বিশ্বের শান্তিকামী কোটি কোটি মানুষের প্রার্থনাকে ব্যর্থ করে দিয়ে ফিলিস্তিনের অলৌকিক শিশুটি শেষ পর্যন্ত মারা গেছে। গত রোববার অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকার কেন্দ্রস্থলে দেইর আল-বালাহ্ শহরে ইহুদিবাদী ইসরাইলের বিমান হামলায় মর্মান্তিক ভাবে প্রাণ হারান আট মাসের গর্ভবতী মা ২৩ বছর বয়সী শায়মা আস –শেখ কানান। এ অবস্থায় দ্রুত জরুরি সিজারিয়ান অপারেশন করে তার গর্ভস্থ মেয়ে শিশুটির জীবন রক্ষা করেন চিকিৎসকদের দল। এ কথা জানিয়েছিলেন গাজার জরুরি বিভাগের মুখপাত্র আশরাফ আল-কুদরা।
শহীদ মায়ের নামে এ মেয়ের নাম রাখা হয়েছিল শায়মা। মায়ের পেটে নির্দিষ্ট মেয়াদ পূর্ণ হওয়ার আগেই জন্মগ্রহণকারী অপরিপক্ব শিশু শায়মাকে বাঁচিয়ে রাখার যথাসাধ্য চেষ্টা করেন ইহুদিবাদী আগ্রাসনে সব অবকাঠামো নাস্তানাবুদ হয়ে যাওয়া জনপদ, অবরুদ্ধ গাজার সাহসী চিকিৎসকরা। অপরিপক্ব শিশুকে স্বাভাবিক পরিস্থিতিতেই বাঁচিয়ে রাখতে ব্যাপক আয়োজনের দরকার পড়ে। ইহুদিবাদী আগ্রাসনে অবকাঠামো ধ্বংস প্রাপ্ত গাজায় সে ধরণের সহায়তা কতোটা জুটেছিল শায়মার বরাতে তা সহজেই অনুমান করা যায়। কিন্তু তারপরও হাল ছাড়েন নি চিকিৎসকদের দল। কিন্তু তিন দিনের মাথায় গতকাল মঙ্গলবার শেষ পর্যন্ত চিকিৎসকদের সব প্রচেষ্টা বিফলে যায় এবং মারা যায় শিশু শায়মা।
হামাসের সাহসী যোদ্ধাদের সঙ্গে পেরে উঠতে না পারলেও গাজাকে এক মৃত্যুপুরীতে পরিণত করেছে আমেরিকাসহ পশ্চিমা ও কতিপয় আরব দেশের সমর্থনে বেড়ে ওঠা দানব ইহুদিবাদী ইসরাইল। অত্যাধুনিক অস্ত্রে সজ্জিত ইহুদিবাদী ইসরাইল নির্বিচার হামলা বাড়ছে। যুদ্ধে সুবিধা করতে না পেরে নিরীহ ফিলিস্তিনিদের রক্তে হোলি খেলায় মেতে উঠেছে ইসরাইল।
চলতি মাসের ৮ তারিখ থেকে শুরু হওয়া ইহুদিবাদী আগ্রাসনের এ পর্যন্ত ১২৬২ ফিলিস্তিনি নিহত এবং হাজার হাজার আহত হয়েছে। হতাহতের এ সংখ্যা বাড়ছে প্রতিদিন। হতাহতের এ তালিকার শীর্ষে রয়েছে হতভাগ্য ফিলিস্তিনি শিশুর দল। সূত্র: আইআরআইবি।
ঢাকা, ৩০ জুলাই, টাইমনিউজবিডি.কম, টিআই





