বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম মহাদেশ আফ্রিকার সাতটি দেশে বসবাসরত প্রায় ৩ কোটি মানুষের নেই কোনো খাদ্য নিরাপত্তা। এমনটাই জানিয়েছে অঞ্চলটির খাদ্য নিরাপত্তা ও উন্নয়ন নিয়ে কাজ করা ইন্টারগভার্নমেন্টাল অথোরিটি অন ডেভেলপমেন্ট এবং ফুড সিকিউরিটি ইনফরমেশন নেটওয়ার্ক নামে দুটি সংস্থা।
মঙ্গলবার (৩ সেপ্টেম্বর) এক যৌথ বিবৃতিতে সংস্থা দুটি জানায়, বর্তমানে অঞ্চলটির প্রায় ২ কোটি ৭০ লাখের বেশি মানুষ খাদ্য ঝুঁকিতে রয়েছে। যা বিশ্বের মোট সংখ্যার প্রায় ২৪ শতাংশের মতো।
বিবৃতি অনুযায়ী, বিশ্বে খাদ্য ঝুঁকিতে থাকা মোট ২৪ শতাংশ লোকই বর্তমানে অঞ্চলটিতে বসবাস করছে। যার মধ্যে ইথিওপিয়া, জিবুতি, কেনিয়া, উগান্ডায়, সোমালিয়া, সুদান এবং দক্ষিণ সুদানে এরই মধ্যে ঝুঁকিটি এক তীব্র আকার ধারণ করেছে।
সংস্থাগুলোর দাবি- প্রধানত জলবায়ু পরিবর্ত, সহিংসতা এবং অর্থনৈতিক অস্থিতিশীলতার কারণে পূর্ব আফ্রিকার এই অঞ্চলটিতে এমন খাদ্য ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। যা আগামীতে আরও বড় আকার ধারণ করবে।
বিশ্লেষকদের মতে, ২০১৮ সালে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকির মুখে ছিল আফ্রিকান দেশ ইথিওপিয়া। এখনো সেখানকার প্রায় ৮১ লাখের বেশি লোক খাদ্য ঝুঁকিতে রয়েছে। আর এর পরের অবস্থানে আছে সুদান, যেখানে ৬২ লাখ মানুষ এই ঝুঁকির মধ্যে আছে। তাছাড়া দক্ষিণ সুদানে ৬১ লাখ এবং কেনিয়া, উগান্ডায়, সোমালিয়া ও জিবুতি আছে এর পরের স্থানে।
বর্তমানে দক্ষিণ সুদানে প্রতি ১০ জনের মধ্যে প্রায় ছয়জনেরই জরুরি সহায়তা প্রয়োজন। এখন তাদের মধ্যে খাদ্য ও পুষ্টি হীনতা এত মাত্রাতেই বেড়েছে যে দেশটিতে শিশু মৃত্যুর হার ক্রমশ বৃদ্ধি পাচ্ছে। তাছাড়া আফ্রিকার আরেক দেশ সোমালিয়ায় প্রতি পাঁচজনের মধ্যে একজন খাদ্য ঝুঁকিতে আছে। ভবিষ্যতে যে সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।
সংস্থাটির নির্বাহী পরিচালক মাহবুব মালিম বলেছেন, 'আমি জাতিসংঘের সদস্য রাষ্ট্র এবং বিশেষ দফতরগুলোকে বর্তমান জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলা, সহিংসতা দমন এবং চেকসই শান্তি অর্জনে বিনিয়োগের আহ্বান জানাচ্ছি। মূলত এতে করে ক্ষুধা ও অপুষ্টিজনিত সমস্যা খুব শিগগিরই নিরসন সম্ভব।' সূত্র: বার্তা সংস্থা 'রয়টার্স'।
এসএম





