খাদ্য অধিকার আইনকে গুরুত্ব দিয়ে এবং এ আইন বাস্তবায়নে করণীয় ঠিক করতে ঢাকায় শুরু হবে দক্ষিণ এশিয়া খাদ্য অধিকার (সার্ফ) সম্মেলন ২০১৫।
দক্ষিণ এশিয়ার দেশসমূহে সবার জন্য নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিতের লক্ষ্যে আগামী ৩০ মে শনিবার এ সম্মেলন শুরু হয়ে চলবে ১ জুন সোমবার পর্যন্ত।
রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে সোমবার আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানানো হয়। এ সময় লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন সম্মেলন আয়োজক কমিটির সমন্বয়ক মহসিন আলী।
মহসিন আলী বলেন, ‘দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে শুধুমাত্র ভারতেই খাদ্য অধিকার আইন রয়েছে। কিন্তু আমরা চাই বাংলাদেশসহ সকল দেশেই এই আইন থাকুক। এ সম্মেলনে খাদ্য অধিকার আইনের বিষয়টিই আমরা গুরুত্বসহকারে আলোচনা করবো।’
তিনি জানান, ৩০ মে শনিবার দুপুর সাড়ে ৩টায় খামারবাড়ি কৃষিবিদ ইনস্টিটিউটে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সম্মেলনের উদ্বোধন ঘোষণা করবেন। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন খাদ্যমন্ত্রী এ্যাড. কামরুল ইসলাম ও ভারতের নোবেল জয়ী মানবাধিকার কর্মী কৈলাস সত্যার্থী।
তিনি আরও জানান, ৩১ মে ও ১ জুন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নবাব নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবন ও এলামনাই এসোসিয়েশন বিল্ডিয়ে এ অধিবেশন অনুষ্ঠিত হবে। অধিবেশনে খাদ্য অধিকার সম্পর্কিত বিভিন্ন বিষয়ে দেশী-বিদেশী বিশেষজ্ঞদের উপস্থাপনা ও আলোচনা অনুষ্ঠিত হবে।
১ জুন বিকালে সমাপনী অধিবেশনের মাধ্যমে এ আয়োজনের সমাপ্তি হবে। সমাপনী অধিবেশনে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত।
খাদ্য অধিকার আইনের বিষয়ে পিকেএসএফ এর চেয়ারম্যান কাজী খলিকুজ্জামান বলেন, দেশে পর্যাপ্ত খাদ্য থাকলেও সব মানুষ তা পায় না। আমাদের দেশে মানুষের খাবারের আইনি অধিকার নাই। খাদ্য অধিকার আইন হলে খাদ্য নিশ্চিত করতে মানুষ আইনের আশ্রয় নিতে পারবে।
তিনি বলেন, দ্রুত খাদ্য অধিকার আইনটা বাস্তবায়ন করতে আমাদের আন্দোলনকে আরও সক্রিয় করতে হবে। এ সংক্রান্ত সমস্যা গুলোকে আমরা সামনে এনে সমাধানের চেষ্টা করছি। তবে একটু সময় লাগবে।
সার্ক দেশ সমূহের সমন্বয়ে ‘ফুড ব্যাংক’ প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, কোন কেন্দ্রীয় পর্যায়ে খাদ্য ব্যাংক হয়ে তেমন লাভ নেই। আমরা চেয়েছিলাম স্থানীয় পর্যায়ে অঞ্চলভিত্তিক এ ব্যাংক হোক। তাই খাদ্য ব্যাংকের বিষয়ে আমরা গুরুত্ব দেব না, আমরা খাদ্য অধিকার আইনের বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়েই সম্মেলনে আলোচনা করবো।
খাদ্য অধিকার নিশ্চিত করতে নানামূখী চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় এ সম্মেলন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন, কনসার্ন ওয়ার্ল্ড ওয়াইডের প্রতিনিধি এ কে এম মূসা, অক্সফামের মনীষা বিশ্বাস, খাদ্য নিরাপত্তার প্রতিনিধি মিহীর বিশ্বাস প্রমুখ।
এমএ/ এআর





