বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বা হু-র এক রিপোর্টে ভারতের রাজধানী দিল্লিকে বিশ্বের সবচেয়ে দূষিত শহর বলে চিহ্নিত করা হলেও ভারতীয় কর্তৃপক্ষ তা মানতে অস্বীকার করেছে।
হু-র ওই রিপোর্টে বলা হয়েছে, বিশ্বের প্রায় ১৬০০ শহরের বাতাসের মান বিচার করে তারা দেখেছেন, দিল্লিতেই দূষণের মাত্রা সবচেয়ে বেশি।
পরিবেশবিদ অনুমিতা রায় চৌধুরী বলেন, "২০০৮ সাল থেকে বলা যেতে পারে পরিস্থিতির আবার অবনতি হতে শুরু করে, আর এখন তো আবার আমরা সেই প্রাক-সিএনজি দূষণের যুগেই ফিরে গেছি বলা যেতে পারে।"
এই রিপোর্টকে ভারত বিভ্রান্তিকর বলে বর্ণনা করলেও হু-র কর্মকর্তারা অবশ্য বিবিসিকে বলেছেন, দূষিত শহরের র্যা ঙ্কিং করা নয়, বরং দূষণের বিরুদ্ধে সচেতনতা তৈরি করাই ছিল তাদের লক্ষ্য।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার যে রিপোর্টকে ঘিরে এই বিতর্ক, তাতে সমীক্ষা চালানো হয়েছিল ৯১টি দেশের মোট ১৬০০ শহরে।
তাতে দেখা গেছে, বাতাসে ভাসমান আড়াই মাইক্রোমিটারের চেয়েও ছোট কণা – যাকে পিএম ২.৫ বলা হয় – দিল্লিতে তার গড় পরিমাণ সর্বাধিক, ১৫৩।
অথচ ধোঁয়াশার জন্য কুখ্যাত চীনের রাজধানী বেইজিংয়ে এই পরিমাণ মাত্র ৫৬, আর লন্ডনে এই পরিমাণ দিল্লির ১০ ভাগের এক ভাগ।
এই রিপোর্ট প্রকাশিত হওয়ার পরই ভারতের রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা সিস্টেম অব এয়ার কোয়ালিটি ওয়েদার ফোরকাস্টিং অ্যান্ড রিসার্চ – যারা দেশের বিভিন্ন শহরে বায়ুর মানের ওপর নজর রাখে – তারা দাবি করেছে তাদের হাতে যে তথ্য আছে তা হু-র বক্তব্যকে সমর্থন করে না, এবং এই রিপোর্ট পক্ষপাতদুষ্ট ও বিভ্রান্তিকর।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা অবশ্য তাদের অবস্থান স্পষ্ট করে জানিয়েছে, কোন শহরের দূষণ কোথাকার চেয়ে বেশি, সেটা জানানো মোটেই তাদের লক্ষ্য ছিল না।
জেনেভায় হু-র জনস্বাস্থ্য বিভাগের প্রধান কর্মকর্তা নাডা ওসেইরান বলেন, "হু বিভিন্ন শহরের বায়ু দূষণের মাত্রা নিয়ে এই তথ্য সংকলন করেছে সচেতনতা বাড়ানোর লক্ষ্যে – যাতে কর্তৃপক্ষ এর প্রতিকারে ব্যবস্থা নেন।"
তিনি আরও বলেন,"আমরা দূষণের মাত্রা নিয়ে শহরগুলোর কোনও র্যালঙ্কিংও করতে চাই না, তুলনাও করতে চাই না। তবে এটাও বলা দরকার, এর সব তথ্যই সংগৃহীত হয়েছে এসেছে বিভিন্ন দেশের সরকারি সূত্র থেকে, জাতীয় পর্যায়ে।"
কিন্তু দূষণের তালিকায় দিল্লির শীর্ষ স্থান নিয়ে যে বিতর্ক, সে ব্যাপারে এই শহরের পরিবেশবিদরা কী ভাবছেন?
দেশের শীর্ষস্থানীয় পরিবেশ গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর সায়েন্স অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টের অনুমিতা রায় চৌধুরী কিন্তু মানেন, মাত্র বছর কয়েক আগেও দিল্লির দূষণ পরিস্থিতিতে প্রভূত উন্নতি হয়েছিল।
তিনি বলছিলেন,"বছর দশেক আগে সিএনজি-নির্ভর গণপরিবহন ব্যবস্থা চালু করে, দূষণ সৃষ্টিকারী শিল্পগুলোকে শহরের বাইরে বের করে, কয়লাভিত্তিক তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলো বন্ধ করে বা পুরনো গাড়ি নিষিদ্ধ করে দূষণ প্রতিকারে বেশ সাফল্য মিলেছিল।"
কিন্তু রায় চৌধুরী হু-র রিপোর্টে এতটুকুও বিস্মিত নন, কারণ সেই সব উদ্যোগের সুফল এখন সব আবার ধীরে ধীরে চাপা পড়ে গেছে।
তিনি বলেন, ''২০০৮ সাল থেকে বলা যেতে পারে পরিস্থিতির আবার অবনতি হতে শুরু করে, আর এখন তো আবার আমরা সেই প্রাক-সিএনজি দূষণের যুগেই ফিরে গেছি বলা যেতে পারে।''
দিল্লি বিশ্বের সবচেয়ে বিশ্বের দূষিত শহর কি না, তা হয়তো এখনও তর্কসাপেক্ষ।
কিন্তু হু-র হিসেব যেহেতু বলছে বিশ্বের সবচেয়ে দূষিত ২০টি শহরের মধ্যে অন্তত ১৩টিই ভারতে – তাই র্যা ঙ্কিংয়ের বিতর্কে না-ঢুকেও বোঝাই যাচ্ছে এ দেশের ছোট বা বড় মেট্রো শহরগুলোতে দূষণের অবস্থা কতখানি ভয়াবহ। সূত্র: বিবিসি বাংলা
[b]ঢাকা, ০৮ মে (টাইমনিউজবিডি.কম) //এমএ
[/b]
বিশ্বের সবচেয়ে দূষিত শহর নয়াদিল্লি
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বা হু-র এক রিপোর্টে ভারতের রাজধানী দিল্লিকে বিশ্বের সবচেয়ে দূষিত শহর বলে চিহ্নিত করা হলেও ভারতীয় কর্তৃপক্ষ তা মানতে অস্বীকার করেছে।
ফান্ডিং বন্ধ দেশে সাপের বিষের প্রতিষেধক তৈরির ভবিষ্যত?
দেশে সাপের ছোবলে প্রতি বছর উল্লেখযোগ্য হারে মানুষ মারা যায়। এর প্রধান কারণ হলো- সাপে কাটার পর অনেকেই আগের ভুল ধারণা অনুযায়ী রোগীকে ওঝা বা ফকিরের কাছে নিয়ে যায় ঝাড়ফুঁকের। এতে অনেক সময় নষ্ট হয়, ততক্ষণে রোগীর বেঁচে থাকার আশা ফুরিয়ে যায়।
ডব্লিউএইচও’র পদ পেতে জালিয়াতি পুতুলের বিরুদ্ধে চার্জশিট অনুমোদন
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার আঞ্চলিক পরিচালক পদে নিয়োগ পেতে জীবনবৃত্তান্তে (সিভি) মিথ্যা তথ্য দেওয়ার অভিযোগে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মেয়ে সায়মা ওয়াজেদ পুতুলের বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিলের অনুমোদন দিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
মহামারির ধাক্কা কাটিয়ে বাড়ছে বিশ্বে গড় আয়ু
করোনাভাইরাস মহামারির সময় কমে যাওয়া মানুষের গড় আয়ু আবারও বাড়তে শুরু করেছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) সর্বশেষ হিসাবে, ২০২৩ সালে বিশ্বে মানুষের গড় আয়ু দাঁড়িয়েছে ৭৩ দশমিক ৩ বছর। যা ২০১৯ সালের মহামারিপূর্ব সময়ের ৭৩ দশমিক ৪ বছরের কাছাকাছি।
নিয়মিত রেড মিট খান!জেনে নিন কী হতে পারে?
যে খাদ্যাভ্যাসে নিয়মিত রেড মিট, সসেজ এবং অন্যান্য প্রক্রিয়াজাত মাংস থাকে, তার প্রভাব শুধু হৃদযন্ত্রের স্বাস্থ্য ও ওজনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ না-ও থাকতে পারে। গবেষণায় দেখা গেছে, বেশি পরিমাণে লাল ও প্রক্রিয়াজাত মাংস খাওয়ার সঙ্গে কোলোরেক্টাল ক্যান্সারের (যা কোলন বা মলদ্বারকে প্রভাবিত করে) ঝুঁকি বৃদ্ধির একটি সম্পর্ক রয়েছে।
বাংলাদেশে স্ট্রোক হার্ট অ্যাটাকসহ যেসব রোগে বাড়ছে অকালমৃত্যু
কয়েকদিন আগে চট্টগ্রাম কাস্টমস হাউজে দায়িত্ব পালন করছিলেন মুকসেমুল হাকিম। দুপুরে হঠাৎ শরীর খারাপ লাগলেও বিষয়টি গুরুতর বলে মনে হয়নি। ঘাড় ও হাত-পায়ে ব্যথা, বমিভাব আর মাথা ঝিমঝিম করছিল। রাতে বাসায় ফেরার পর অসুস্থতা বেড়ে গেলে হাসপাতালে নেওয়া হয় তাকে। কিন্তু চিকিৎসকদের চেষ্টা আর কাজে আসেনি। হৃদরোগ বা স্ট্রোকের মতো নীরব বিপদ যে এতটা কাছাকাছি ছিল, তা বুঝে ওঠার আগেই না ফেরার দেশে চলে যান ৪২ বছর বয়সী মুকসেমুল।
















