জামায়াতে ইসলামী এ দেশে জাতিগত বিভাজনে বিশ্বাস করে না উল্লেখ করে তিনি বলেন, জামায়াতে ইসলামী বিশ্বাস করে, সমাজের প্রতিটি মানুষ রাষ্ট্রের নাগরিক হিসেবে এক ও অভিন্ন। ইসলামী নেতৃত্বে সংখ্যালঘু কিংবা সংখ্যাগরিষ্ঠতার ভিত্তিতে নাগরিকদের বিবেচনা করার সুযোগ নেই।

শনিবার (১৭ অক্টোবর) সকালে ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার বেগুনবাড়ি ইউনিয়নের কালীতলায় স্থানীয় হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকজনের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় তিনি আগামী ২৯ অক্টোবর দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ভোট দিয়ে নিজেদের নাগরিক মর্যাদা ও অধিকার বুঝে নিতে হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকজনের প্রতি আহ্বান জানান।

দেলাওয়ার হোসেন বলেন, দাঁড়িপাল্লা বিজয়ী হলে ঠাকুরগাঁওয়ের জনগণের বিজয় হবে, জনগণের মুক্তি আসবে। জনগণ আজ পরিবারতন্ত্রের শিকলে বন্দি উল্লেখ করে তিনি বলেন, যারা অতীতে ঠাকুরগাঁওয়ের সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়ে জনগণকে শোষণ করেছেন এবং দুর্নীতি, অনিয়ম, দলীয়করণ, আত্মীয়করণ ও স্বজনপ্রীতি করেছেন, তাঁদের কিংবা তাঁদের পরিবারের সদস্যদের আর সুযোগ দেওয়া যায় না। তাঁরা সুযোগ পেলেই দুর্নীতি, অনিয়ম, দলীয়করণ, আত্মীয়করণ ও স্বজনপ্রীতির মাধ্যমে জনগণের সম্পদ নিজেদের মধ্যে ভাগ-বাঁটোয়ারা করে নেবেন।

সারের সংকটের চিত্র তুলে ধরে দেলাওয়ার হোসেন বলেন, সারের সংকটের অন্যতম কারণ হলো, সারের ডিলার নিয়োগ দেওয়া হয়েছে সংসদ সদস্যদের আত্মীয়স্বজনদের। কোথাও কোথাও সংসদ সদস্যদের স্ত্রী, ছেলে, ভাই ও পুত্রবধূকে সারের ডিলার নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এই দলীয়করণ ও দুর্নীতির কারণে দেশে সারের সংকট সৃষ্টি হয়েছে। ফলে কৃষকেরা সার পাচ্ছেন না, কৃষি উৎপাদনে ধস নামতে শুরু করেছে। এই ভয়াবহ পরিস্থিতি ক্রমেই বৃদ্ধি পাচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, বিএনপি সরকার গঠনের মাত্র সাত মাসের মাথায় দেশের প্রতিটি খাতে সংকট সৃষ্টি হয়েছে। যেদিকে হাত দেবেন, সেদিকেই কেবল ‘নেই আর নেই’! গ্যাস নেই, বিদ্যুৎ নেই, তেল নেই, সার নেই। বিএনপির শাসনামলে সারের জন্য রাজপথে কৃষকদের জীবন দিতে হয়েছে। এখনো সারের জন্য কৃষকদের আন্দোলন করতে হচ্ছে।

তিনি বলেন, ঠাকুরগাঁওয়ে সরকারদলীয় কোনো ব্যক্তি সংসদ সদস্য নির্বাচিত হলে কৃষকেরা সার ও কীটনাশক পাবেন না। সবকিছু দলীয়করণ ও আত্মীয়করণের মাধ্যমে পাচার হয়ে যাবে। তবে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী নির্বাচিত হলে ঠাকুরগাঁওয়ে কোনো দুর্নীতি, অনিয়ম, আত্মীয়করণ ও দলীয়করণ চলবে না বলে প্রতিশ্রুতি দিয়ে তিনি আগামী ২৯ অক্টোবর দল-মত, ধর্ম-বর্ণ ও জাতিগোষ্ঠী-নির্বিশেষে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ভোট দিয়ে জনগণের বিজয় নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।

33

সভায় প্রধান আলোচক জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের নায়েবে আমির অ্যাডভোকেট ড. হেলাল উদ্দিন বলেন, সারা দেশে জামায়াতে ইসলামীর ৬৮ জন নির্বাচিত সংসদ সদস্য রয়েছেন। তাঁদের নিজ নিজ নির্বাচনী এলাকায় ভিন্ন ধর্মাবলম্বীরা বাংলাদেশের নাগরিক হিসেবে সমান সুযোগ-সুবিধা, নাগরিক অধিকার ও মর্যাদা লাভ করছেন।

কাউকে বোরকা পরতে বাধ্য করা হচ্ছে কিংবা হিন্দুদের বাড়িঘর জামায়াতে ইসলামীর নেতাকর্মীরা দখল করেছেন—এমন কোনো সংবাদ কেউ শুনেছেন কি না, প্রশ্ন করলে উপস্থিত শত শত হিন্দু ধর্মাবলম্বী নারী-পুরুষ একবাক্যে ‘না’ বলে জবাব দেন।

ড. হেলাল উদ্দিন বলেন, জামায়াতে ইসলামী নয়, বরং যারা হিন্দুদের ভোটে নির্বাচিত হয়েছিলেন এবং জামায়াতে ইসলামীর বিরুদ্ধে মিথ্যা প্রচার চালিয়েছেন, তাঁরাই হিন্দুদের সম্পদ দখল করেছেন। তাঁরা বাড়িঘর ভাঙচুর করেছেন এবং হিন্দুদের ওপর জুলুম করেছেন। হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকজনকে বাংলাদেশের নাগরিক হিসেবে তাঁরা কখনোই মূল্যায়ন করেননি; বরং তাঁদের সংখ্যালঘু হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন, যা জাতির জন্য লজ্জার।

তিনি আরও বলেন, জামায়াতে ইসলামী জাতিগত বিভাজন ও ধর্মীয় মূল্যবোধে আঘাত হানায় বিশ্বাসী নয়। জামায়াতে ইসলামী বিশ্বাস করে, সমাজের প্রতিটি মানুষ রাষ্ট্রের নাগরিক হিসেবে এক ও অভিন্ন। দল-মত, ধর্ম-বর্ণ ও জাতিগোষ্ঠী-নির্বিশেষে আগামী ২৯ অক্টোবর দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, শুধু ভোট দিলেই নাগরিকের দায়িত্ব শেষ হয় না। নিজের ভোট যাতে লুট হতে না পারে এবং কেউ যেন কারসাজি করে ফলাফল পাল্টে দিতে না পারে, সেদিকেও খেয়াল রাখতে তিনি স্থানীয়দের প্রতি অনুরোধ জানান।

মাওলানা মোহাম্মদ জাহাঙ্গীরের সভাপতিত্বে এবং বেগুনবাড়ি ইউনিয়ন আমির মাওলানা মিজানুর রহমানের সঞ্চালনায় সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন এনসিপির কৃষি সেলের প্রধান ও যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়ক গোলাম মর্তুজা সেলিম। এ সময় এনসিপির ঠাকুরগাঁও জেলা আহ্বায়ক খলিলুর রহমানসহ স্থানীয় ১১ দলীয় ঐক্যের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

এনএইচ