কুষ্টিয়ায় ঈদের বাজার জমে উঠেছে। শহর এবং শহরতলীর বিপণিবিতানগুলোতে ক্রেতাদের উপচেপড়া ভিড়। রোজার প্রথম থেকেই বিপণিবিতানগুলোতে ক্রেতাদের ভিড় লক্ষ করা যাচ্ছে।
সপ্তাহ খানেক বৃষ্টির কারণে ঈদের বাজারে ভাটা পড়ে। কিন্তু জুনের শেষ দিন সরকারি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের বেতনভাতা হাতে পাওয়ার পর চাকরিজীবীরা ছুটছেন শপিংমলগুলোতে। এতে শহরের প্রতিটি বিপণিবিতানে উপচে পড়া ভিড় লক্ষ করা যাচ্ছে।
সকাল ১০টার পর থেকে শহরের প্রধান সড়কগুলোতে রিকশা, ভ্যান, সিএনজি ও অটোরিকশার চাপে বেশিরভাগ সড়কে ভয়াবহ যানজটের সৃষ্টি হয়।
শহরের মজমপুর থেকে শুরু হওয়া এনএস রোড কেন্দ্রিক দোকানগুলোতে ক্রেতাদের ভিড় শুরু হয়। অভিজাত মার্কেটগুলোতে ক্রেতাদের উপচে পড়া ভিড়। শহরের বিআরবি কেবলসের লাভলী টাওয়ারে সকাল থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত ক্রেতাসাধারণের ভিড় লক্ষ করা যায়। শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত এ মাকের্টের মিরা শাড়িঘর ও বেনারসি শাড়িঘরে মেয়েদের ভিড় বেশি।
মিরা শাড়ি ঘরের মালিক নিশিত বিশ্বাস জানান, বিক্রি ভালো। সামনের দিনগুলোতে আরো বেশি বিক্রি হবে।
বেনারসি শাড়িঘরের মালিক শামসুল হক জানান, বিক্রি শুরু হয়েছে, তবে সামনের দিনগুলো আরো বেশি বিক্রির আশা করছি।
তিনি জানান, এবার শাড়ি ও কাপড়ের নতুন নতুন কালেকশন আছে। শাড়ি এবং কাপড়ের মূল্য ক্রেতাসাধারণের সামর্থ্যরে মধ্যে আছে।
একই মার্কেটে ফাতেমা ফ্যাশনে শিশু ও নারীদের পাশাপাশি পুরুষের পাঞ্জাবি ও ব্র্যান্ডের কোম্পানির গেঞ্জি পাওয়া যায়। একই মালিকের এই প্রতিষ্ঠানের প্রতিটি দোকানেই সব বয়সের মানুষের ভিড় লেগেই আছে।
ফাতেমা ফ্যাশনের কর্মচারী জানান, বিক্রি ভালো। আমাদের সব ধরনের কালেকশন থাকায় ক্রেতারা একদামে ভালো পণ্য ক্রয় করে সন্তুষ্ট। এ মাকের্টের ‘স্ট্রেপ’দোকানে সেন্ডেল ও শিশুদের বিভিন্ন রকমের পোশাকের সমারোহ ক্রেতা সাধারণকে আকৃষ্ট করতে পেরেছে।
শহরের ইসলামীয়া কলেজ মার্কেটের মৌ ফ্যাশনে সবচেয়ে বেশি ভিড় লক্ষ্য করা যায়। এখানে সব বয়সের মানুষের পোশাকাদির সমারোহ রয়েছে।
তমিজ উদ্দিন সুপার মার্কেট, কুষ্টিয়া হাইস্কুল মার্কেট, চাঁদ সুলতানা স্কুল মার্কেট, শতাব্দি ভবন মার্কেট, জেলা পরিষদ মার্কেট, বঙ্গবন্ধু সুপার মার্কেট, রজব আলী মার্কেটের দোকানগুলোতেও ক্রেতার ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। পোশাকের পাশাপাশি থানার সামনে জুতা স্যান্ডেলের দোকানেও ক্রেতাদের উপচে পড়া ভিড়।
স্বর্ণের দোকানেও ক্রেতাদের উপস্থিতি লক্ষ্য করার মতো। এ ছাড়া প্রসাধনীর দোকানগুলোতে বিভিন্ন বয়সের মেয়েদের ভিড় লেগেই রয়েছে।
এদিকে রোজার শুরু থেকেই অনেক টেইলার্সে অর্ডার নেয়া বন্ধ করে দিয়েছে। টেইলার্সের দোকানগুলোতে রাত দিন নির্ঘুম সময় পার করছেন দর্জি এবং শ্রমিকেরা।
শহরের শাপলা মোড়ে অবস্থিত নিডস টেইলার্সের মালিক এস এস কাদেরী শাকিল জানান, রোজার শুরু থেকেই অর্ডার নেয়া বন্ধ করেছি। অনেকে অর্ডার দিতে এসে ফিরে যাচ্ছেন।
তিনি জানান, আমাদের দর্জি এবং কারিগররা রাত দিন কাজ করছেন। ঈদের বাজার করতে আসা ক্রেতাসাধারণ জানান, বাজারে সব ধরনের পোশাকাদি এবং জিনিসপত্র পাওয়া গেলেও দাম বেশি বলে মনে হচ্ছে।
এমকে





