নতুন এলএনজি কার্গো পৌঁছানোর পর টার্মিনালে আগে থেকে মজুত থাকা এলএনজি থেকে জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহ শুরু হয়েছে। শনিবার দুপুর থেকে প্রায় ১০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা হচ্ছে।
রূপান্তরিত প্রাকৃতিক গ্যাস কোম্পানি লিমিটেডের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, রোববার সকাল নাগাদ এক্সিলারেটের টার্মিনাল থেকে পূর্ণ সক্ষমতায় গ্যাস সরবরাহ শুরু হতে পারে।
সংস্থাটির চট্টগ্রাম কার্যালয়ের উপমহাব্যবস্থাপক (এলএনজি) মোহাম্মদ নাছির উদ্দিন জানান, নতুন এলএনজিবাহী জাহাজটি শনিবার দুপুরে টার্মিনালে নোঙর করেছে। রাত ১০টার দিকে জাহাজ থেকে এলএনজি এফএসআরইউতে স্থানান্তর শুরু হওয়ার কথা রয়েছে।
তিনি জানান, বর্তমানে দুটি ভাসমান টার্মিনাল থেকে জাতীয় গ্রিডে প্রায় ৬৭০ মিলিয়ন ঘনফুট এলএনজি সরবরাহ হচ্ছে। দুটি টার্মিনালের সক্ষমতা অনুযায়ী ১১০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস পেতে রোববার সকাল পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, শনিবার দুপুর দেড়টার দিকে মার্শাল আইল্যান্ডের পতাকাবাহী এলএনজি ট্যাংকার ‘ফ্ল্যাক্স কারেজাস’ মহেশখালীতে এক্সিলারেটের ভাসমান এমএলএনজি টার্মিনালে ভিড়েছে। আন্তর্জাতিক স্পট মার্কেট থেকে কেনা এলএনজিবাহী জাহাজটি যুক্তরাষ্ট্রের ক্যামেরন পোর্ট থেকে এসেছে বলে মেরিন ট্রাফিকের তথ্য জানা গেছে।
এদিকে নাইজেরিয়া থেকে ছেড়ে আসা আরেকটি এলএনজি ট্যাংকার গত বৃহস্পতিবার সামিটের টার্মিনালে পৌঁছেছে। গ্যাস সংকট দ্রুত কাটাতে সরকার স্পট মার্কেট থেকে দুই কার্গো এলএনজি কেনার উদ্যোগ নেয়।
এরই অংশ হিসেবে শনিবার একটি কার্গো পৌঁছেছে। আগামী ২৬ আগস্ট আরও একটি এলএনজি কার্গো জাহাজ দেশে পৌঁছানোর কথা রয়েছে।
বাংলাদেশ সাধারণত দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির আওতায় কাতার এনার্জি ও ওমানের ওকিউ ট্রেডিং লিমিটেডের কাছ থেকে এলএনজি আমদানি করে। এ ছাড়া সৌদি আরবের রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান আরামকো ট্রেডিং এসএ’র সঙ্গে স্বল্পমেয়াদি জিটুজি চুক্তিও রয়েছে।
এর বাইরে পেট্রোবাংলার তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোর মাধ্যমে দরপত্রের ভিত্তিতে খোলাবাজার থেকেও এলএনজি কেনা হয়। তবে মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে সরবরাহ চেইন ব্যাহত হওয়ায় দেশে গ্যাস সংকট আরও তীব্র হয়ে ওঠে।
সংকট মোকাবিলায় দরপত্র ছাড়াই ডিপিএম বা সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে এলএনজি আমদানির ক্রয়াদেশ দেওয়া হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত সব জাহাজের সময়সূচি নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
গত ২১ জুলাই মহেশখালীতে মার্কিন প্রতিষ্ঠান এক্সিলারেটের এমএলএনজি টার্মিনালে অগ্নিদুর্ঘটনার পর সারাদেশে গ্যাস সরবরাহ নাজুক হয়ে পড়ে।
পরবর্তীতে টার্মিনালটি সচল হলেও পর্যাপ্ত এলএনজি মজুত না থাকায় সরবরাহ স্বাভাবিক করা সম্ভব হয়নি। এতে শিল্পকারখানা, গণপরিবহন ও বাসাবাড়িতে গ্যাস সরবরাহ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়। বাধাগ্রস্ত হয় শিল্পোৎপাদন ও রান্নার কাজও।
গ্যাস সংকটের প্রভাবে কয়েকটি বিদ্যুৎকেন্দ্রের উৎপাদন ব্যাহত হওয়ায় দেশজুড়ে বিদ্যুৎ সংকটও তীব্র আকার ধারণ করে।
নতুন এলএনজি কার্গো আসায় এক মাসের বেশি সময় ধরে চলা এই সংকটের আপাতত সুরাহার আশা করা হচ্ছে। তবে নিয়মিত সরবরাহ নিশ্চিত করতে আরও এলএনজি কার্গোর সময়সূচি নিশ্চিত হওয়া জরুরি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
এস