অবশেষে আনন্দ শিপইয়ার্ডের বিরুদ্ধে ৭ ব্যাংক ও ৭ লিজিং প্রতিষ্ঠানের প্রায় ১ হাজার ৬০০ কোটি টাকার ঋণ জালিয়াতির তথ্য উপাত্ত জমা হচ্ছে দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক)।
আজ বুধবার জনতা ব্যাংক কর্মকর্তারা দুদকের অনুসন্ধানী কর্মকর্তার দফতরে আনন্দ শিপইয়ার্ডের ঋণ সংক্রান্ত তথ্য উপাত্ত জামা দিয়েছেন। তবে এবি ব্যাংক এবং এনসিসিবিএল ব্যাংক এখনো দুদকের চাহিদা মোতাবেক আনন্দ শিপইয়ার্ডের ঋণ সংক্রান্ত তথ্য উপাত্ত জামা দেয়নি। বাকি ১২ টি প্রতিষ্ঠান তথ্য উপাত্ত দুদকে জমা দিয়েছে বলে জানা যায়।
জানা যায়, ২৪ এপ্রিল মীর মো. জয়নুল আবেদীন শিবলীর স্বাক্ষরে আনন্দন শিপইয়ার্ডের বিদেশে জাহাজ রফতানির নামে ঋণ প্রদানকারী ওই ১৪টি প্রতিষ্ঠানের কাছে তথ্য উপাত্ত চেয়ে প্রথম চিঠি পাঠান। দ্বিতীয় চিঠি ১৯ মে এবং তৃতীয় চিঠি ২৪ আগস্ট পাঠায়। এর মধ্যে ৪ টি ব্যাংক এবং ৭টি লিজিং প্রতিষ্ঠান তথ্য উপাত্ত জমা দেয়। কিন্তু এবি ব্যাংক উল্টা চিঠি দিয়ে দুদকে জানিয়ে দেয় যে, তারা কোনো তথ্য উপাত্ত জমা দেবে না। আর এনসিসিবিএল এবং জনতা ব্যাংক নিরব থেকে সময় পাড় করে।
এদিকে দুদকের অনুসন্ধানী কর্মকর্তা বাধ্য হয়ে গত ২৪ আগস্ট আনন্দ শিপইয়ার্ডের ঋণ সংক্রান্ত তথ্য উপাত্ত চেয়ে জনতা ব্যাংক, এবি ব্যাংক এবং এনসিসিবিএল ব্যাংকের এমডিকে ২০০৪ এর ১৯(৩) এর ২০১৩ সালের ২০ নভেম্বরে সংশোধনীর ক্ষমতার এবং তথ্য না দিলে সাজার বিষয়টি উল্লেখ করে চিঠি দেয় দুদক। ওই চিটির পর জনতা ব্যাংক তথ্য উপাত্ত জমা দেয়। কিন্তু অপর ২ ব্যাংক কোনো জবাব দেয়নি বলে জানা যায়।
আনন্দ শিপইয়ার্ডেরনামে ঋণ প্রদানকারী ৭ব্যাংক: ইসলামী ব্যাংক লিমিটেড (কারওয়ানবাজার শাখা), এবি ব্যাংক লিমিটেড (কারওয়ানবাজার শাখা), মার্কেন্টাইল ব্যাংক লিমিটেড (ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউট শাখা), ওয়ান ব্যাংক লিমিটেড (মতিঝিল শাখা), জনতা ব্যাংক লিমিটেড (লোকাল অফিস), এনসিসি ব্যাংক লিমিটেড ও বাংলাদেশডেভেলপমেন্ট ব্যাংক লিমিটেডের (প্রধান শাখা)।
আরক ৭টি লিজিং প্রতিষ্ঠান:ফিনিক্স ফাইনান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেড (পিএফআইএল), বাংলাদেশ ইন্ডাস্ট্রিয়াল ফাইনান্স কোম্পানি লিমিটেড (বিআইএফসিএল), ফারইস্ট ফাইনান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেড (এফএফআইএল), আইডিএলসি ফাইনান্স, ন্যাশনাল হাউজিং ফাইনান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেড(এনএইচএফয়াইএল), হজ ফাইনান্সকোম্পানি লিমিটেড (এইচএফসিএল) ও প্রিমিয়ার লিজিং অ্যান্ড ফাইনান্স লিমিটেডের (পিএলএফেল)।
অভিযোগ রয়েছে, আনন্দ শিপইয়ার্ডের মালিকের জাহাজ নির্মাণের পূর্ব অভিজ্ঞতা না থাকা সত্ত্বেও পর্যাপ্ত জামানত ছাড়াই ব্যাংক এবং আর্থিকপ্রতিষ্ঠানগুলো মোটা অংকের ঋণ দিয়েছে। এছাড়া বাংলাদেশ ব্যাংকের বিশেষ পরিদর্শনে এ সব জালিয়াতির তথ্য বেরিয়ে আসে।পরে বাংলাদেশ ব্যাংকের পরামর্শে দুদক এই বিষয়টি অনুসন্ধান শুরু করেছে। এই বিষয়টিও দুদকের অনুসন্ধানী টিম খতিয়ে দেখছেন।
যেসব প্রতিষ্ঠান তথ্য উপাত্ত্ব না দিয়ে দুদকের এই অনুসন্ধানী কার্যক্রমকে বাধাগ্রস্ত করতে নানা চেষ্টায় লিপ্ত রয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে দুদক সংশ্লিষ্ট আইনে ব্যবস্থা গ্রহণ করবে দুদক।
ঢাকা,একে, ২৭ আগস্ট, টাইমনিউজবিডি.কম,এসএইচ





