প্রচলিত বিধিবিধান অনুসরণ করে সরকারি সিদ্ধান্ত ও নির্দেশেই বৈধ পন্থায় খাগড়াছড়ির দীঘিনালায়-৫১ বাবুছড়া ব্যাটালিয়ন দফতর স্থাপন করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) দক্ষিণ-পূর্ব রিজিয়ন পরিচালক (অপারেশন) কর্নেল তৌহিদুল ইসলাম। এ ছাড়া ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর ক্ষতিপূরণের অর্থ জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে পরিশোধ করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।

বাবুছড়া বিজিবি ব্যাটালিয়ন সদর দফতর স্থাপন নিয়ে কতিপয় স্বার্থান্বেষী মহলের অপপ্রচার ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ওপর হামলার পরিপ্রেক্ষিতে শুক্রবার সকালে বিজিবির খাগড়াছড়ি সেক্টর দফতরে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ সব কথা জানান কর্নেল তৌহিদুল ইসলাম।

তৌহিদুল ইসলাম বলেন, ‘রাষ্ট্রীয় প্রয়োজন ও দেশের সার্বভৌমত্ব সুরক্ষার জন্য এটি স্থাপিত হচ্ছে। কাজেই ৫১ বিজিবি সদর দফতর প্রত্যাহার কোনো আন্দোলনের ইস্যু হতে পারে না। এখানে ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য ক্ষতিপূরণেরও ব্যবস্থা করা হয়েছে। কিন্তু পার্বত্য চট্টগ্রামের কতিপয় সন্ত্রাসী সংগঠনের উসকানি ও মদদে ২১টি পরিবারকে জিম্মি করে সংকট তৈরি করা হচ্ছে।’

বিজিবি ব্যাটালিয়ন স্থাপন নিয়ে সৃষ্ট উদ্ভূত পরিস্থিতির পেছনে রাষ্ট্রবিরোধী যে কোনো তৎপরতার বিরুদ্ধে সজাগ ও সতর্ক থাকার জন্য অনুরোধ জানান তিনি।

এ সময় খাগড়াছড়ি বিজিবি সেক্টর সদর দফতরের সেক্টর কমান্ডার কর্নেল সাজ্জাদ হোসেন ও ৫১ বাবুছড়া বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল কামাল আহমেদ উপস্থিত ছিলেন।

কর্নেল সাজ্জাদ হোসেন জানান, পার্বত্য চট্টগ্রামের অরক্ষিত ৪৭৯ কিলোমিটার সীমান্ত সুরক্ষার অংশ হিসেবেই পার্বত্য চট্টগ্রামে ৭টি নতুন ব্যাটালিয়ন সেক্টর প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় ২০০৪ সালে দীঘিনালার সীমান্তবর্তী বাবুছড়া ৫১ বিজিবি ব্যটালিয়ন স্থাপনের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়।

তিনি জানান, সরকারের সিদ্ধান্ত মোতাবেক যেখানে ব্যাটালিয়ন স্থাপনের নির্দেশনা প্রদান করা হবে, সেখানেই ব্যাটালিয়ন স্থাপন করা হবে। বাবুছড়ার ক্ষেতেও তাই হয়েছে। কাজেই ৫১ বিজিবি ব্যাটালিয়নের সদর দফতর প্রত্যাহার কোনো আন্দোলনের ইস্যু হতে পারে না। বরং দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় নিয়োজিত বাহিনীর কাজে বাধা প্রদান করা দেশদ্রোহীতার শামিল। তবে ক্ষতিপূরণ নিয়ে আলোচনার সুযোগ রয়েছে। প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্তরা কেউ ক্ষতিপূরণ না পেয়ে থাকলে সব ধরনের সহযোগিতা করা হবে। আর পুনর্বাসনের প্রয়োজনীয়তা বিবেচিত হলে সহানুভূতিশীল বিবেচনার জন্য সরকারি সিদ্ধান্তের জন্য উপযুক্ত কর্তৃপক্ষের কাছে বিষয়টি উপস্থাপন করা যেতে পারে।

জেআই