আমেরিকার একটি সামরিক বিলিম্প বা এয়ারশিপ বাঁধন ছিঁড়ে আকাশে স্বাধীনভাবে ভেসে বেড়ানোর পাঁচ ঘণ্টা পর বিধ্বস্ত হয়েছে। পেনসেলভিনিয়া অঙ্গরাজ্যের ছোট্ট শহর মুনসিকা’র কাছে বিধ্বস্ত হয়েছে এটি।

এটির সঙ্গে থাকা ৬,৭০০ ফুট কেবলের আঘাতে বিদ্যুতের তার ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে প্রায় ৩০ হাজার মানুষের বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে গেছে।

পেন্টাগন জানিয়েছে, মেরিল্যান্ডের অ্যাবারডিন প্রোভিং গ্রাউন্ড থেকে বুধবার এটি বাঁধন ছিঁড়ে আকাশে ওড়ে। এটি ২০১৪ সালে ডিসেম্বর থেকে ওই ঘাটিতে ভূমির সঙ্গে বাঁধা ছিল। আকাশে স্বাধীন ভাবে ভেসে বেড়ানোর সময় এর ওপর নজর রাখছিল দু’টি এফ-১৬ জঙ্গিবিমান।

এ সময় ওই এলাকার আকাশে বিমান চলাচল নিরাপদ রাখার জন্য ফেডারেল অ্যাভিয়েশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশন বা এফএএ’র সঙ্গে কাজ করেছে মার্কিন সামরিক বাহিনী। ঘাটি থেকে প্রায় দেড়শ মাইল দূরে এটি বিধ্বস্ত হয় বলে জানায় পেন্টাগন।

বিলিম্পটিকে বাঁধার জন্য যে সব কেবল ব্যবহার করা হয়েছে তা ঘণ্টায় ১১৫ মাইলের বেশি ঝড়ো বাতাসের গতি সহ্য করতে পারে বলে দাবি করেছিল পেন্টাগন। বিলিম্পটির বাঁধন ছেড়ার কারণ জানা যায় নি এবং এ বিষয়ে তদন্ত চলছে।

আমেরিকার মাটিতে চালকহীন বিমান, ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র বা নিচু দিয়ে উড়ে আসা রকেটের সম্ভাব্য হামলার বিরুদ্ধে আকাশে নজরদারির তৎপরতায় নিয়োজিত ছিল হিলিয়ামপূর্ণ এ বিলিম্প। ৩৬০ ডিগ্রি রাডার নজরদারিতে নিয়োজিত ছিল এটি। এ ব্যবস্থা তৈরিতে পেন্টাগনের ২৭০ কোটি বিলিয়ন ডলার ব্যয় হয়েছে।

বিলিম্পের ভেতরে কোনো শক্ত অবকাঠামো থাকে না। গ্যাসের চাপে ফুলে থাকে এবং গ্যাস বের হয়ে গেলে বেলুনের মতই নেতিয়ে যায় বিলিম্প হিসেবে পরিচিত এয়ারশিপ। বিলিম্পকে কখনো কখনো কাঠামোহীন বা নন রিজিড-এয়ারশিপাও বলা হয়। সূত্র: রেডিও তেহরান

ইআর