নিষিদ্ধ ঘোষিত তেহরিকে তালেবান পাকিস্তানের (টিটিপি) সঙ্গে গোপনে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে পাকিস্তান।
এতে সহায়তা করছে আফগানিস্তানের তালেবানরা। আলোচনা চলছে আফগানিস্তানে। সেখানে টিটিপি ৩ টি দাবি উত্থাপন করেছে।
অপরদিকে পাকিস্তান সরকার তাদেরকে অস্ত্র অবনমনের আহ্বান জানিয়েছে। এর প্রেক্ষিতে টিটিপি ৩ সপ্তাহের জন্য অস্ত্রবিরতি ঘোষণা করেছে।
পুনরেকত্রীকরণের জন্য আলোচনা শুরু করেছে পাকিস্তান সরকার। সংবাদ মাধ্যমকে এ কথা জানিয়েছেন গ্রুপটির উত্তর ওয়াজিরিস্তানভিত্তিক একজন উপজাতি নেতা।
এর প্রেক্ষিতে গতকাল শুক্রবার ( ১ অক্টোবর) থেকে ৩ সপ্তাহের জন্য অস্ত্রবিরতি ঘোষণা করেছে টিটিপি।
তুরস্কের একটি সংবাদ ভিত্তিক টেলিভিশন চ্যানেলকে সাক্ষাতকার দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান। তাতে তিনি জানিয়েছেন পাকিস্তানের কিছু গ্রুপের সঙ্গে সরকারের আলোচনা চলছে।
এর ঘন্টা কয়েক পরেই টিটিপি ওই ঘোষণা দিয়েছে। এ খবর দিয়েছে নিউ ইয়র্ক টাইমসের পাকিস্তান সংস্করণ অনলাইন এক্সপ্রেস ট্রিবিউন।
উত্তর ওয়াজিরিস্তানভিত্তিক টিটিপি গ্রুপটিও নিশ্চিত করেছে সরকারের সঙ্গে তাদের আলোচনা চলছে। এই আলোচনায় যুক্ত আছেন এমন একজন টিটিপি নেতা এ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
তিনি বলেছেন, বেশ কিছু সময় ধরে এই আলোচনা চলছে। এর কয়েক ঘন্টা আগে তুরস্কের টিআরটি ওয়ার্ল্ড টিভিকে সাক্ষাতকার দেন ইমরান খান।
তাতে তিনি বলেন, এই আলোচনা চলছে আফগানিস্তানে। তিনি আরো বলেন, যেকোন সমস্যার সমধানে আলোচনাই একমাত্র ভাল মাধ্যম।
যদি টিটিপির সঙ্গে সরকার চুক্তিতে আসতে পারে তাহলে তাদের সদস্যদের ক্ষমা করে দেবে সরকার।
ইমরান খান বলেন, পুনরেকত্রীকরণ প্রক্রিয়ায় কিছু গ্রুপের সঙ্গে আমরা এরই মধ্যে আলোচনা শুরু করেছি। এসব গ্রুপের সদস্যরা যাতে অস্ত্রের ব্যবহার না করেন, সে লক্ষ্যে এই আলোচনা চলছে।
এ প্রক্রিয়ায় কি আফগানিস্তানের তালেবানরা সহায়তা করছে? এ প্রশ্নের উত্তরে ইমরান খান বলেন, আলোচনা চলছে আফগানিস্তানে। তাই এক অর্থে বলা যায়- হ্যাঁ।
ইমরান খান বলেন, তারা একটি চুক্তিতে আসবেন বলে প্রত্যাশা করছেন। কিন্তু কোনো কিছুই নিশ্চিত করে বলা যায় না।
একজন রাজনীতিক হিসেবে সমস্যা সমাধানে আমি সামরিক উপায় অবলম্বনের বিরোধী। আমি মনে করি রাজনৈতিক আলোচনা থেকেই পথ বেরিয়ে আসবে।
আমরা তাদেরকে ক্ষমা করে দেব। ফলে তারা সাধারণ নাগরিক হয়ে যাবেন।
এর পরই টিটিপি ১লা অক্টোবর থেকে ২০ শে অক্টোবর পর্যন্ত অস্ত্রবিরতি ঘোষণা করেছে।
তারা আরো বলেছে, যদি সমঝোতামূলক আলোচনা সফলভাবে এগিয়ে যায়, তাহলে অস্ত্রবিরতির এই ডেডলাইন আরো বাড়ানো হতে পারে। অর্থাৎ সময় বৃদ্ধি করা হবে।
উত্তর ওয়াজিরিস্তানের উপজাতির ওই নেতা বলেছেন, আলোচনায় ৩ টি দাবি উত্থাপন করেছে টিটিপি।
তা হচ্ছে- ফেডারেল এডমিনিস্টার্ড ট্রাইবাল এরিয়াস’কে একীভূত করতে হবে। কমান্ডারদেরকে অস্ত্র বহন করার অনুমতি দিতে হবে এবং বন্দিদের মুক্তি দিতে হবে।
এইচএন





