রাজধানীর খামারবাড়ির গোল চত্বরের ওপর কয়েকমাস আগে বসানো হয়েছে বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য। চত্বরটির নাম দেওয়া হয়েছে বঙ্গবন্ধু চত্বর। তবে কুতুববাগের মাহাফিল উপলক্ষে ওই চত্বরের চারপাশ ‍ঘিরে বসানো হয়েছে বিশাল আকৃতির তোরণ। লাগানো হয়েছে কুতুববাগের অসংখ্য ব্যানার-পোস্টার। ফলে ঢাকা পড়েছে বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্যটি।

শনিবার সকালে ফার্মগেটের খামারবাড়ি এলাকায় সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, কুতুববাগের মাহফিল উপলক্ষে বঙ্গবন্ধু চত্বরের চারপাশ ঘিরে বিশাল আকৃতির তোরণ ও ব্যানার-পোস্টার লাগানো হয়েছে। এর ফলে বাইরে থেকে বোঝার উপায় নেই ভেতরে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের বিশাল একটি ভাস্কার্য রয়েছে।

এলাকাবাসীর সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, প্রতিদিন বিকেলে এই চত্বরের ওপর সাধারণ মানুষ বসে সময় কাটায়। এলাকার কয়েকশ মানুষ বিকেল ৪টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত এই চত্বরের ওপর বসে আড্ডা দেয়। তবে কুতুববাগের এই তোরণ ব্যানার-পোস্টারের কারণে এখন আর কেউ চত্বরে ওপর বসতে পারে না। আড্ডা দিতে পারে না। কবে যে তোরণ ও ব্যানার-পোস্টারগুলো খুলবে তার কোনো ঠিক নেই। আর ক’দিন পর মাহফিল চত্বরের আশেপাশের ফুটপাতও দখল করে গরুর খামার বানানো হবে। তখন গন্ধে এই এলাকায় টেকা যাবে না।

খাবারবাড়ি এলাকার নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক চায়ের দোকানদার ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘কুতুববাগীদের যে কত ক্ষমতা! তাদের যা ইচ্ছা তাই করে। ওই যে গোল চত্বরটি আগে কত সুন্দর দেখা যেত। সবাই বিকেলে বসতো। কিন্তু একদম রাস্তার মাঝখানে বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য ঢেকে তাদের কী সব যেন লাগিয়েছে। কবে যে খুলবে তার কোনো ঠিক নেই। কুতুবাগের মাহফিল শুরু হলে তো এই সব এলাকাও গরু আর উটের খামার বানানো হবে। গন্ধে এই এলাকায় থাকা যাবে না।’

এ বিষয়ে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. মঞ্জুর-ই মাওলা বলেন, 'কুতুববাগ দরবার কমিটির সঙ্গে আমাদের আলোচনা হয়েছে। তারা নিজেরা আজকের মধ্যে সব কিছু অপসারণ করবে বলে জানিয়েছে। তারা কথা দিয়েছে, আগামী বছর ঢাকার মধ্যে না করে ঢাকার বাইরে যে কোনো জায়গায় তারা মাহফিল করবে।’

তিনি বলেন, ‘সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে আমরা সন্ধ্যায় কুতুববাগ দরবার শরীফের সামনে থাকবো। যদি তারা নিজেরা আজকের মধ্যে অপসারণ না করে তাহলে সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

এ বিষয়ে কথা বলার জন্য কুতুববাগ দরবার শরীফের কমিটির সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগ করা হয়। কিন্তু তারা কথা বলতে ও কোনো তথ্য দিতে রাজি হয়নি।