পাবনা মেডিক্যাল কলেজের দ্বিতীয় বর্ষের মেধাবী ছাত্র লুৎফর রহমান রাহী গত তিন দিন ধরে নিখোঁজ রয়েছেন। তার কোনো খোঁজ না পেয়ে হতাশ হয়ে পড়েছেন স্বজনরা।

রাহী কিশোরগঞ্জ জেলার নিকলী উপজেলার রসুলপুর গ্রামের আরিফুর রহমানের ছেলে। তবে চাকরির সূত্রে আরিফুর রহমান সপরিবারে সাভারে থাকেন।

পাবনা মেডিক্যাল কলেজের অধ্যক্ষ ডা. রিয়াজুল হক রেজা জানান, কলেজ হোস্টেলে থেকে লেখাপড়া করতেন লুৎফর রহমান রাহী। গত ২৬ মে (মঙ্গলবার) সকাল সাড়ে ৮টায় রাহীর দ্বিতীয় বর্ষের ফাইনাল পরীক্ষা ছিল। তাকে পরীক্ষার হলে না পাওয়ায় আমরা হোস্টেলে খোঁজ নেই। জানতে পারি হোস্টেল থেকে পরীক্ষা দিতে বের হয়ে যাওয়ার পর তিনি আর ফেরেননি। পরে আমরা বিষয়টি তার পরিবারকে জানাই। খবর পেয়ে রাহীর বাবা আরিফুর রহমান ও মা সায়েদা আক্তার বুধবার পাবনায় আসেন।

অধ্যক্ষ ডা. রিয়াজুল হক রেজা আরো জানান, এ ঘটনায় ওই দিনই কলেজের হোস্টেল সুপার ডা. সিরাজুল ইসলাম পাবনা সদর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন।

সদর থানার অফিসার ইন চার্জ (ওসি) আহসানুল হক জানান, জিডি হওয়ার পর আমরা কলেজের অধ্যক্ষ, হোস্টেল সুপার ও তার সহপাঠীদের সঙ্গে কথা বলেছি। কিন্তু তিনি কোথায় গেছেন কেউ বলতে পারছেন না। আমরা তাকে খুঁজে বের করার চেষ্টা অব্যাহত রেখেছি। কিন্তু এখনও তার খোঁজ পাওয়া যায়নি।

এ বিষয়ে আলাপকালে রাহীর বাবা আরিফুর রহমান বলেন, কলেজ কর্তৃপক্ষ আমাদের জানানোর পর পাবনায় এসেছি। যেটুকু শুনেছি তাতে আমার ছেলের অবস্থান সম্পর্কে কিছু বুঝে উঠতে পারছি না। তাকে অপহরণ করা হয়েছে কিনা সে বিষয়ে আমরা নিশ্চিত হতে পারিনি। কেউ অপহরণ করে থাকলে মোবাইলে মুক্তিপণ দাবি করতো। সেরকম কোনো হুমকি বা চাঁদা দাবিও কেউ করেনি। রাহীর মোবাইল নাম্বারটাও বন্ধ রয়েছে বলে জানান তিনি।

মা সায়েদা খাতুন বলেন, আমার ছেলে মেধাবী ছাত্র হিসেবে পরিচিত। কারও সঙ্গে বিরোধ করার মতো ছেলে সে নয়। গত পহেলা বৈশাখে সর্বশেষ বাড়িতে গিয়েছিল রাহী। পহেলা বৈশাখ উদযাপন করে পরীক্ষার জন্য কলেজে চলে আসে। এরপর মোবাইলে প্রায় প্রতিদিনই তার সঙ্গে আমাদের কথা হতো। এখন সে কোথায় গেলো, কিভাবে নিখোঁজ হলো বুঝতে পারছি না।

কেএইচ