জুলহাজ-তনয়কে হত্যা করেছে নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন আনসারুল্লাহ বাংলা টিমের সদস্যরা। আটক শরিফুল ইসলাম ওরফে শিহাব তাদের দলেরই সদস্য বলে জানিয়েছে পুলিশের কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিট। শিহাবকে কুষ্টিয়া থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
রবিবার ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) গণমাধ্যম কেন্দ্রে এক সংবাদ সম্মেলনে ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার ও কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিটের প্রধান মনিরুল ইসলাম এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, শরিফুল ইসলাম ওরফে শিহাব নামে একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। সে আনসারুল্লাহ বাংলা টিমের সদস্য। ঘটনাস্থল থেকে যে অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে সেটিও তার। তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।
এক প্রশ্নের জবাবে মনিরুল ইসলাম বলেন, আনসারুল্লাহ বাংলা টিমের স্লিপার টিম রয়েছে। এই টিমের সদস্যরাই বিভিন্ন সময় টার্গেট কিলিংয়ে অংশ নেয়। আটক হওয়া শিহাবও স্লিপার টিমের সদস্য।
তিনি বলেন, জুলহাজ-তনয় হত্যাকাণ্ডে সরাসরি অংশ নেয় পাঁচজন। এর বাইরে অনেকেই অস্ত্র ও অর্থ যোগান দিয়েছে। এরা সবাই সংঘবদ্ধ চক্রের সদস্য। সবাইকেই আইনের আওতায় আনার চেষ্টা চলছে।
অপর এক প্রশ্নের জবাবে মনিরুল বলেন, এই হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের বিষয়ে আমাদের কাছে দালিলিক তথ্য আছে। সবকিছু আমরা যাচাই-বাছাই করছি। গত এপ্রিল থেকেই জুলহাজ-তনয়কে হত্যার জন্য টার্গেট করা হয়। পহেলা বৈশাখের পরই বিষয়টিতে তারা মনোযোগ দেয়।
স্লিপার টিমের সবাইকেও পাকড়াও করা সম্ভব হয়েছে কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে মনিরুল ইসলাম বলেন, পৃথিবীর কোনো জায়গায় স্লিপার সেল প্রতিরোধ করা সম্ভব হয়নি। এটা কোনো শান্তির শহরেও সম্ভব হয়নি। বরং যখন স্লিপার সিমের কোনো মড়ল গ্রেপ্তার হয়, তখন কিছু দিনের জন্য কার্যক্রমে ভাটা পড়লেও আবার নতুন মোড়ল তৈরি হলে সক্রিয় হয় তারা।
গত ২৫ এপ্রিল কলাবাগানের একটি বাসায় ঢুকে জুলহাজ মান্নান ও তাঁর বন্ধু মাহবুব তনয়কে কুপিয়ে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা।
জুলহাজ যুক্তরাষ্ট্রের সাহায্য সংস্থা ইউএসএআইডিতে চাকরি করতেন। তিনি সমকামীদের অধিকার-বিষয়ক সাময়িকী ‘রূপবান’ সম্পাদনা ও প্রকাশনার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। মাহবুব ছিলেন নাট্যকর্মী।
দুর্বৃত্তরা ওই বাড়ির নিরাপত্তাকর্মীকেও কোপায়। পরে কলাবাগানের ডলফিন গলি দিয়ে পালানোর সময় কলাবাগান থানার পুলিশের এক সদস্য এক দুর্বৃত্তকে জাপটে ধরেন। দুর্বৃত্তরা তাঁকেও কুপিয়ে আহত করে পালিয়ে যায়। পালিয়ে যাওয়ার সময় এক দুর্বৃত্তের কাছ থেকে একটি ব্যাগ উদ্ধার করে পুলিশ। ওই ব্যাগে আগ্নেয়াস্ত্রসহ নয় ধরনের আলামত পাওয়া যায়।
জুলহাজ মান্নান ও মাহবুব তনয়কে হত্যার দায় স্বীকার করেছে আল-কায়েদা ভারতীয় উপমহাদেশের (একিউআইএস) কথিত বাংলাদেশ শাখা ‘আনসার আল ইসলাম’।
জুলহাজ ও মাহবুব হত্যার ঘটনায় কলাবাগান থানায় দুটি মামলা হয়েছে। একটি হত্যা মামলা, অন্যটি অস্ত্র আইনে। নিহত জুলহাজ মান্নানের ভাই মিনহাজ মান্নান হত্যা মামলাটি করেছেন।
এআই





