সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়নভুক্ত ছয়টি দেশের সঙ্গে রাশিয়ার যে চুক্তি রয়েছে সেটি কারাবাখের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয় বলে জানিয়েছে মস্কো। তাছাড়া কারাবাখ আর্মেনীয় ভূখণ্ড নয় বলেও জানায় রাশিয়া।
বুধবার রুশ প্রেসিডেন্টের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ আর্মেনিয়ার বিষয়ে তার দেশের অবস্থান স্পষ্ট করেছেন। এ খবর জানিয়েছে তুর্কি সংবাদ মাধ্যম ইয়েনি শাফাক।
আর্মেনিয়া, রাশিয়ার নেতৃত্বাধীন সিএসটিও সামরিক জোটের সদস্য। সিএসটিও সামরিক জোটের সদস্য রাষ্ট্রগুলো কোনো আক্রমণের শিকার হলে তাদের সুরক্ষা নিশ্চিত করা হয়। তবে কারাবাখের ক্ষেত্রে এ জোট বা চুক্তি কার্যকর নয় বলে জানিয়েছে রাশিয়া।
আর্মেনিয়ার সমর্থনে কারাবাখে রুশ সেনা পাঠানো সংক্রান্ত এক প্রশ্নের জবাবে দিমিত্রি পেসকভ বলেন, ওই চুক্তিতে কোনো সদস্য দেশ বাইরের আক্রমণের শিকার হলে তার পাশে দাঁড়ানোর প্রতিশ্রুতি রয়েছে। এখানে আমরা আর্মেনিয়ার সঙ্গে কথা বলছি। প্রেসিডেন্ট পুতিন বিষয়টি পরিষ্কার করেছেন।
এর আগে পুতিন বলেছেন, আর্মেনিয়া ও আজারবাইজানের মধ্যে যে সংঘাত চলছে তা আর্মেনীয় ভূখণ্ডে নয়।
রাশিয়ার নেতৃত্বাধীন সিএসটিও জোটের সদস্যপদ ছাড়াও আর্মেনিয়ায় একটি রুশ সামরিক ঘাঁটি রয়েছে। অন্যদিকে মুসলিম দেশ আজারবাইজানকে জোরালো সমর্থন দিয়ে যাচ্ছে তুরস্ক।
আশঙ্কা করা হচ্ছে, যদি আর্মেনিয়া ও আজারবাইজান সর্বাত্মক যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ে তাহলে রাশিয়া ও তুরস্কের মতো আঞ্চলিক শক্তিগুলোও এতে যুক্ত হতে পারে। তবে বুধবার দৃশ্যত এ ইস্যুতে সরাসরি সংঘাতে না জড়ানোর ইঙ্গিত দিল মস্কো।
গত সপ্তাহে ২৭ সেপ্টম্বর প্রতিবেশী দুই দেশের মধ্যে সংঘাত শুরু হয়। এই সংঘাত ১২ দিনে গড়িয়েছে।
প্রতিবেশী দুই দেশআর্মেনিয়া ও আজারবাইজানের মধ্যে ১৯৯০ দশকের যুদ্ধে প্রায় ৩০ হাজার মানুষের মৃত্যু হয়।
নাগোরনো-কারাবাখ আজারবাইজারের ভেতরে হলেও আর্মেনীয় নৃগোষ্ঠীর লোকজন অঞ্চলটি নিয়ন্ত্রণ করে আসছে, আর্মেনিয়া তাদের সমর্থন দিচ্ছে। ১৯৮৮-৯৪ সাল পর্যন্ত যুদ্ধের মধ্য দিয়ে অঞ্চলটি আজারবাইজান থেকে বিচ্ছিন্ন হলেও স্বাধীন দেশ হিসেবে এখনো কারো স্বীকৃতি পায়নি।
এমআর





