ভোটার তালিকা যাচাই ও সংশোধন কার্যক্রম নিয়ে বিরোধীদের অভিযোগ, এর মাধ্যমে ক্ষমতাসীন ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) রাজনৈতিকভাবে সুবিধা পেতে পারে। তাদের দাবি, যাচাই প্রক্রিয়ায় বিপুলসংখ্যক যোগ্য ভোটারের নাম তালিকা থেকে বাদ পড়েছে। তবে ভারতের নির্বাচন কমিশন ও কেন্দ্রীয় সরকার এ অভিযোগ অস্বীকার করেছে।

নির্বাচন কমিশনের ভাষ্য, ভোটার তালিকায় থাকা দ্বৈত নাম, মৃত ব্যক্তি ও অযোগ্য ভোটারদের বাদ দিয়ে তালিকা আরও নির্ভুল করতেই যাচাই কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। কমিশন আরও বলেছে, অভ্যন্তরীণ আলোচনায় কর্মকর্তাদের ভিন্নমত থাকা স্বাভাবিক এবং তাদের সব কার্যক্রম আইন মেনেই পরিচালিত হয়েছে।

সম্প্রতি ভারতীয় সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনে নির্বাচন কমিশনের অভ্যন্তরে ভোটার তালিকা সংশোধন, নিবন্ধন প্রক্রিয়া ও ডিজিটাল ব্যবস্থা নিয়ে কর্মকর্তাদের উদ্বেগের কথা উঠে আসে। রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কমিশনের দুই ডেপুটি গত ১০ মাসে বিভিন্ন বিষয়ে একাধিকবার আপত্তি জানিয়েছিলেন বলে ওই প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।

এই পরিস্থিতিতে জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ দাবি করেছে ককরোচ জনতা পার্টি। দলটির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে এর আগে ঘোষণা দিয়েছিলেন, সিইসি পদত্যাগ না করলে ২ অক্টোবর থেকে মুম্বাইয়ে আন্দোলন শুরু করে পরে তা দেশের বিভিন্ন শহরে ছড়িয়ে দেওয়া হবে।

ককরোচ জনতা পার্টির পাশাপাশি ভারতের বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোও নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন বিরোধী দলগুলো জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে পৃথক কর্মসূচি ঘোষণা করেছে।

ভোটার তালিকা নিয়ে বিতর্কটি মূলত দেশজুড়ে পরিচালিত বিশেষ যাচাই কার্যক্রমকে ঘিরে। সমালোচকদের অভিযোগ, এতে যোগ্য ভোটারদের নাম বাদ পড়ার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। অন্যদিকে নির্বাচন কমিশনের বক্তব্য, তালিকার ভুল ও অযোগ্য নাম বাদ দিয়ে ভোটার তালিকার নির্ভুলতা নিশ্চিত করাই এ কার্যক্রমের উদ্দেশ্য।

ককরোচ জনতা পার্টির উত্থানও সাম্প্রতিক সময়ের তরুণদের আন্দোলন থেকে। দলটি চলতি বছর পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস ও বেকারত্বের মতো ইস্যুতে আন্দোলনের মাধ্যমে পরিচিতি পায়। পরে সংগঠনটি নির্বাচন ও রাজনৈতিক জবাবদিহিসহ বিভিন্ন বিষয়ে কর্মসূচি শুরু করে।

এস