ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে নারিন্দা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে দরজা বন্ধ করে ভোট চলছে। কেন্দ্রে যেতে দেওয়া হচ্ছে না বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয় ভোটাররা।
ভোটারদের বলা হচ্ছে, ‘ভোট দেওয়া হয়ে গেছে।’ আশপাশের কয়েকটি কেন্দ্রেও একই অবস্থা দেখা গেছে। ভোটারদের ঢুকতে দেওয়া হচ্ছে না।
আওয়ামী লীগ-সমর্থিত মেয়র পদপ্রার্থী সাঈদ খোকন ও কাউন্সিলর প্রার্থী সারোয়ার হাসানের এজেন্টরাই কেন্দ্র নিয়ন্ত্রণ করছেন বলে ভোটাররা অভিযোগ করেন।
আজ মঙ্গলবার বেলা পৌনে ১১টার দিকে গিয়ে নারিন্দা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভোটকেন্দ্রে গিয়ে এমন দৃশ্য দেখা যায়। কেন্দ্রের ভেতরে দোতলার একটি ভোটকক্ষের দরজা এই প্রতিবেদকের সামনেই বন্ধ করে দেওয়া হয়।
পাশের কয়েকটি কক্ষে ঢাকা দক্ষিণ সিটিতে আওয়ামী লীগ সমর্থিত মেয়রপ্রার্থী সাঈদ খোকন ও আওয়ামী লীগ সমর্থিত ওয়ার্ড কাউন্সিলর প্রার্থী সারোয়ার হাসানের ব্যাজ পরা কয়েকজনকে ব্যালটপেপার নাড়াচাড়া করতে দেখা যায়। এ সময় কক্ষের বাইরে একজন পুলিশ অসহায়ভাবে বসে ছিলেন। ভোটগ্রহণকারী কর্মকর্তারাও অসহায়ভাবে সেখানে বসে ছিলেন।
কেন্দ্রে সকাল থেকে সাঈদ খোকন ও সারোয়ার হাসানের বাইরে কোনো প্রার্থীর এজেন্টকে দেখা যায়নি। একজন নারী ভোটার ভোট দিতে কেন্দ্রের ভেতরে যেতে চান। এ সময় তাঁকে ঢুকতে দেওয়া হয়নি বলে তিনি অভিযোগ করেন। তিনি বলেন, ‘ভোটকেন্দ্র তো দখল হয়ে গেছে। যাইতে দিচ্ছে না।’
একই রকম ক্ষোভ প্রকাশ করেন ভোট দিতে আসা আবুল কালাম। পরিবারের চার সদস্যকে নিয়ে তিনি ভোট দিতে আসেন। কিন্তু নারিন্দার ওই কেন্দ্রে ঢোকার পর তাঁদের বলা হয়, ‘ভোট দেওয়া হয়ে গেছে।’
একই অবস্থা ছিল ওই কেন্দ্রের পাশের দক্ষিণ মৈসন্ডি বালিকা বিদ্যালয় কেন্দ্রের। সেখানে দেখা যায়, কেন্দ্রের বাইরে সাঈদ খোকন ও সারোয়ার হাসানের ব্যাজ পরে শতাধিক লোক অপেক্ষা করছে। ভোটকেন্দ্রের প্রবেশপথও তারা নিয়ন্ত্রণ করছে। সাড়ে ১০টার দিকে ওই কেন্দ্রের ভেতরে ঢুকতে চাইলে ব্যাজ পরা কয়েকজন যুবক বাধা দিয়ে ভোটারদের বলেন, ‘ওদিকে যেয়েন না। ওদিকে গ্যাঞ্জাম হচ্ছে। দুইটার পরে আসেন।’ এ সময় কয়েকজন নারী ‘ভোট দিতে দিল না’ বলতে বলতে চলে যান।
পাশের ফকিরচাঁন সরদার কমিউনিটি সেন্টারে গিয়ে দেখা যায়, সাঈদ খোকন ও সারোয়ার হাসানের বাইরে আর কোনো প্রার্থীর এজেন্ট নেই। সেখানেও নেতা-কর্মীরা ওই দুই প্রার্থীর ব্যাজ পরে ঘোরাঘুরি করছেন। সোয়া নয়টার দিকে ওই কেন্দ্রে গিয়ে দেখা যায়, একটি বুথে ভোট পড়েছে মাত্র ১৬ টি। একজন সহকারী প্রিসাইডিং কর্মকর্তা বলেন, এখানে তো অন্য কোনো এজেন্টই নেই।
এমকে





