৪ দিনের গুরুত্বপূর্ণ সফরে আজকে ২য় দিনে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্রমোদীর সাথে দ্বীপাক্ষিক আলোচনা ও একান্ত বৈঠকে বসবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বৈঠকে আলোচনার পর দুই প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতিতে ৩০ টির বেশি চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক সাক্ষরিত হবে যেখানে ভারত সফরের আগ থেকেই বিতর্কিত ও সমালোচিত সামরিক চুক্তি থাকবে বলে আশংকা করা হচ্ছে।

এই সফরে ঢাকা-দিল্লির বিদ্যমান বন্ধুত্বপূর্ণ ও আন্তরিক সম্পর্ক আরো বহুমাত্রিক রূপ পাবে বলে আশা করা হচ্ছে। গতকাল শুক্রবার ভারতীয় সময় দুপুর ১২টার দিকে প্রধানমন্ত্রী নয়াদিল্লির পালাম বিমান ঘাঁটিতে অবতরণ করেন।

বৈঠকে আলোচনার পর দুই প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতিতে ৩০টির বেশি চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের পাশাপাশি দুই প্রধানমন্ত্রী বিরল-রাধিকাপুর রুটে মালামাল পরিবহনকারী রেল চলাচল, খুলনা-কলকাতা রুটে যাত্রীবাহী বাস ও রেল চলাচল এবং ত্রিপুরার পালাটানা বিদ্যুত্ প্রকল্প থেকে বাংলাদেশে অতিরিক্ত ৬০ মেগাওয়াট বিদ্যুত্ সরবরাহ উদ্বোধন করবেন।

পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জিসহ বাংলাদেশ সীমান্ত সংশ্লিষ্ট ভারতের রাজ্যগুলোর মুখ্যমন্ত্রীরা উপস্থিত থাকবেন। দুই প্রধানমন্ত্রী যৌথভাবে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের অসমাপ্ত আত্মজীবনীর হিন্দি সংস্করণের মোড়ক উন্মোচন করবেন। একাত্তরের মহান মুক্তিযুদ্ধে যেসব ভারতীয় সেনা সদস্য আত্ম-উৎসর্গ করেছেন তাদের মরণোত্তর মুক্তিযুদ্ধ সম্মাননা প্রদান করা হবে।

নয়াদিল্লির মানেক শ সেন্টারে মুক্তিযুদ্ধে প্রাণোত্সর্গকারী ১৬৬১ জন ভারতীয় সেনা সদস্যের মধ্যে সাতজনের নিকটাত্মীয়ের হাতে প্রধানমন্ত্রী ‘মুক্তিযুদ্ধ সম্মাননা পদক’ ও সম্মাননাপত্র তুলে দিবেন। এই অনুষ্ঠানে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীও বক্তব্য রাখবেন।

এরপর ৯ এপ্রিল সকালে প্রধানমন্ত্রী আজমির শরিফ যাবেন। সেখানে খাজা মঈনুদ্দিন চিশতির (রহ.) দরগাহ শরিফ জিয়ারত করবেন। একই দিন বিকেলে প্রধানমন্ত্রী আনুষ্ঠানিকভাবে ভারতের রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখার্জির সঙ্গে দেখা করবেন। পরে তিনি রাষ্ট্রপতির দেওয়া নৈশভোজে যোগ দেবেন।

এদিন প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে কংগ্রেস সভানেত্রী সোনিয়া গান্ধী ও কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী সৌজন্য সাক্ষাৎ করবেন। ১০ এপ্রিল সকালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বাংলাদেশ ও ভারতের শীর্ষ শিল্পপতি ও ব্যবসায়ীদের এক সেমিনারে প্রধান অতিথি হিসেবে যোগ দেবেন। বিকেলে তিনি ঢাকার উদ্দেশে দিল্লি ত্যাগ করবেন।
জেড