বৃহস্পতিবার পার্লামেন্টে পাস হওয়া প্রিভেনশন অব ইনসাল্টস টু ন্যাশনাল অনার (সংশোধনী) বিল-২০২৬ অনুযায়ী, জাতীয় গান বন্দে মাতরম–এর প্রতি ইচ্ছাকৃত অসম্মান বা বাধা সৃষ্টি অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে। বিলটিতে বন্দে মাতরম–কে জাতীয় সঙ্গীত জন গণ মন–এর সমান আইনগত মর্যাদা দেওয়া হয়েছে। এ অপরাধে সর্বোচ্চ তিন বছরের কারাদণ্ড, জরিমানা বা উভয় দণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে।
শুক্রবার প্রকাশিত এক বিবৃতিতে অল ইন্ডিয়া মুসলিম পার্সোনাল ল’ বোর্ড এ আইন নিয়ে ‘গভীর উদ্বেগ’ প্রকাশ করে। সংগঠনটি বলেছে, এটি দেশের সংবিধান, ধর্মনিরপেক্ষতা ও গণতান্ত্রিক চেতনার পরিপন্থী এবং নাগরিকদের ধর্মীয় স্বাধীনতার ওপর গুরুতর আঘাত।
একই ধরনের প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন জমিয়তে উলামায়ে হিন্দের সভাপতি আরশাদ মাদানি। তিনি বলেন, বিলটি সংবিধান ও ধর্মীয় স্বাধীনতার বিরুদ্ধে। এটি জনগণের প্রকৃত সমস্যা থেকে দৃষ্টি সরিয়ে নির্বাচনি রাজনীতি করার একটি প্রচেষ্টা।
অল ইন্ডিয়া মুসলিম পার্সোনাল ল’ বোর্ডের মুখপাত্র ড. এস. কিউ. আর. ইলিয়াস বলেন, বন্দে মাতরম–কে আইনের মাধ্যমে সব ধর্ম ও সম্প্রদায়ের মানুষের জন্য বাধ্যতামূলক করার যে কোনো চেষ্টা শুধু আপত্তিকরই নয়, বরং সংবিধানের মৌলিক নীতিরও পরিপন্থী।
তিনি বলেন, সংবিধান প্রণয়নের সময় গণপরিষদ দীর্ঘ আলোচনার পর বন্দে মাতরম–এর শুধু প্রথম দুটি স্তবক জাতীয় পর্যায়ে গ্রহণ করেছিল। কারণ, পরবর্তী অংশগুলোর ধর্মীয় তাৎপর্য দেশের ধর্মনিরপেক্ষ চরিত্রের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ বলে বিবেচিত হয়নি।
আরশাদ মাদানি বলেন, ‘যে কেউ বন্দে মাতরম গাইতে বা আবৃত্তি করতে পারেন, এতে আমাদের আপত্তি নেই। কিন্তু একজন মুসলমান শুধু আল্লাহরই ইবাদত করেন। বন্দে মাতরম–এর কিছু অংশ ইসলামী বিশ্বাসের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। তাই কোনো মুসলমানকে এটি গাইতে বা গ্রহণ করতে বাধ্য করা যেতে পারে না।’
এমএম