দেশব্যাপী রেল যোগাযোগ বৃদ্ধির জন্য বাংলাদশকে ১৫-২০ মিলিয়ন ডলার ঋণ প্রস্তাব দিয়েছে চীন।
রেলপথ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছরের জানুয়ারিতে প্রধানমন্ত্রীর কর্যালয়ে বাংলাদেশের সঙ্গে চায়না এ্যাম্বাসির উচ্চ পর্যায়ে বৈঠকে এ ঋণ প্রস্তাব দেওয়া হয়।
পরবর্তী মাসে রেলপথ মন্ত্রণালয়ের একজন অতিরিক্ত সচিবকে প্রধান করে তিন সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়। এই কমিটি প্রাথমিকভাবে ১০.৭৯ বিলিয়ন ডলারের আটটি প্রজেক্ট চিহ্নিত করে।
মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা বলেন, চায়না সরকারের সঙ্গে আলোচনার জন্য গত মাসে তারা অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগে এই প্রজেক্টের তালিকা পাঠিয়েছেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক অর্থ মন্ত্রণালয়ের একজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, মন্ত্রণালয় থেকে চায়না সরকারের কাছে চারটি প্রজেক্টের একটি তালিকা পাঠানো হয়েছে।
প্রজেক্টগুলো হলো- ২.১৮ বিলিয়ন ডলার ব্যয়ে পদ্মা ব্রিজ রেল সংযোগ (ঢাকা-মাওয়া-ভাঙ্গা), ১.১৪ বিলিয়ন ডলার ব্যয়ে পদ্মা ব্রিজ রেল সংযোগ (ভাঙ্গা-যশোর), ৮৯৭ মিলিয়ন ডলার ব্যয়ে ডাবল লাইন (জয়দেবপুর-ঈশ্বরদী) এবং ৩৩১ মিলিয়ন ডলার ব্যয়ে ডাবল ট্র্যাক লাইন (জয়দেবপুর-ময়মনসিংহ)।
ইতোমধ্যে রেলপথ মন্ত্রণালয় দুই পদ্মা সেতু রেল সংযোগ প্রকল্পের জন্য চায়না রেম গ্রুপ লিমিটেডের সঙ্গে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করেছে।
অর্থ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের সূত্র মতে, আমেরিকা এবং ইউরোপের দেশগুলোর কোষাগার বন্ডের বিপরীতে চায়না বহু ট্রিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করছে।
এই বন্ডগুলোর সুদের হার হ্রাস করতে চায়না উন্নয়নশীল দেশগুলোতে বিনিয়োগ করতে আগ্রহী। এর ফলে দেশটির লাভ হওয়ার সাথে সাথে ব্যবসা সম্প্রসারিত হবে।
সহজ ঋণের শর্তে বাংলাদেশ এই সুযোগ নিতে চায় বলে জানিয়েছে অর্থ মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা।
তিনি বলেন, রেল খাতে এই ঋণের শর্তাবলী সহজ করার জন্য মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে চায়না সরকারের সঙ্গে কথা হয়েছে।
বর্তামানে এই ঋণে পাঁচ বছর অন্তর্বর্তীসহ ১৫ বছরের জন্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এখানে ঋণের ক্ষেত্রে ২ শতাংশ, প্রতিশ্রুতি ফি'র জন্য ০.২ শতাংশ এবং ব্যবস্থাপনা ফি'র জন্য ০.২ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছে।
ঋণের ক্ষেত্রে চায়না সরকার ঠিকাদার ঠিক করবে এবং প্রজেক্টের সব উপাদান চায়না থেকে কিনতে হবে।
এপ্রিলের ১২ তারিখে বাংলাদেশে নিযুক্ত চায়না এ্যাম্বাসেডর মা মিনকিয়াং এর সাথে বৈঠকে এই ঋণের শর্তাদি সহজ করার জন্য পদক্ষেপ নিয়ে অনুরোধ জানান অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিত।
বৈঠক শেষে মন্ত্রী বলেন, চায়না এই ঋণে সুদের হার কমানোর কথা নিশ্চিত করেছে। কিন্তু এই হার এখন পর্যন্ত নির্ধারিত।
এ ব্যাপারে বিশ্বব্যাংকের ঢাকা অফিসের নেতৃত্বস্থানীয় অর্থনীতিবিদ জাহিদ হোসাইন বলেন, বাংলাদেশের অভ্যন্তরে পরিবেশ উপযোগী যাতায়াত ব্যবস্থার জন্য রেল যোগাযোগের উন্নয়ন গুরুত্বপূর্ণ। তাই কিছু নীতিতে চায়না থেকে এই অর্থকে স্বাগত জানাই।
এক্ষেত্রে শর্তাদি সাশ্রয়ী এবং স্বচ্ছ কি-না তা নিশ্চিত হওয়ার জন্যও পরামর্শ দেন তিনি। সূত্র: দি ডেইলি স্টার।
কেএইচ





