শনিবার (১৭ অক্টোবর) পিএমএ কাকুলে আয়োজিত পাকিস্তান মিলিটারি একাডেমির এক অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।
জেনারেল সৈয়দ আমির রাজা বলেন, ‘আমাদের মাতৃভূমির ভূখণ্ডের অখণ্ডতা রক্ষা করা একটি অবিচল ও অটল অঙ্গীকার।’
তিনি বলেন, ধ্বংসাত্মক প্রযুক্তির দ্রুত বিস্তার আধুনিক যুদ্ধের চরিত্র ও গতিপ্রকৃতিকে আমূল বদলে দিয়েছে এবং প্রথাগত সামরিক কৌশলগুলোকে অকার্যকর করে তুলেছে।
পাকিস্তানের এই সামরিক কর্মকর্তা বলেন, ‘পাকিস্তান সশস্ত্র বাহিনী নিজেদের সামরিক সক্ষমতাকে আরও শক্তিশালী করতে দ্রুত বহুমুখী রূপান্তরের পথে এগিয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের প্রেক্ষাপটে ভূ-রাজনীতিতে সাম্প্রতিক পরিবর্তনগুলো আন্তর্জাতিক অঙ্গনে পাকিস্তানের কৌশলগত গুরুত্বকে আবারও সামনে নিয়ে এসেছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা পুনরুদ্ধারে আমাদের নির্ণায়ক ভূমিকা—যার একটি বড় উদাহরণ হলো ঐতিহাসিক ইসলামাবাদ চুক্তি—শান্তি বজায় রাখা এবং কূটনৈতিক উপায়ে উত্তেজনা প্রশমনের প্রতি আমাদের অবিচল অঙ্গীকারেরই প্রমাণ।’
জেনারেল রাজা শত্রুদের যেকোনো ধরনের আন্তঃসীমান্ত আগ্রাসনের বিরুদ্ধে সতর্ক করে দিয়ে বলেন, এ বিষয়ে পাকিস্তানের অবস্থান ‘অটল ও সুষ্পষ্ট’।
তিনি আরও বলেন, ‘পারমাণবিক অস্ত্রসমৃদ্ধ পরিবেশে সংঘাত বা যুদ্ধের কোনো অবকাশ নেই। কোনো পক্ষ ভুল হিসাব করলে, তাদের এমন জবাব দেওয়া হবে যা তাদের কল্পনা বা ধারণারও বাইরে। পাকিস্তান সশস্ত্র বাহিনী যেকোনো মূল্যে মাতৃভূমির প্রতিটি ইঞ্চি রক্ষা করতে সর্বদা প্রস্তুত রয়েছে।’
জেনারেল রাজা বলেন, পাকিস্তানের প্রতিপক্ষরা অপপ্রচার এবং বিভিন্ন বয়ান তৈরির মাধ্যমে সশস্ত্র বাহিনী ও জনগণের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টির চেষ্টা করছে।
২০২৫ সালের মে মাসে পাকিস্তান-ভারত সংঘাতের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে শীর্ষ জেনারেল বলেন, ‘অপারেশন সিঁদুর’-এ ব্যর্থ হওয়ার পর প্রতিপক্ষ এখন প্রক্সি সন্ত্রাসবাদ ও সাব-কনভেনশনাল যুদ্ধের তীব্রতা বাড়িয়ে পাকিস্তানের সামাজিক সংহতি ও রাষ্ট্রীয় অবকাঠামোকে ভেঙে ফেলার চেষ্টা করছে।
তিনি বলেন, ‘শত্রুভাবাপন্ন শক্তিগুলো পাকিস্তানের অভ্যন্তরীণ দুর্বলতাগুলোকে কাজে লাগিয়ে আমাদের জাতীয় ঐক্যের বিরুদ্ধে প্রক্সি হাতিয়ার গড়ে তোলার সক্রিয় অপচেষ্টা চালাচ্ছে।’
তিনি আরও যোগ করেন যে, এই সংঘাত সরাসরি পাকিস্তানের জনগণের নিরাপত্তার ওপর আঘাত হেনেছে।
জেনারেল রাজা বলেন, পাকিস্তান একটি শান্তিকামী জাতি হিসেবে অবিচল রয়েছে এবং সব সময়ই সংযম, সংলাপ ও আঞ্চলিক স্থিতিশীলতাকে অগ্রাধিকার দিয়ে এসেছে। এই লক্ষ্য অর্জনে জাতি ও তার রক্ষকরা সর্বোচ্চ আত্মত্যাগ করেছেন।
তিনি আরও বলেন, ‘তবে, কোনো প্রতিপক্ষ যেন শান্তির প্রতি আমাদের অঙ্গীকারকে দুর্বলতা বলে ভুল না করে কিংবা আমাদের সংযমকে সংকল্পের অভাব বলে ভুল না বোঝে। আমরা সীমান্ত পেরিয়ে কোনো আগ্রাসন বা আমাদের সার্বভৌম সীমানার কোনো লঙ্ঘন সহ্য করব না।’
সূত্র: জিও টিভি
এনএইচ
















