সিরিয়ার যুদ্ধবিধ্বস্ত শহর আলেপ্পোর সাত বছরের শিশু বানা আল-আবেদ। যে বয়সটা বাইরে ছুটে বেড়ানোর সময়, দুরন্তপনার সময়, সেই সময়টা তার কাটছে দুর্বিষহ যন্ত্রণায়। চোখের সামনে প্রতিনিয়ত দেখতে হচ্ছে ধ্বংসযজ্ঞ। যে বয়সে শিশুরা কাগজের উড়োজাহাজ বানিয়ে শূন্যে ছুড়ে মারে, সেখানে বানা সত্যিকারের বিমানের হামলার মুখে কুঁকড়ে থাকে।

তবে এই যন্ত্রণা সে ঘরে বসে টুইটারের মাধ্যমে বিশ্ববাসীর সামনে তুলে ধরেছে। এতে তাকে সাহায্য করেছে মা। এরই মধ্যে বানার ফলোয়ার ৩ লাখ ৩০ হাজার। টুইটারের মাধ্যমে বানার তুলে ধরা আলেপ্পোতে মৃত্যুর মিছিল, ভয়াবহতা, আহাজারি—সব যেন আবারও বিশ্ব বিবেককে নাড়া দেয়।

কিন্তু এ মৃত্যুপুরীতে দুঃসহ এই জীবন আর কত দিন? এ থেকে বাঁচতে অন্যদের মতো তার পরিবারটিও নিজ দেশ ছেড়ে তুরস্কে আশ্রয় নিয়েছে। আর এ খবর জানার পর বানার সঙ্গে দেখার করার আগ্রহ প্রকাশ করেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান। গতকাল প্রেসিডেন্ট ভবনে গেলে তিনি বানাকে জড়িয়ে ধরেন। এমনকি বানা ও তার ভাইকে কোলে তুলে নেন এরদোয়ান। এ সময় পাশে ছিলেন প্রেসিডেন্টের স্ত্রী এমিনি। গতকাল বুধবার এএফপির এক খবরে এ তথ্য জানানো হয়।

792d2180178ce3e180f320a0b3d5b41a-Erdoan-2

                                      বানা ও তার ভাইকে কোলে তুলে নেন ​ প্রেসিডেন্ট এরদোয়ান। পাশে স্ত্রী এমিনি এরদোয়ান। ছবি: রয়টার্স

সেখান থেকে ফিরে বানা টুইটার বার্তায় লিখে, ‘মি. এরদোয়ানের সঙ্গে দেখা করে খুব ভালো লাগছে।’

তুরস্ক ও রাশিয়ার মধ্যস্থতায় বিদ্রোহীরা যুদ্ধবিরতিতে রাজি হওয়ার পর আলেপ্পো থেকে হাজারো সাধারণ মানুষের সঙ্গে বানার পরিবারও সেখান থেকে বেরিয়ে আসার সুযোগ পায়। গত সোমবার বানা আলেপ্পো ছাড়ে। তখনই তুরস্কের কর্মকর্তারা আশ্বাস দেন যে বানা ও তার পরিবার চাইলে তুরস্কে আসতে পারে। তবে কবে তারা তুরস্কে গেছে, তা জানা যায়নি।

তুরস্কের প্রেসিডেন্ট কার্যালয় জানায়, বানা এরদোয়ানকে বলেছে, ‘আলেপ্পোর যুদ্ধের হাত থেকে শিশুদের রক্ষা করার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ। আমি আপনাকে অনেক ভালোবাসি।’

এ বিষয়ে এরদোয়ান নিজের টুইটারে লিখেছেন, ‘আজ প্রেসিডেন্ট প্যালেসে বানা ও তার পরিবারকে আমন্ত্রণ জানাতে পেরে ভালো লাগছে। তুরস্ক সব সময়ই সিরিয়াবাসীর পাশে আছে।’

30841a8658ad71e518b6fe98884ca9ec-Erdoan-3          এরদোয়ানের আমন্ত্রণে প্রেসিডেন্ট প্যালেসে বানার পরিবার। এক ফাঁকে প্রেসিডেন্ট ও প্রেসিডেন্টের স্ত্রীর সঙ্গে ছবি তোলেন তারা। ছবি: রয়টার্স

সিরিয়ায় যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে এখন পর্যন্ত তুরস্ক ২৭ লাখ সিরিয়ার নাগরিককে আশ্রয় দিয়েছে। প্রায় ছয় বছর ধরে চলা এ যুদ্ধে তিন লাখের বেশি মানুষ নিহত হয়েছে। এর মধ্যে অন্তত ১৫ হাজার শিশু রয়েছে।

আলেপ্পো ছাড়ার আগে বানা তার শেষ টুইটে এরদোয়ান ও তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মেভলুত কাভুসোগলুর প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেছিল, অস্ত্রবিরতিটা বারবার ভেঙে পড়ছে। আর যেন এমনটা না হয়।

কাভুসোগলু টুইটারে লিখেছেন, ‘আমরা আলেপ্পোর শিশুদের আশার প্রতীক বানাতে এবং তার পরিবারকে আমাদের দেশে নিয়ে আসতে পেরেছি। একটি শিশুর হাসির চেয়ে সুন্দর আর কী হতে পারে।’

জারিফ