ফেনীর সোনাগাজীতে যৌন হয়রানির অভিযোগকারী এক ছাত্রীকে পুড়িয়ে হত্যার চেষ্টা করেছে দুর্বৃত্তরা।

তার নাম নুসরাত জাহান ওরফে রাফি (১৮)। পরীক্ষা দিতে গেলে আলিম পরীক্ষার কেন্দ্রের ভিতর তার গায়ে আগুন ধরিয়ে দিয়ে হত্যার চেষ্টা করা হয়।

গতকাল শনিবার এ কথা জানান ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইউনিটের আবাসিক সার্জন ডা. পার্থ শংকর পাল।

গতকাল সন্ধ্যায় নুসরাতের বরাত দিয়ে তার ভাই মাহমুদুল হাসান জানান, নুসরাতের গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেওয়া চার দুর্বৃত্তই ছিল বোরকা পরা। তাই তাদের চিনতে পারেনি নুসরাত। তবে ওই চারজনের একজন নারীকণ্ঠে নুসরাতের সঙ্গে কথা বলেছে। অন্য তিনজন কোনো কথা বলেনি।

এর আগে গতকাল সকালে সোনাগাজীতে আলিম পরীক্ষা কেন্দ্রে আগুনে দগ্ধ হয় নুসরাত। তাকে প্রথমে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ও পরে ফেনী সদর হাসপাতাল হয়ে ঢামেক হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে আনা হয়েছে। নুসরাত পৌরসভার উত্তর চরছান্দিয়া গ্রামের মাওলানা মুচা মিয়ার মেয়ে।

এ ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য একই মাদ্রাসার ইংরেজি বিভাগের প্রভাষক আবছার উদ্দিন ও আহতের সহপাঠী আরিফুল ইসলামকে আটক করেছে পুলিশ।

ঢামেক হাসপাতালের বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইউনিটের আবাসিক সার্জন ডা. পার্থ শংকর পাল বলেন, ‘ওই ছাত্রীর অবস্থা আশঙ্কাজনক, তাকে আইসিইউতে নেওয়া হবে।’

নুসরাতের ভাই মাহমুদুল হাসান নোমান বলেন, ‘গতকাল সকালে আরবি প্রথমপত্র পরীক্ষা দিতে মাদ্রাসায় যায় নুসরাত। এ সময় কতিপয় বখাটে তাকে পরীক্ষা কেন্দ্রের চারতলায় ডেকে নিয়ে তার গায়ে কেরোসিন জাতীয় পদার্থ নিক্ষেপ করে আগুন দিয়ে পালিয়ে যায়। এতে তার শরীরের বেশির ভাগ অংশ পুড়ে যায়।’

এর আগে গত ১৭ মার্চ ওই ছাত্রীকে সোনাগাজী ইসলামিয়া সিনিয়র ফাজিল মাদরাসার অধ্যক্ষর বিরুদ্ধে নিজ কক্ষে ডেকে নিয়ে যৌন হয়রানি করে বলে অভিযোগে ওঠে। পরে এ ঘটনার মামলা অধ্যক্ষ সিরাজ সিরাজ উদ-দৌলাকে গ্রেপ্তার করে।

আর এরপর থেকেই শিক্ষার্থীদের একটি অংশ অধ্যক্ষের মুক্তির দাবিতে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ করেন। অন্যদিকে আরেকটি অংশ তার শাস্তির দাবিতে মানববন্ধন করে।

 

এএস