ব্যাপক অনিয়ম, ভাংচুর ও কেন্দ্র দখলের মধ্য দিয়ে চলছে ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ এবং চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের নির্বাচন।
তেজগাঁওয়ে কেন্দ্রের বুথ দখল করে গণহারে ভোট:
ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনের একটি ভোট কেন্দ্রের বুথ দখল করে একদল কর্মীকে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থীর মার্কায় গণহারে সিল মারতে দেখা গেছে।
এসময় ভোট-গ্রহণের দায়িত্বে থাকা সর্বোচ্চ কর্মকর্তা প্রিজাইডিং অফিসার নিষ্ক্রিয় হয়ে বসেছিলেন।
তেজগাঁও সরকারি উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়ের একটি ভোট কেন্দ্রে বিবিসির সংবাদদাতা ফারহানা পারভীন এই ভোট জালিয়াতি প্রত্যক্ষ করেন।
ফারহানা জানান, দুপুর সাড়ে বারোটার দিকে তিনি ওই কেন্দ্রে গিয়েছিলেন ভোটারদের সাথে কথা বলতে।
তখন কেন্দ্রের বাইরে ছিলো ভোটারদের লম্বা লাইন। তারা অভিযোগ করছিলেন যে দেড়/দু’ঘণ্টার মতো লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও তারা ভোট দিতে পারছিলেন না।
ভোটারদের সাথে কথা বলার পর তিনি কেন্দ্রের ভেতরে যান নির্বাচনী কর্মকর্তাদের সাথে কথা বলতে।
কিন্তু একটি বুথের ভেতরে গিয়ে তিনি দেখতে পান সেখানে কোনো ভোটার নেই। কিন্তু সরকারি দলের ১০/১৫ জনের একদল সমর্থক ব্যালট পেপারে খুব দ্রুতগতিতে ভোট দিচ্ছেন।
বুথ ছেড়ে সবাই চলে যাওয়ার পর মোবাইল ফোনে এই ছবিটি তোলা হয়েছে
কর্মকর্তাদের সামনেই এই ভোট জালিয়াতির ঘটনা ঘটেছে। এসময় তারা চুপ করে বসেছিলেন। তাদের অনেকের গলায় আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থী আনিসুল হকের পোলিং এজেন্টের মালা ঝুলছিলো।
এসময় সেখানে উপস্থিত সহকারী প্রিজাইডিং অফিসার চুপচাপ বসেছিলেন। কর্মীরা তাদের চেয়ার টেবিলে ব্যালট পেপারে সিল মারছিলেন। বিবিসির সংবাদদাতাকে দেখে তারা কিছুটা হতচতিক হয়ে পড়েন এবং এক পর্যায়ে বুথ থেকে বের হয়ে চলে যান।

তখন ওই বুথে বিবিসির সংবাদদাতা ছাড়া আর কেউই উপস্থিত ছিলো না। ওই কেন্দ্রটিতে বিএনপি সমর্থিত প্রার্থীর কোনো পোলিং এজেন্টকে দেখা যায়নি।
পরে কেন্দ্রের প্রিজাইডিং অফিসার মাহবুব ফেরদৌসের কাছে এবিষয়ে জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন এধরনের কোনো ঘটনা ঘটেছে বলে তার জানা নেই।
তিনি বলেন, আমি এরকম কিছুই দেখিনি।
৮টার মধ্যেই ৪২ কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ সম্পন্ন:
রাজধানীর ৪২ কেন্দ্রের শতভাগ ভোটগ্রহণ সকাল সাড়ে সাতটা থেকে সোয়া আটটার মধ্যে দেখিয়েছেন প্রিজাইর্ডিং অফিসাররা। এছাড়া বেশ কয়েকটি কেন্দ্রে ব্যালট বাক্স ছিনতাই হয়েছে বলেও অভিযোগ করেছেন পোলিং এজেন্টরা।
খিলগাঁও সরকারি প্রথমিক বিদ্যালয়ের প্রিজাইডিং অফিসার নুরুল আমিন বলেন, মঙ্গলবার সকাল ৮টার আগে কয়েকজন অপরিচিত লোকজন এসে ব্যালট বাক্স ছিনতাই করে নিয়ে যায়। নির্বাচন কমিশনের কাছে আমি অভিযোগ করেছি।
১৯ ও ২০ নাম্বার ওয়ার্ডের ৮ কেন্দ্রে সকাল সোয়া ৮টার মধ্যে শত ভাগ ভোট গ্রহণ দেখিয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন আফরোজা আব্বাসসহ স্থানীয় নেতা কর্মীরা।
স্থানীয় কাউন্সিলর প্রার্থী মোহাম্মদ জোবায়ের ও সংরক্ষিত আসনের কাউন্সিলর প্রার্থী শামসুন্নাহার শামু অভিযোগ করে বলেন, সকাল সোয়া ৮ টার মধ্যে শত ভাগ ভোট গ্রহণ দেখিয়েছে প্রিজাইজিং অফিসার। এ সময় আমি প্রতিবাদ করতে গেলে প্রকাশ্যে অস্ত্র বের করে আমাকে কেন্দ্র থেকে বের করে দেওয়া হয়।
এর পরে ৫৭ নাম্বার ওয়ার্ডে কেরানীগঞ্জের ৪টি, ৫৬ নাম্বার ৩টি, ফকিরাপুলে ৪টি, সেগুনবাগিচা হাইস্কুল এ সব কেন্দ্রে সকাল সায়ো ৮টার মধ্যে শত ভাগ ভোট গ্রহণের খবর পাওয়া যায়। আফরোজা আব্বাস এটিকে ভোট ডাকাতি বলে আখ্যায়িত করেছেন।
নিজের ভোটটিও দিতে পারলেন না কাউন্সিলর প্রার্থী:
নিজের ভোটটিও দিতে পারলেন না ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের ১৯ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর প্রার্থী আবু জুবায়ের।
ভোটকেন্দ্রে গিয়ে তিনি দেখেন তার ভোটটি কে বা কারা দিয়ে দিয়েছে। পরে প্রিজাইডিং অফিসারের কাছে তিনি অভিযোগ দায়ের করেন। ১৯ নম্বর ওয়ার্ডে তিনি করাত প্রতীক নিয়ে কাউন্সিলর প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বীতা করছেন।
এছাড়া রাজধানীর নাখালপাড়া কেন্দ্রে অনেক ভোটার ভোট দিতে গিয়ে দেখেন আগেই তাদের ভোট প্রদান করা হয়ে গেছে। তাদের ভোটার আইডি কার্ড ও ভোটার নম্বর মিলিয়ে দেখা যায়, তার ভোট আগেই দেয়া হয়ে গেছে।
ভোট না দিতে পেরে ফিরে আসা অনেক ভোটার এমন অভিযোগ করেছেন। আবার অনেকের অভিযোগ, তাদের ভোটার নম্বর খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না বলে ভেতর থেকে জানিয়ে দেয়া হয়েছে।
এজেন্টদের মারধর করে মোবাইল-টাকা ছিনতাই:
ঢাকা সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে পল্টন গার্লস স্কুলে কাউন্সিলর প্রার্থী আঞ্জুমান আরা বেগমের দুই এজেন্টকে মারধর করে তাদের মোবাইল ও টাকা ছিনতাই করে নিয়েছে ছাত্রলীগ কর্মীরা।
আহতরা হলেন, রফিকুল ইসলাম ও মামুন। মঙ্গলবার বেলা ১১টার দিকে তাদেরকে বেধড়ক মারধর করা হয়।

ছাত্রলীগের বিরুদ্ধে অভিযোগ করে আঞ্জুমান আরার পক্ষ থেকে বলা হয়, তাদেরকে মারধর করে আইডি কার্ড, মোবাইল ও টাকা ছিনিয়ে নেয়া হয়েছে। আহত দু'জনকে একটি প্রাইভেট হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য ভর্তি করানো হয়েছে।
স্বামীবাগে ভোটকেন্দ্রের পাশে ককটেল বিস্ফোরণ:
ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে ভোটগ্রহণ চলার সময় স্বামীবাগে মিতালী স্কুল ভোটকেন্দ্রের পাশে ৮টি ককটেল বিস্ফোরিত হয়েছে।
মঙ্গলবার বেলা সাড়ে এগারোটার দিকে ভোটকেন্দ্রটির বাইরে এসব ককটেলের বিস্ফোরণ ঘটানো হয়।
সংঘর্ষের পর মগবাজারে ভোটার শূন্য কেন্দ্র:
সংঘর্ষের পর থমথমে পরিস্থিতে ভোটারশূন্য হয়ে পড়ে মগবাজার ইস্পাহানি স্কুলের ভোটকেন্দ্র।
মঙ্গলবার সকাল ১১টার দিকে ভোটকেন্দ্র দখল নিয়ে আওয়ামী লীগ সমর্থিত ও বিদ্রোহী কাউন্সিলর প্রার্থীদের মধ্যে ত্রিমুখী সংঘর্ষ হয়।
পরে ঘটনস্থালে দায়িত্বরত র্যা ব, বিজিবি ও পুলিশ সদস্যরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে নেয়। এসময় কাউন্সিলর প্রার্থীর সমর্থকরা কেন্দ্রের বাইরে অবস্থান নেয়।
প্রিসাইডিং অফিসারের কক্ষে লুকানো ব্যালট বাক্স:
মিরপুরের একটি ভোটকেন্দ্রে প্রিসাইডিং অফিসারের গোপন কক্ষে একটি লুকানো ব্যালট বাক্স পাওয়া গেছে। মিরপুর ৬ নম্বর ওয়ার্ডের ২০৪ নম্বর কেন্দ্রে এ ঘটনা ঘটে।
গোপন কক্ষে ব্যালট বাক্স কেন রাখা হয়েছে জানতে চাইলে সাংবাদিকদের কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি ওই প্রিসাইডিং অফিসার। তিনি বলেছেন, তাদেরকে অতিরিক্ত হিসেবে একটি ব্যালট বাক্স দেয়া হয়েছে।
এ ব্যাপারে বিএনপি সমর্থিত মেয়র প্রার্থী তাবিথ আওয়াল বলেছেন, প্রিসাইডিং অফিসারের গোপন রুমে যে ব্যালট বাক্সটি রাখা হয়েছে সেই বাক্স নিয়ে মূলত জালভোট দেয়ার আয়োজন চলছে।
ঢাকা উত্তরে ২ আ'লীগ প্রার্থী উধাও:
ঢাকা উত্তর ১নং ওয়ার্ডে আওয়ামী লীগের দুই বিদ্রোহী প্রার্থী উধাও। মঙ্গলবার দুপুর আনুমানিক ১২টার পর থেকে তাদের কোনো সন্ধান পাওয়া যাচ্ছেনা।
বিদ্রোহী প্রার্থীরা হলেন, ইঞ্জিনিয়ার আনোয়ার হোসেন ও মামুন সরকার। তাদের সমর্থকদের দাবি- আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা তাদের উঠিয়ে নিয়ে গেছে।
সবুজবাগে দু'কেন্দ্রে সংঘর্ষ, শিশুসহ আহত ৫:
রাজধানীর সবুজবাগের মানিকনগরে ভোট দিতে না পেরে পুলিশের গাড়িতে হামলা চালিয়েছেন দুটি ভোটকেন্দ্রের ভোটাররা। তাদের ছত্রভঙ্গ করতে লাঠিচার্জ ও ফাঁকা গুলি ছোড়ে পুলিশ।
মঙ্গলবার বেলা সাড়ে ১১টায় মানিকনগর মডেল স্কুলের সামনে এ ঘটনা ঘটে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সকাল থেকেই মানিকনগর স্কুলের সামনে ভোটারদের লাইন দেখা যায়। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ভোটারের উপস্থিতিও বাড়ে। কিন্তু বেলা সাড়ে ১১টায় অনেক ভোটার কেন্দ্রে গিয়ে ভোট দিতে পারেননি। এ নিয়ে পুলিশের সঙ্গে অপেক্ষমাণ ভোটাররা তর্কে জড়িয়ে পড়েন।
পরে পুলিশ উত্তেজিত হয়ে কথা বলায় জনগণ পুলিশের গাড়ি ভাঙচুর করেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ প্রথমে লাঠিচার্জ ও পরে কয়েক রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছোড়ে।
এ বিষয়ে স্কুলে দায়িত্বরত উপ-পরিদর্শক (এসআই) মাহবুব বলেন, ভোটারদের সঙ্গে কোনো ঝামেলা হয়নি। কয়েকজন হৈ-হুল্লোড় করছিল। তাদের সরিয়ে দেওয়া হয়েছে।
এদিকে সবুজবাগ থানা এলাকার বৌদ্ধমন্দির সংলগ্ন স্কুলের ভোটকেন্দ্রে কাউন্সিলর প্রার্থী সাদিকুল ইসলামের সঙ্গে অপর এক প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষ হলে শিশুসহ পাঁচজন আহত হয়। আহতদের উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য স্থানীয় হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। তাৎক্ষণিকভাবে আহতদের পরিচয় জানা যায়নি।
সবুজবাগ থানার ডিউটি অফিসার উপ-পরিদর্শক (এসআই) আব্দুল গণি বলেন, গোলমালের খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে মোবাইল টিম পাঠানো হয়েছে।
জাল ভোটে অংশ নিলেন প্রিজাইডিং ও পোলিং কর্মকর্তারা:
ঢাকা সিটি করপোরেশন নির্বাচনে বিভিন্ন কেন্দ্রে সরকার সমর্থকদের কেন্দ্র দখল ও জাল ভোট দেয়ার পাশাপাশি এবার ভোট গ্রহণের দায়িত্বে থাকা প্রিজাইডিং অফিসার ও পোলিং কর্মকর্তারাও গণহারে জাল ভোটে অংশ নিতে দেখা গেছে।
নির্বাচনের দায়িত্বে থাকা এসব কর্মকর্তাদের ক্ষমতাসীন দল সমর্থিত মেয়র প্রার্থীর প্রতীকে সিল মারতে দেখা যায়।
মঙ্গলবার বেলা ১১টা থেকে সোয়া ১২টা পর্যন্ত বাংলাবাজার সরকারি বালিকা বিদ্যালয় ভোটকেন্দ্রে ভোটের কাজে নিয়োজিত পোলিং কর্মকর্তাকে জাল ভোটে অংশ নিতে দেখা গেছে।
ওই কেন্দ্রের দায়িত্বপ্রাপ্ত পোলিং কর্মকর্তাকে সরকার দলীয় মেয়র প্রার্থীর প্রতীকে একের পর এক সিল মেরে বাক্সে ভরতে দেখা যায়।
পুরান ঢাকার নারিন্দা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে বেলা সাড়ে ১১টার দিকে প্রিজাইডিং অফিসার ওবায়দুল ইসলামকে ব্যালট পেপারে সিল মারতে দেখা যায়।
ঢাকা দক্ষিণের ৪১ নম্বর ওয়ার্ডের ৬৪২ নম্বর ওই ভোটকেন্দ্রের সামনে থেকে সকালে ভোটারদের ফিরিয়ে দিতে দেখা যায় পুলিশ ও আনসার সদস্যদের। ভোটাররা কেন্দ্রে ঢুকতে গেলে দায়িত্বরত এক পুলিশ সদস্য তাদের বলেন, ‘ভেতরে সকলে নাস্তা করছে। এখন না পরে আসেন।’
এ সময় কোনো প্রতিবাদ না করেই ভোটারদের ফিরে যেতে দেখা যায়।
তবে ভেতরে গিয়ে তাদের কাউকে নাস্তা খেতে দেখা যায়নি। ওই ভোটকেন্দ্রের দোতলায় দুটি ভোটকক্ষের মধ্যে একটি বন্ধ ছিল। এক নম্বর বুথে যেতে চাইলে তাদের বাঁধা দেওয়ার চেষ্টা করেন কার্ডবিহীন দুই ব্যক্তি।
পরে ফাঁক দিয়ে উঁকি দিয়ে দেখা যায়, প্রিজাইডিং অফিসার ওবায়দুল ইসলাম, পোলিং অফিসার, ইলিশ মাছ প্রতীকের পোলিং এজেন্ট এবং দুজন কার্ডহীন ব্যক্তি ব্যালট পেপারে সিল মারছেন। তারা সবাই ইলিশের সিল দিচ্ছিলেন। এ সময় অন্য কোনো প্রার্থীর পোলিং এজেন্টকে সেখানে দেখা যায়নি।
সাংবাদিকের উপস্থিতি টের পেয়ে সবাই এরপর যার যার আসনে বসে পড়েন। প্রিজাইডিং অফিসার বুথ থেকে বেরিয়ে নিচে নেমে যান।
প্রিজাইডিং অফিসারের সঙ্গে কথা বলতে চাইলে ‘নির্বাচন কমিশন থেকে লোক আসার’ অজুহাত দেখিয়ে তিনি নিজের কক্ষে ঢুকে পড়েন।
ঢাবির কেন্দ্রেগুলোতে ছাত্রলীগের জাল ভোটের মহোৎসব:
ঢাকা সিটি করপোরেশন নির্বাচনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকার সবকটি ভোটকেন্দ্রের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে ছাত্রলীগ। এই এলাকার প্রতিটি কেন্দ্রের সামনে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা মহড়া দিচ্ছে।
এসব কেন্দ্রে বিএনপি সমর্থিত প্রার্থী মির্জা আব্বাসের এজেন্টদের প্রবেশ করতেই দেয়া হয়নি।। শুধু তাই নয় সাঈদ খোকনের সমর্থকরাই মগ প্রতীকের এজেন্ট সেজে ইলিশ মার্কায় জাল ভোট দিচ্ছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্জন হল কেন্দ্র ঘুরে দেখা গেছে, কেন্দ্রটিতে চলছে জাল ভোটের মহোৎসব। এখানে বিএনপি সমর্থিত মেয়র প্রার্থী মির্জা আব্বাসের একজন এজেন্টও নেই। ছাত্রলীগ মগ প্রতীক এজেন্টদের বের করে দিয়ে খোকনের সমর্থকরাই মগ প্রতীকের এজেন্ট সেজে ইলিশ মার্কায় জাল ভোট দিচ্ছে।
শহীদুল্লাহ হলের পেশ ইমাম হাফেজ লোকমান জানান, তাকে কেন্দ্র থেকে বের করে দিয়েছে ছাত্রলীগের ছেলেরা। তিনি সকাল সাড়ে আটটার দিকে ভোট দিতে গিয়েছিলেন।
ছাত্রলীগ কর্মীরা তাকে জিজ্ঞেস করে আপনি কিসে ভোট দেবেন? জবাবে তিনি বলেন কিসে ভোট দেবো না দেবো তা আমার বিষয়। আমি কাউকে বলবো না। তখন ছাত্রলীগ কর্মীরা বলেন, আপনি চলে যান, আপনার ভোট দেয়া লাগবে না। এরপর তাকে বের করে দেয়া হয়।
হাফেজ লোকমানের মতো আরো অনেক ভোটার একই ধরনের অভিযোগ করেছেন। ভোটাররা জানান, তাদেরকে ভোট প্রদানে বাধা দিচ্ছে ছাত্রলীগের কর্মীরা।
এ ব্যাপারে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ড. মামুন আহমেদ বলেন, এটি ভোট নয়, প্রহসন। ভোটের আয়োজন আছে, কিন্তু সঠিক ভাবে ভোট দেয়ার আয়োজন নেই। প্রতারণা করার সুযোগ অবারিত।
ভোটকেন্দ্রে ব্যালট পেপার নেই!
ভোটকেন্দ্র থেকে ব্যালট পেপার নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ করেছেন খোদ প্রিজাইডিং অফিসার।
খিলগাঁও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে দায়িত্বরত প্রিজাইডিং অফিসার রুহুল আমিন জানান, ওই কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ শুরুর আগেই সব ব্যালট পেপার নিয়ে গেছে কিছু যুবক। তবে তাদের পরিচয় সম্পর্কে কিছু জানাতে পারেননি তিনি।
এ দিকে, ওই কেন্দ্রের বাইরে ভোটারদের সারিবদ্ধ দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা গেছে। কেন্দ্রে কোন ব্যালট পেপার না থাকায় তারা কেউ ভোট দিতে পারেন নি।
আনসারের পোশাকে ছাত্রলীগ:
ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে ৩৬ নং ওয়ার্ডে আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থীর প্রতীক "ঘুড়ি" ব্যাজ লাগিয়ে ও আনসার বাহিনীর পোশাক পরে ভোট কেন্দ্রে অবস্থান করছে ছাত্রলীগ কর্মীরা।
ছাত্রলীগ কর্মীরা “আদর্শ ঢাকা আন্দোলনের” সমর্থিত প্রার্থী মাওলানা সালেহ সিদ্দিকীর লাটিম প্রতীকের নির্বাচনী এজেন্টদেরকে মারধর করে বের করে দিয়েছে। এমনকি তাদেরকে নির্বাচন কেন্দ্রের বাহিরেও দাঁড়াতে দিচ্ছে না বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
লাটিম প্রতীকের এজেন্টদের অভিযোগ, ৩৬ নং ওয়ার্ডের ৬টি কেন্দ্রের বাহিরের পরিবেশ ভাল দেখালেও অধিকাংশ বুথে মেয়র প্রার্থী আনিসুল হকের ঘড়ি, কাউন্সিলর প্রার্থী খোকনের ঘুড়ির ব্যাজ লাগিয়ে ও আনসারের পোশাক পরে ছাত্রলীগ কর্মীরা অবস্থান গ্রহণ করছে।
ছাত্রলীগের রমনা সভাপতি মাসুদের নেতৃত্বে শতাধিক ছাত্র, যুব ও শ্রমিকলীগের কর্মীরা ভোর বেলা থেকে বিটিসিএল আইডিয়াল (টি এন্ড টি স্কুল) কেন্দ্রের ২৯ টি বুথে অবস্থান করে।
সকাল ৭টায় লাটিম প্রতিকের এজেন্টরা প্রিজাইডিং অফিসারের নিকট পোলিং এজেন্ট নিয়োগ ফরম জমা দিয়ে বিভিন্ন বুথে বসতে গেলে ভেতরে অবস্থানরত ছাত্রলীগ কর্মীরা আইন-শৃঙ্খলা বহিনীর সামনে এজেন্টদের মারধর করে কাগজপত্র রেখে তাড়িয়ে দেয়।
লাটিমের এজেন্টরা প্রিজাইডিং অফিসারকে বিষয়টি অবহিত করলেও তারা কোন ব্যবস্থা নেয়নি।
সকাল ৮টায় নয়াটোলা মাদরাসা কেন্দ্রে যুবলীগ নেতা ভোলার এমপি নুরুন্নবী শাওন শতাধিক নেতা-কর্মী নিয়ে কেন্দ্রের ভেতরে প্রবেশ করে।
শেরে বাংলা স্কুল এন্ড কলেজ কেন্দ্রে গেলে লাটিমের কর্মী এডভোকেট মনিরুজ্জামানকে ছাত্রলীগ কর্মীরা ব্যাপক মারধর করে ও সেখান থেকে ৪ জনকে পুলিশের হাতে তুলে দেয়।
লায়ন্স স্কুল কেন্দ্রে ছাত্রলীগ নেতা দীপনের নেতৃত্বে অবস্থান গ্রহণ করে ব্যাপক জালভোট প্রদান করছে, হুমকি-দমকি দিয়ে অনেক ভোটারকে মারধর করে তাড়িয়ে দিয়েছে।
প্রেসক্লাবে এজেন্টদের ওপর হামলা:
পল্টন, প্রেসক্লাব এলাকার বিভিন্ন কেন্দ্র থেকে ২০ দল সমর্থিত প্রার্থীদের ২ শতাধিক এজেন্টকে বের করে দিয়েছে আওয়ামী লীগ সমর্থকরা।
সেগুনবাগিচা স্কুলে কোনো গণমাধ্যম কর্মীকে প্রবেশ করতে দেয়া হচ্ছে না। এ কেন্দ্রে ভোটগ্রহণের নানা অনিয়মের ছবি তুলতে গেলে দৈনিক যুগান্তরের সিনিয়র ফটো সাংবাদিক শামীম নূরের উপর হামলা চালায় তারা।
বিভিন্ন কেন্দ্র থেকে বের করে দেয়া এজেন্টরা জাতীয় প্রেসক্লাবের মাঠে সকাল ৯টার দিকে এক সমাবেশে মিলিত হয়। এজেন্টদের ওই সমাবেশেও হামলা চালায় সেগুনবাগিচা থেকে আসা একদল আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগ।
সেগুনবাগিচা স্কুল, কার্জন হল, ঢামেক, শান্তিনগর ইন্টারন্যাশনাল ক্যাডেট স্কুল, ফকিরাপুল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, পূর্বগোরান মদিনাতুল উলুম মাদ্রাসা, নটরডেম স্কুল, পেরিশ ইন্টারন্যাশনাল স্কুল ও সমিরুন্নেছা স্কুলের প্রায় সব বুথ থেকে ২০ দল সমর্থিত প্রার্থীদের এজেন্টদের বের করে দেয়া হয়েছে।
ভোট কেন্দ্রে সাংবাদিক ক্যামেরা নিষিদ্ধ:
ভোট কেন্দ্রের ৪০০ গজের মধ্যে সাংবাদিক প্রবেশ করতে দিচ্ছে না আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বহিনীর সদস্যরা। ক্যামেরা নিয়ে প্রবেশ করতে না পারায় বেসরকারি টিভি চ্যানেলগুলো ভোটকেন্দ্রের দৃশ্য সরাসরি সম্প্রচার করতে পারছে না।
নির্বাচন কমিশনের দোহাই দিয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকে এ ধরনের নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে।
খিলগাঁও মডেল বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রে সাংবাদিকদের লাইভ করতে দেওয়া হচ্ছে না। ছবি তুলতেও নিষেধ করা হচ্ছে।
মিরপুরে গ্রেফতার:
এদিকে মিরপুর ১৩ নং ওয়ার্ড- এ বিরোধীদল সমর্থিত কাউন্সিলর প্রার্থী এ্যাডভোকে এনায়েত হোসেন (কাটা চামচ প্রতিক)- এর ২৯ জন এজেন্টকে গেফতার করেছে পুলিশ।
কাউন্সিলর প্রার্থী এ্যাডভোকেট এনায়েত হোসেন অভিযোগ করে বলেন, মনিপুর স্কুল থেকে ১২ জন, ফুলকি স্কুল থেকে ৫ জন এবং ভিক্টোরিয়া স্কুল থেকে ১২ জন, সর্বমোট ২৯ জন এজেন্টকে সম্পূর্ণ বেআইনীভাবে আটক করেছে পুলিশ।
এছাড়া মিরপুরেরর ৩ নং ওয়ার্ডের সেনপাড়া পর্বতা প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্র থেকে ৫ জনকে আটক করার অভিযোগ পাওয়া গেছে।
রাজধানীর সুরিটোলা কেন্দ্রে ভাঙচুর, ভোট গ্রহণ স্থগিত:
রাজধানীর সুরিটোলা প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ২ নং ভোট কেন্দ্রে ভোট গ্রহণ স্থগিত ঘোষণা করা হয়েছে। প্রিজাইডিং অফিসারের নির্দেশে এই কেন্দ্রের ভোট গ্রহণ স্থগিত করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
সেখানে ক্ষুব্ধ ভোটাররা কেন্দ্রে ভাঙচুর করেছে বলে জানা গেছে। এ সময় বেশ কয়েকটি ব্যালট বাক্স ভেঙে গেছে। এদিকে এই কেন্দ্রের ভোট গ্রহণ স্থগিত ঘোষণার পর পরই ওই বিদ্যালয়ে অপর দুটি কেন্দ্রের ভোট গ্রহণও স্থগিত রয়েছে।
ঢাকা দক্ষিণের ৪০ কেন্দ্র দখলের অভিযোগ:
ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ৪০টি ভোটকেন্দ্র সরকারি দলের লোকজন দখল করে নিয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
মঙ্গলবার ভোটগ্রহণ শুরুর আধাঘণ্টা পর বিএনপি সমর্থিত মেয়র প্রার্থী মির্জা আব্বাসের নির্বাচনী প্রেস উইংয়ের কর্মকর্তা মাহমুদ হাসান এ অভিযোগ করেন।
তিনি জানান, দখলকৃত ভোটকেন্দ্রগুলো হলো- ফকিরাপুল প্রাথমিক বিদ্যালয়, নটরডেম কলেজ, পূর্ব গোরান মদিনাতুল উলুম মাদরাসা, উত্তর গোরান স্কুল, প্যারিস ইন্টারন্যাশনাল স্কুল, হাবিবুল্লাহ বাহার বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ, কমলাপুর স্কুল, যাত্রাবাড়ী স্কুল, সিদ্ধেশ্বরী গার্লস স্কুল অ্যান্ড কলেজ, সেন্ট্রাল কলেজ, শান্তিপুর উচ্চ বিদ্যালয়সহ ৪০টি কেন্দ্র।
আফরোজা আব্বাস নাজেহাল:
মঙ্গলবার সকালে ফকিরাপুল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্র ভিজিট করতে গেলে আফরোজা আব্বাসকে কেন্দ্র থেকে অপমান করে বের করে দেয়া হয়। পরে সেখানে দায়িত্বরত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে আওয়ামী সমর্থিত ওয়ার্ড কমিশনার প্রার্থী বলেন, 'আপনারা ঘুমিয়ে থাকেন, যা করা আমার লোকজনই করবে।'
ওই ওয়ার্ড কমিশনারের নাম মমিনুল হক সাঈদ। তিনি ৯ নং ওয়ার্ডের আওয়ামী লীগ সমর্থিত কমিশনার প্রার্থী। ঠেলাগাড়ি মার্কা প্রতীকে তিনি নির্বাচন করছেন।
প্রিজাইডিং অফিসার ছাড়াই ভোট গ্রহণ:
ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে ২৩ নং ওয়ার্ডের বাংলাদেশ কমার্স কলেজ কেন্দ্রে প্রিজাইডিং অফিসার ছাড়াই ভোট গ্রহণ চলছে।
সকালে ভোট গ্রহণ শুরু হওয়ার পর থেকে সেখানে প্রিজাইডিং অফিসার ছিল না। সকাল সোয়া ১০টায় এই রিপোর্ট লেখা পর্যন্তও প্রিজাইডিং অফিসারকে পাওয়া যায়নি।
কি বা কোন কারণে তিনি সেখানে নেই তাও এখন পর্যন্ত নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
এদিকে একই ওয়ার্ডের ফয়জুর রহমান আইডিয়াল স্কুলে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী কাউন্সিলর প্রার্থী মোশতাক আহমেদকে ভোট দিতে বাধা দেয়া হলে সংঘর্ষ বেধে যায়। ফলে সেখানে ভোট গ্রহণ শুরু করতে আধা ঘণ্টা দেরী হয়।
কাউন্সিলরের ছেলেকে মারধরের অভিযোগ তাবিথের:
ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে তেজগাঁও মডেল হাইস্কুল কেন্দ্রে বিএনপি সমর্থিত এক কাউন্সিলর প্রার্থীর ছেলেকে মারধরের অভিযোগ এসেছে।
বিএনপি সমর্থিত মেয়র প্রার্থী তাবিথ আউয়াল এ বিষয়ে প্রিজাইডিং অফিসারের কাছে লিখিত অভিযোগ করেছেন।
মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে জোহরা বেগমের (লাটিম প্রতীক) ছেলে আরিফুর রহমানসহ দুই ছেলেকে মারধরের অভিযোগ পাওয়া যায়।
এ বিষয়ে তাবিথ তাৎক্ষণিকভাবে প্রিজাইডিং অফিসারের কাছে লিখিত অভিযোগ দেন। তার পক্ষের কোন পোলিং এজেন্টকে ভোটকেন্দ্রে ঢুকতে দেয়া হয়নি বলেও অভিযোগ করেন তাবিথ।
এর আগে সরকারি বিজ্ঞান কলেজ কেন্দ্র পরিদর্শনের সময় তাবিথ অভিযোগ করেন, অনেক কেন্দ্রে ভোটারদের বাধা দেয়া হচ্ছে।
ভোটকেন্দ্র দখলের অভিযোগ মনজুরের:
চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মেয়র পদে বিএনপি সমর্থিত প্রার্থী মোহাম্মদ মনজুর আলম ভোট শুরু হওয়ার পর থেকে কেন্দ্র দখলের অভিযোগ করেন।
সকাল ৯টা ৪০ মিনিটে তিনি উত্তর কাট্টলি হাজি দাউদ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভোটকেন্দ্রে ভোট দেওয়ার পর ভোটকেন্দ্রে দখলের অভিযোগ করে সাংবাদিকদের মনজুর আলম বলেন, পাহাড়তলী, জালালাবাদ, বায়োজিদ এলাকায় বেশকিছু ভোটকেন্দ্র দখল করা হয়েছে। এসব এলাকায় আমাদের এজেন্টদের ভোটকেন্দ্রে ঢুকতে দেওয়া হচ্ছেনা।
মনজুরের নির্বাচন কমিটির আহবায়ক আবদুল্লাহ আল নোমান বলেন, জামালখান, নিউমার্কেট, আগ্রাবাদসহ বেশকিছু এলাকায় ভোটকেন্দ্রে আমাদের এজেন্টদের ঢুকতে দেয়া হচ্ছে না। কেন্দ্র দখল করে নেওয়া হয়েছে। যেসব কেন্দ্রে এজেন্টরা ঢুকতে পেরেছে সেখানে এজেন্টদের ভয়ভীতি দেখানো হচ্ছে।
'জয় বাংলা' স্লোগান দিয়ে ব্যালটে সিল:
চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের দক্ষিণ পাহাড়তলী ওয়ার্ডের আলী আহমদ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্র ভোটারদের বের করে দিয়ে 'জয় বাংলা' স্লোগান দিয়ে আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থীদের পক্ষে ব্যালটে সিল মারা অভিযোগ পাওয়া গেছে।
কেএইচ





