞা জারির ঘোষণা দিয়েছে ব্রিটেন। লন্ডনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, তারা মিয়ানমারের সামরিক সরকারের গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক সহযোগী যারা অস্ত্র ও আর্থিক সহযোগিতা করছে তাদের নিষেধাজ্ঞার আওতায় আনা হচ্ছে।
ব্রিটিশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, ব্রিটেনে থাকা মিয়ানমারের হতু গ্রুপ অব কোম্পানিজ ও প্রতিষ্ঠাতা তায় জায়ের সম্পদ জব্দ করার উদ্যোগ নেয়া হবে। একইসাথে অভিযুক্ত এই ব্যবসায়ী ব্রিটেনেও প্রবেশাধিকার পাবেন না।
কারণ সেনাবাহিনীর হয়ে অস্ত্র কেনায় জড়িত এই ধনকুবের। ২০১৭ সালে রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে পরিচালিত শুদ্ধি অভিযানেও হতু ভূমিকা রাখেন বলে জানায় ব্রিটিশ মন্ত্রণালয়।
ফেব্রুয়ারিতে অভ্যুত্থানের মিয়ানমারের বিভিন্ন ব্যক্তিবর্গ ও সংস্থার বিরুদ্ধে এর আগে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে ব্রিটেন। এক বিবৃতিতে ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডমিনিক রাব বলেন, মিয়ানমার জান্তা দেশটির জনগণের বিরুদ্ধে নৃশংস হামলা বন্ধের কোনো ইঙ্গিত দেয়নি। আমাদের অংশীদারদের নিয়ে জান্তার আর্থিক ও অস্ত্র সরবরাহে বিধিনিষেধ জারি অব্যাহত রাখা হবে। শিশুসহ নিরপরাধ সাধারণ মানুষকে তারা যেন হত্যা করতে না পারে সেজন্য সামরিক জান্তাকে বিদেশে গচ্ছিত অর্থে প্রবেশাধিকার এবং অস্ত্র সরবরাহে নিয়ন্ত্রণ নিশ্চিত করা হবে।
২০২০ সালের জাতীয় নির্বাচনে মিয়ানমারের গণতন্ত্রপন্থী নেত্রী অং সান সু চির নেতৃত্বাধীন রাজনৈতিক দল ন্যাশনাল লিগ ফর ডেমোক্র্যাসি (এনএলডি) ভূমিধস জয় লাভের পর পার্লামেন্টে আসনবিন্যাসসংক্রান্ত সাংবিধানিক সঙ্কট দেখা দেয় দেশটিতে। মিয়ানমারের সংবিধান অনুযায়ী দেশটির কেন্দ্রীয় পার্লামেন্টের ২৫ শতাংশ আসন সামরিক বাহিনীর জন্য সংরক্ষিত।
এর জেরে নির্বাচনে কারচুপির অভিযোগ তোলে সামরিক বাহিনী, কিন্তু দেশটির নির্বাচন কমিশন সেই অভিযোগকে ‘ভিত্তিহীন’ বলে উল্লেখ করার পর চলতি বছর ১ ফেব্রুয়ারি অভ্যুত্থানের মাধ্যমে অং সন সু চিকে হটিয়ে জাতীয় ক্ষমতা দখল করে সেনাবাহিনী এবং এই অভ্যুত্থানে নেতৃত্ব দেন মিয়ানমারের সেনাপ্রধান মিন অং হ্লেইং। অং সান সু চি ও তার দল এনএলডির বিভিন্ন স্তরের নেতাকর্মীরা বর্তমানে গৃহবন্দী বা কারাবন্দী অবস্থায় আছেন। সামরিক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে ক্ষমতা দখলের পর থেকে দেশটিতে এখন পর্যন্ত কমপক্ষে ১০৪৫ জন নিহত হয়েছেন এবং ছয় হাজারেরও বেশি মানুষকে কারাগারে বন্দী করে রাখা হয়েছে।
এবিএস





