ময়মনসিংহের ফুলবাড়ীয়ায় দীর্ঘদিন ধরে মাদ্রাসা পড়ুয়া ছাত্রীকে প্রেমের প্রস্তাব দিয়ে উত্যক্ত করে আসছে পাশের বাড়ির এক বখাটে। কিন্তু মেয়েটি এতে সাড়া না দেয়ায় বেধড়ক পিটিয়ে ও হাতে দা দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর আহত করেছে অভিযুক্ত ওই বখাটে এবং তার পরিবারের লোকজন। এ ঘটনায় ছাত্রীর বাবা ও মাকেও পিটিয়ে আহত করা হয় বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

পরে স্থানীয়রা গুরুতর আহত অবস্থায় ওই ছাত্রীকে উদ্ধার করে ফুলবাড়ীয়া উপজেলা হাসপাতালে ভর্তি করেছেন। ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার ৫ নং দেওখোলা ইউনিয়নের দক্ষিণ দাসবাড়ী গ্রামে। এদিকে ফুলবাড়ীয়া থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছে আহত মাদ্রাসাছাত্রীর (১৮) মা । কিন্তু ঘটনার ৬ দিন অতিবাহিত হলেও পুলিশ অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেয়নি বলে অভিযোগ তুলেছেন ভুক্তভোগী পরিবারটি। তবে পুলিশ বলছে ভিন্ন কথা। প্রেমের প্রস্তাব বা উত্যক্তের কোনো ঘটনায় নাকি ঘটেনি।

শনিবার (২ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে সরেজমিনে গিয়ে আহত ওই ছাত্রীকে উপজেলা হাসপাতালে চিকিৎসারত অবস্থায় দেখা যায়। এ সময় মেয়েটি গণমাধ্যমকর্মীদের সামনে পেয়ে ঘটনার বিচার চেয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন।

পরিবারের লিখিত অভিযোগে জানা যায়, ফুলবাড়ীয়া উপজেলার ৫ নং দেওখোলা ইউনিয়নের দক্ষিণ দাসবাড়ী গ্রামের হামিদুল হকের মেয়ে তানিয়া আক্তার কাতলাসেন কাদেরিয়া কামিল মাদ্রাসার শিক্ষার্থী। মাদ্রাসায় যাওয়া আসার পথে দীর্ঘদিন ধরে ওই ছাত্রীকে প্রেমের প্রস্তাব দিয়ে উত্যক্ত করে আসছে পাশের বাড়ির আবুল হোসেনের ছেলে বখাটে শরীফুল ইসলাম শরীফ (২২)। কিন্তু মেয়েটি শরীফের প্রেমের প্রস্তাবে সাড়া দেয়নি।

অন্যদিকে বখাটে শরীফের উত্যক্তের কারণে একপর্যায়ে মেয়েটি তার পড়ালেখা বন্ধ করে দেয়। পরে সে বাড়ির পাশে একটি ব্র্যাক স্কুলে শিক্ষিকা হিসেবে চাকুরি নেয়। এরপরেও শরীফের উত্যক্ত থেকে মুক্তি পায়নি সে। প্রতিদিন বাড়ির সামনে এসে অকথ্য ও নোংরা ভাষায় কথা বলে। পরে শরীফের পরিবারকে বিষয়টি জানালে তারা ছেলের বিচার না করে উল্টো মেয়ের পক্ষকে শাসিয়েছেন।

এদিকে গত ২৮ জানুয়ারি বিকেলে তানিয়া ব্র্যাক স্কুল থেকে বাড়ি ফেরার পথে তার পথরোধ করে বখাটে শরীফ। এ সময় তাদের মধ্যে কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে তানিয়াকে জোরপূর্বক উঠিয়ে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করা হয়। তানিয়া না যাওয়ায় তাকে বেধড়ক মারপিট করতে থাকে ওই বখাটে। তখন তার ডাক চিৎকারে স্থানীয় লোকজন ও মা লাইলি এবং বাবা হামিদুল এগিয়ে আসলে শরীফের ভাই হীরা, বাবা আবুল হোসেনসহ আরও অজ্ঞাত কয়েকজন মিলে তাদেরকেও মারধর করেন। এ সময় শরীফ বাড়ি থেকে দা নিয়ে এসে তানিয়ার মাথায় কোপ দিতে চাইলে তার হাতে কোপ লেগে গুরুতর আহত হয়। পরে স্থানীয়রা গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে উপজেলা হাসপাতালে নিয়ে ভর্তি করেন।

এ ঘটনার পর তানিয়ার মা লাইলি আক্তার বাদী হয়ে ফুলবাড়ীয়া থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দিলেও এখন পর্যন্ত মামলা নথিভুক্ত করেনি পুলিশ। এমন কি ঘটনার ৬ দিন অতিবাহিত হলেও পুলিশ অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থায় নেয়নি বলে অভিযোগ তুলেছেন ভুক্তভোগী ওই পরিবারের সদস্যরা। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে সঠিক তদন্ত করে কঠিন শাস্তির দাবি জানিয়েছেন প্রশাসনের প্রতি।

এ ব্যাপারে ফুলবাড়ীয়া থানার ওসি শেখ কবিরুল ইসলাম জানান, ঘটনাটি প্রেম নয়, জমি সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে মারামারি হয়েছে। বাদী পক্ষের লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। ঘটনার তদন্ত চলছে। তদন্ত শেষে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

অন্যদিকে অভিযুক্ত শরীফের বাবা আবুল হোসেন অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, আমরা সবাই একই গোষ্ঠি এবং পাশাপাশি বাড়ি। তাদের সাথে অনেক আগে থেকেই আমাদের জমি নিয়ে বিরোধ চলছে। প্রেম বা উত্যক্ত এমন ঘটনা নয়। জমি সংক্রান্ত বিষয় নিয়েই ঝগড়া হয়েছিল। মারামারির সময় আমি আমার ছেলেদের ফিরিয়ে নিয়ে আসছি। যেনো ঝগড়া বন্ধ হয়ে যায়।