কুড়িগ্রামে ব্রহ্মপুত্র, ধরলা, দুধকুমারসহ অন্যান্য সবকটি নদ-নদীর পানি বিপদসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ায় জেলার সার্বিক বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি হয়েছে।

পানিবন্দি হয়ে পড়েছে ৯ উপজেলার ৬০ ইউনিয়নের ৭শ ৬৩ গ্রামের প্রায় ৪ লক্ষাধিক মানুষ। ঘর-বাড়ী ছেড়ে বানভাসীরা আশ্রয় নিয়েছে পাকা সড়ক উচু বাঁধ ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে। গতকাল সোমবার বিকেল থেকে রাত পর্যন্ত বন্যার পানির সাপের কামড়ে ও পানিতে বিদ্যুতস্পৃষ্ট হয়ে ২ জনের মৃত্যু হয়। 

এনিয়ে গত ৩দিনে কুড়িগ্রামে বন্যাজনিত কারণে ৪ শিশুসহ ১১জনের মৃত্যু হয়েছে। বন্যার পানির প্রবল স্রোতে ভেসে গেছে পানিতে ডুবে থাকা প্রায় দুই শতাধিক ঘর-বাড়ি। অনেক পরিবার এখন তার পরনের কাপড়টি পরেই অবস্থান করছেন উচু জায়গা অথবা কোন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে।

সদর উপজেলার টগরাইহাট এলাকায় বন্যার পানির তোড়ে রেল সেতুর ৬টি গার্ডারের মধ্যে ২টি মারাত্নকভাবে দেবে যাওয়ায় ঢাকাগামী শাটল ট্রেনসহ রেল যোগাযোগ বন্ধ রয়েছে। বন্ধ করে দেয়া হয়েছে ৬ শতাধিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠন। তলিয়ে গেছে ৫০ হাজার হেক্টর জমির রোপা আমন ক্ষেত। 

কুড়িগ্রাম ৪৫ বর্ডার গার্ড ব্যাটালিয়নের পরিচালক লে. কর্ণেল আউয়াল উদ্দিন আহমেদ বিজিবি’র পক্ষ থেকে প্রতিদিন দেড়শত প্যাকেট করে প্যাকেজ ত্রাণ বিতরন শুরু করেছেন। বন্যার্তদের জন্য স্বল্প পরিসরে ত্রাণ তৎপরতা চললেও তা প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল। এ পর্যন্ত জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে বন্যার্তদের জন্য সাড়ে ১৭ লাখ ৫ হাজার টাকা, ৬শ ৫১ মেট্রিক টন চাল ও ২ হাজার শুকনো খাবার প্যাকেট বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। 

পানি উন্নয়ন বোর্ড জানায়, সেতু পয়েন্টে ধরলার পানি বিপদসীমার ১০১ সোন্টিমিটার, চিলমারী পয়েন্টে ব্রহ্মপুত্রের পানি বিপদসীমার ৮৫ সেন্টিমিটার, নুন খাওয়া পয়েন্টে ব্রহ্মপুত্রের পানি বিপদসীমার ১৪ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

এমএনজে