আসন্ন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে বৃহস্পতিবার ডেমোক্রেট দলের মনোনয়ন গ্রহণ করেছেন হিলারি ক্লিনটন।অথচ যার পথচলা রিপারলিকান থেকে শুরু।

যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে তিনিই হলেন প্রথম বড় কোনো রাজনৈতিক দলের নারী প্রেসিডেন্ট প্রার্থী। রাজনৈতিক প্রজ্ঞা, আচার-আচরণ ও জীবন দর্শন সব কিছু বিচার-বিবেচনা করে ডেমোক্রেটরা তাকে এ মনোনয়ন দেন।

রাজনীতির মহাসড়কে হিলারির পথ চলা শুরু হয় চার যুগ আগে। তখন তার পরিচয় ছিল হিলারি রডহ্যাম। মায়ামিতে ১৯৬৮ সালে রিপাবলিকান দলের জাতীয় সম্মেলনে অংশ নেন ২০ বছরের তরুণী হিলারি।

সেখান থেকেই শুরু করেন রাজনীতি। সেই নিরন্তর পথচলায় ৪৮ বছর পর হিলারি রিপাবলিকান দলের বিপরীত মেরু ডেমোক্রেটিক দলের জাতীয় সম্মেলনে হলেন প্রেসিডেন্ট প্রার্থী। মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের ইতিহাসে বড় রাজনৈতিক দলগুলো থেকে মনোনয়ন পেতে এ পর্যন্ত দুই শতাধিক নারী নেত্রী চেষ্টা করেও ব্যর্থ হন।

হিলারির আগে কেবল একজন নারী মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে লড়েছিলেন। ভিক্টোরিয়া উডহল নামে ওই নারী আন্দোলনের নেত্রী কোনো রাজনৈতিক দলের মনোনয়ন পাননি। হিলারির মতো ছিল না তার আকাশ ছোঁয়া জনপ্রিয়তাও।

হিলারির সব চেয়ে বড় গুণ, তিনি কথার জাদুতে মানুষকে মোহাবিষ্ট করতে পারেন। মনোনয়ন পেয়ে হিলারি তার অভিব্যক্তি প্রকাশ করতে গিয়ে বলেন, 'আমি শুধু ডেমোক্রেট দলের প্রেসিডেন্ট হতে চাই না, আমি প্রতিটি মার্কিন নাগরিকের প্রেসিডেন্ট হতে চাই।'

দলীয় মনোনয়ন গ্রহণের পর তার প্রথম ভাষণেই প্রাইমারিতে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা বার্নি স্যান্ডার্সের ভক্তরাও তার প্রতি সমর্থন জানাতে শুরু করেন। বৃহস্পতিবার হিলারি তার বক্তব্যে বলেন, 'আজ আমি আপনাদের সামনে এসে দাঁড়িয়েছে আমার মায়ের কন্যা হিসেবে এবং একইসঙ্গে আমার মেয়ের মা হিসেবে।'

তিনি বলেন, 'আজকের মেয়েরা আমাকে দেখে অনুপ্রাণিত হবে। দেশের মানুষের মধ্যে যে পরিবর্তনের হাওয়া লেগেছে, তাতে এদের মধ্যে থেকেই কোনো না কোনো মেয়ে হবে আগামী দিনের প্রেসিডেন্ট।'

হিলারির এ মনোনয়নপ্রাপ্তি আমেরিকার নারীদের নতুন করে অনুপ্রাণিত করেছে, করেছে উদ্বেলিত। অনেক নারী এ মহেন্দ্রক্ষণের জন্য আজীবন অপেক্ষা করে ছিলেন। তাই হিলারির মনোনয়নে তাদের চোখে দেখা গেছে আনন্দ অশ্রু।( সূত্র: হাফিংটন পোষ্ট)

জেড