অবৈধ প্রবেশ ঠেকাতে বাংলাদেশ-মায়ানমার সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিতে যাচ্ছে বলে জানিয়েছে সরকারের উচ্চপর্যায়ের সূত্র। রোহিঙ্গা শরণার্থীদের অবৈধ কার্যক্রম রুখতে সীমান্তে নজরদারি ও তদারকির জন্য বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের(বিজিবি) জনবলও বৃদ্ধি করা হচ্ছে। 

আগামী ৮ জুলাই থেকে ১০ জুলাই পর্যন্ত অনুষ্ঠেয় জেলা প্রশাসক (ডিসি) সম্মেলনের পর এ পদক্ষেপ নেবে সরকার।

কক্সবাজারের জেলা প্রশাসন রোহিঙ্গাদের চোরাচালানসহ অবৈধ কর্মকাণ্ডের বিষয়ে ইতোমধ্যে সরকারের কাছে সমন্বিত ও কার্যকর পদক্ষেপ নিতে সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব করেছে।

ডিসি সম্মেলনে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা ও পরবর্তী সিদ্ধান্তের জন্য কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মো. রুহুল আমিন সুনির্দিষ্ট প্রস্তাবনা পাঠান মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে।

মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, স্বরাষ্ট্র ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় রোহিঙ্গাদের সমস্যা মোকাবেলা করতে কক্সবাজার জেলা প্রশাসনকে প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেবে। জেলা প্রশাসক সম্মেলনে আলোচনার পর সরকার সুনির্দিষ্ট সিদ্ধান্তে যাবে।

মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে পাঠানো প্রস্তাবনায় বলা হয়, জেলায় দুটি শরণার্থী ক্যাম্পে নিবন্ধিত শরণার্থীর সংখ্যা ২৫ হাজার ৪৫ জন। আর তাদের লিংকড সদস্যদের সংখ্যা ৪ হাজারের বেশি। এছাড়াও অবৈধ প্রবেশকারীর সংখ্যা প্রায় দুই লাখাধিক।

এসব জনগোষ্ঠী চোরাচালান, অবৈধ মাদক ব্যবসাসহ নানাবিধ অপরাধ কার্যক্রমে জড়িয়ে পড়েছেন। এসব অবৈধ কার্যক্রমের মাধ্যমে দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করছেন রোহিঙ্গা শরণার্থীরা। শরণার্থীদের এসব  সমস্যা সমাধানে সমন্বিত ও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন।

জেলা প্রশাসনের এ সুপারিশের আলোকে সরকার শরণার্থী সমস্যা সমাধানে কয়েকটি পদক্ষেপ নিচ্ছে।

এর মধ্যে মিয়ানমার সীমান্তে নজরদারি ও বাড়তি তদারকির জন্য বিজিবির জনবল বৃদ্ধি এবং সীমান্তে ওয়াচ টাওয়ার নির্মাণের সিদ্ধান্ত রয়েছে। এছাড়া সীমান্তে দুই বর্ডার আউট পোস্টের (বিওপি) মধ্যবর্তী জায়গায় পোস্ট বা নতুন ক্যাম্প স্থাপন করা হবে।

রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ ঠেকাতে সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণ এবং সীমান্ত ঘেঁষে পাকা রাস্তা নির্মাণ করে বিজিবির টহল বাড়ানো হবে।

এছাড়া নাফ নদীর জলসীমা এলাকায় বাংলাদেশের অবস্থান আরো শক্তিশালী করার লক্ষ্যে টেকনাফ থেকে শাহপরীর দ্বীপ পর্যন্ত জলসীমা রক্ষায় কোস্টগার্ডকে দায়িত্ব দেওয়া হবে।

ঢাকা, ০৪ জুলাই(টাইমনিউজবিডি.কম)//এনএস