দিনাজপুর পৌর এলাকার আনন্দ সাগর মুক্তিযোদ্ধা পল্লী থেকে অপহরণ হওয়া লিমা আক্তার (১৫) নামের এক স্কুল ছাত্রী নিজের চেষ্টায় অপহরণকারীদের কাছ থেকে পালিয়ে এসেছে।

অপহরণকারীরা তার হাত, পা বেধে নির্যাতন করায় গুরুতর আহতবস্থায় লিমা বর্তমানে দিনাজপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে।

লিমা আনন্দ সাগর মুক্তিযোদ্ধা পল্লীর আব্দুর রশিদের মেয়ে ও কাশিপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের ৯ম শ্রেণির ছাত্রী। ১৮ই জুন বৃহস্পতিবার ভোরে তাকে অপহরণ করা হয়। তবে ঐদিনই দিবাগত রাত দেড়টার দিকে পালাতে সক্ষম হয় সে।

লিমার পরিবার সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার ভোরে নামাজ পড়ে বাড়ির সামনে হাঁটার সময় তাকে অপহরণ করে নিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা।

এ ঘটনায় দুপুরে দিনাজপুর কোতোয়ালি থানায় একটি সাধারণ ডাইরি দাখিল করে পরিবারের সদস্যরা। পরে রাতে লিমাকে বাড়ির সামনে অচেতন অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখে প্রতিবেশীরা খবর দিলে তাকে দিনাজপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

লিমা সাংবাদিকদের জানান, আমাকে চোখ ও মুখ বেধে একটি ঘরে বন্ধ করে রাখে। তাদের কাউকে আমি দেখতে পাইনি। পরে রাতে সুযোগ পেয়ে দাঁত দিয়ে বাধন খুলে জানালা দিয়ে পালিয়ে এসেছি। রাতের আঁধারে কোন দিক বেদিক না বুঝে কোন রকমই বাড়ির দিকে ছুটে আসি।

পরে বাড়ির সামনে এসে মাটিতে পড়ে যাই। এরপর চোখ খুলে দেখি আমি হাসপাতালে। এ ব্যাপারে দিনাজপুর কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) একেএম খালেকুজ্জামান জানান, দুপুরে লিমার পরিবারের পক্ষ থেকে একটি সাধারণ ডাইরি দায়ের করা হয়।

পরে রাতে তার ভাই মোবাইলে ঘটনাটি আমাকে অবগত করলে প্রথমে লিমাকে হাসপাতালে নিয়ে সুস্থ করার পরার্মশ দেই। লিমা সুস্থ হলে তার কাছ থেকেই প্রকৃত ঘটনা জানা যাবে। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী এখন পর্যন্ত লিমার পরিবার থানার সাথে আর যোগাযোগ করেনি বলে জানা তিনি।

এসএইচ