শিশু অধিকার লঙ্ঘনকারী দেশ হিসেবে ‘লিস্ট অব শেম’-এ ইসরায়েলকে রাখেনি জাতিসংঘ।
সংস্থাটির প্রকাশ করা সোমবারের ওই তালিকা নিয়ে ব্যাপক বিতর্কের পরও মহাসচিব বান কি-মুন ইসরায়েলকে তালিকাভুক্ত করতে রাজি হননি। খবর আলজাজিরার।
এর আগে জাতিসংঘের বিশেষ দূত লায়লা জারাগৌ, হিউম্যান রাইটস ওয়াচসহ বেশ কয়েকটি মানবাধিকার সংস্থা ইসরায়েলকে শিশু অধিকার লঙ্ঘনের দায়ে তালিকাভুক্তির আহ্বান জানায়। সংস্থাটি যেন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের চাপের কাছে নতিস্বীকার না করে এ ব্যাপারেও আহ্বান জানানো হয়।
তালিকা প্রকাশের আগে ইসরায়েলে নিযুক্ত জাতিসংঘের দফতরের পক্ষ থেকে ২২ পৃষ্ঠার একটি প্রতিবেদন সংস্থাটির সদর দফতরে পাঠানো হয়।

সেখানে উল্লেখ করা হয়েছে, গত বছরের জুলাই-আগস্টে গাজা উপত্যকায় ইসরায়েলী বাহিনীর চালানো হামলায় ৫৪০ ফিলিস্তিনী শিশু নিহত হয়েছে। নিহতদের মধ্যে ৩৭১ জনের বয়স ১২ বছর বা এর নিচে।
এ প্রতিবেদন ও আহ্বানের পরও মুন ইসরায়েলকে তালিকাভুক্ত করতে রাজি হননি। গত বছরের তালিকা বজায় রাখার পক্ষেই সিদ্ধান্ত নেন তিনি।
শিশু অধিকার লঙ্ঘনের দায়ে ইসরায়েলকে তালিকাভুক্ত না করলেও নরম ভাষায় দেশটিকে ‘তিরস্কার’ করেছেন মুন।

তিনি বলেন, ২০১৪ সালে ইসরায়েলী সেনাবাহিনীর অভিযান চলাকালে শিশুরা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তাদের ওপর হত্যাযজ্ঞের যে প্রভাব পড়েছে তা অগ্রহণযোগ্য।
একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক আইন ও অধিকারের প্রতি ইসরায়েলের আরও সম্মান দেখানো উচিত বলে মন্তব্য করেছেন তিনি। ফিলিস্তিনে শিশু হত্যার পরিমাণ বেড়ে গেছে বলেও উল্লেখ করেন মুন।
বক্তব্যে ফিলিস্তিনের গাজার শাসনকারী হামাসের সমালোচনা করেন মহাসচিব। গাজা থেকে ইসরায়েলে হামাসের ছোড়া রকেট ক্ষেপনাস্ত্রের কারণে শিশুদের জীবন হুমকির মুখে পড়ছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।
এদিকে জঘন্যতম আগ্রাসন চালনাকারী ইসরায়েলের পক্ষে জাতিসংঘের এ অবস্থানের নিন্দা জানিয়েছে হিউম্যান রাইটস ওয়াচসহ বেশ কয়েকটি মানবাধিকার সংস্থা। ইসরায়েল ও এর মিত্র যুক্তরাষ্ট্রের চাপেই সংস্থাটি এ অবস্থান নিয়েছে বলেও সমালোচনা করেছে তারা।
ওদিকে জাতিসংঘের এ সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছে ইসরায়েল। জাতিসংঘের স্থায়ী মিশনে নিযুক্ত ইসরায়েলী রাষ্ট্রদূত রন প্রসোর এ সিদ্ধান্তকে সঠিক বলে মন্তব্য করেছেন।
এমকে





