বাংলাদেশ ৪র্থ শ্রেণীর সরকারি কর্মচারীগণের বিভিন্ন সমস্যা নিরসনের দাবিতে সিলেটে সফররত জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রীর নিকট সিলেট সার্কিট হাউজে রোববার ৪র্থ শ্রেণী সরকারি কর্মচারী সমিতি বিভাগীয় সিলেট জেলা শাখার নেতৃবৃন্দের পক্ষে সভাপতি সেলিম উদ্দিন ও সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ ইছমাইল মিয়া স্মারকলিপি প্রদান করেন।

স্মারকলিপিতে তারা উল্লেখ করেন, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে হত্যার পর বিভিন্ন স্বৈরশাসকদের শাসনামলে আমরা বিভিন্ন ভাবে বৈষম্যের শিকার হয়েছি। স্বৈরশাসকগণ তাদের ক্ষমতা পাকাপোক্ত করার জন্য সচিবালয়ের কর্মচারীগণের জন্য এক নিয়ম এবং মাঠ পর্যায়ে কর্মচারীগণের জন্য আলাদা নিয়ম তৈরি করে আমাদেরকে ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত করেছেন। সচিবালয়ের ৪র্থ শ্রেণীর কর্মচারীগণকে সিলেকশন গ্রেড প্রদান করেছিলেন যা থেকে আমরা মাঠ পর্যায়ের ৪র্থ শ্রেণীর সরকারি কর্মচারীগণ বঞ্চিত হয়েছি। সচিবালয়, বিভিন্ন অধিদপ্তর, বিভাগ, পরিদপ্তরে ৪র্থ শ্রেণীর কর্মচারীগণকে ২৫% থেকে ৩০% পদোন্নতির বিধান রয়েছে, যা থেকে আমরা এখনও বঞ্চিত হচ্ছি।

একই সরকারের কর্মচারী, একই দেশের কর্মচারী হয়ে আমরা বৈষম্যের শিকার কেন হব? আপনি তা বিচার করে দেখবেন। বর্তমান বেতন কাঠামোতে ৬ সদস্যের পরিবারের জন্য যে বেতন স্কেল প্রদান করা হয়েছে তাতে সর্বোচ্চ ৮৬ হাজার টাকা এবং সর্বনিম্ন ৮ হাজার ২৫০ টাকা, ব্যবধান প্রায় ৭৮ হাজার টাকা। আমরা যে বাজার থেকে আমাদের নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যাদি ক্রয় করব, যিনি সর্বোচ্চ বেতন পাচ্ছেন তিনিও তো সেই বাজার থেকেই পণ্য ক্রয় করবেন। তাহলে এত বৈষম্য কেন।

আমাদের জননেত্রী গণতন্ত্রের মানস কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বার বার তাগিদ দিয়েছিলেন নিচের দিকে বেতন বাড়ানোর জন্য কিন্তু আমলাতান্ত্রিক কারণে তা বাড়ানো হয়নি। জনপ্রতিনিধি ছাড়া আমাদের দুঃখ-দুর্দশার কথা কারো কাছে বলতে পারিনা তারা আমাদের কথা শুনেনও না। মাননীয় মন্ত্রী মহোদয় ৪র্থ শ্রেণী কর্মচারী এখন আউট সোসিংয়ের মাধ্যমে নিয়োগ করা হচ্ছে। এতে সুবিধা পাচ্ছে একটি বাণিজ্যিক চক্র। আর বঞ্চিত হচ্ছে নীচু শ্রেণীর লোকেরা। পরিশেষে বর্ণিত সমস্যাগুলো সমাধানে বিহিত ব্যবস্থা গ্রহণে আপনার হস্তক্ষেপ কামনা করছে ভুক্তভোগী ৪র্থ শ্রেণীর সরকারী কর্মজীবী মহল।

এমআইএস