শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) ফরাসি সংবাদমাধ্যম লে মঁদের প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।
এর আগে বৃহস্পতিবার নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেন ম্যাক্রোঁ। সেখানে সাম্প্রতিক বিক্ষোভের সময় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থতা এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনার দুর্বলতা নিয়ে আলোচনা হয়।
গত ১৭ অক্টোবর ফ্রান্সের বিভিন্ন শহরে ব্যাপক বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়। জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি, শিক্ষা খাতে জনবলসংকট, স্কুলের অবকাঠামোর দুরবস্থা এবং সরকারি সেবার মান নিয়ে অসন্তোষ থেকে এ আন্দোলনের সূত্রপাত। পরে বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠন, শিক্ষার্থী ও সামাজিক আন্দোলনের কর্মীরাও এতে যোগ দেন।
ফরাসি কর্তৃপক্ষের হিসাব অনুযায়ী, ওই দিনের বিক্ষোভে দেশজুড়ে প্রায় পাঁচ লাখ ৫০ হাজার মানুষ অংশ নেন।
শান্তিপূর্ণ কর্মসূচির পাশাপাশি কয়েকটি শহরে সংঘর্ষ, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনাও ঘটে। এতে বিভিন্ন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ক্ষতিগ্রস্ত হয়। সরকারি স্থাপনাতেও হামলার খবর পাওয়া যায়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ মোতায়েন বাড়ানো হয়।
বিক্ষোভের সময় সংঘটিত সহিংসতার জন্য উগ্র বামপন্থী গোষ্ঠীগুলোকে দায়ী করেছেন ম্যাক্রোঁ। তবে আন্দোলনকারীদের বিভিন্ন সংগঠনের দাবি, শুধু আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মোতায়েন করে পরিস্থিতি মোকাবিলা না করে মানুষের অর্থনৈতিক ও সামাজিক সমস্যার সমাধানেও সরকারকে গুরুত্ব দিতে হবে।
এদিকে শনিবার (২৪ অক্টোবর) নতুন করে বিক্ষোভের আশঙ্কায় দেশজুড়ে প্রায় ৭০ হাজার পুলিশ ও নিরাপত্তাকর্মী মোতায়েনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। মার্সেই ও নিসসহ কয়েকটি শহরে বিক্ষোভ-সমাবেশ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। রাজধানী প্যারিসের কয়েকটি এলাকায় রাতের কারফিউয়ের মেয়াদও বাড়ানো হয়েছে।
ফ্রান্সের প্রধানমন্ত্রী সেবাস্তিয়াঁ লেকর্নু বলেছেন, জনশৃঙ্খলা পুনরুদ্ধারে সরকার দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। পরিস্থিতি বিবেচনায় নির্দিষ্ট এলাকা ও স্থানীয় পর্যায়ে কারফিউ আরোপ করা হচ্ছে।
দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, নিরাপত্তা বাহিনীর উপস্থিতি বাড়ানো হবে। ছুটিতে থাকা সদস্যদেরও দায়িত্বে ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। সম্ভাব্য সহিংসতা মোকাবিলায় বিশেষ নিরাপত্তা ইউনিটগুলোকে প্রস্তুত রাখা হচ্ছে।
সূত্র: রয়টার্স, আলজাজিরা
এস
















