পালিয়ে যাওয়া সরকার তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেনি রোহিঙ্গা সমস্যার সমাধান অসম্ভব হয়ে পড়েছে। আরাকান তো এখন আরাকান আর্মির হাতে। তাদের সঙ্গে যোগাযোগ না করে তো রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন সম্ভব নয়। এছাড়া আসিয়ান একটা সম্ভাব্য চ্যানেল হতে পারে, যার মাধ্যমে আমরা রোহিঙ্গা সমস্যার সমাধান।করতে পারি বলে বিশ্লেষকরা মনে করেন।
বৃহস্পতিবার দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবের জহুর হোসেন চৌধুরী হলে ‘রোহিঙ্গা, রাখাইন ও মিয়ানমারের পরিপ্রেক্ষিতে: বাংলাদেশের ঝুঁকি’ শীর্ষক আয়োজিত এক সেমিনারে আলোচকরা এমন মন্তব্য করেন।
আলোচকরা বলেন, মিয়ানমার আমাদের কাছের একটা প্রতিবেশী হলেও তারা আমাদের কাছে অচেনা। তাদের সমাজ, সংস্কৃতি কিংবা রাজনীতি সম্পর্কে আমাদের তেমন কিছুই জানা নেই।
আলোচকদের একজন সাবেক কূটনীতিক মোহাম্মদ সুফিউর রহমান বলেন, রাখাইনে হামলার দুই সপ্তাহ আগে ইমেইলের মাধ্যমে বাংলাদেশ সরকারকে জানানো হয়েছিলো। তিনি বলেন, রাখাইনে হামলা হয় ২৫ আগস্ট রাতে। আমি এর দুই সপ্তাহ আগে সরকারকে একটা লম্বা চিঠি ইমেইল করেছিলাম। আমরা বলি যে, আমরা হয়তো আরেকটা মুসলমান বিতাড়নের ঘটনা দেখতে পাবো। বুথিডং এবং রাখিডং থেকে এটা করা হবে। এটি প্রতিরোধে চিঠিতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানানোর কথাও বলা হয়। এত সঠিক তথ্য মনে হয় আর কোনো দূতাবাস থেকে দেওয়া হয়েছে। তাও ১৪ দিন আগে।
মানবিক করিডোর নিয়ে সুফিউর রহমান বলেন, এই করিডোরের কথা শুনে মাথায় আগুন লাগার কোনো কারণ নেই। এটা বুঝতে হবে যে, এর পেছনে একটা উদ্দেশ্য ছিলো। ২০১৬–১৭ সালেই এটা প্রস্তাব করা হয়েছিলো। এর উদ্দেশ্য ছিলো মংডু এবং বুথিডংয়ে মানবিক ত্রাণ পৌঁছানো এবং মিয়ানমারের মধ্যকার রোহিঙ্গাদের বাঁচানো।
গবেষণা কেন্দ্রের প্রধান নির্বাহী ড. শাকিল আহমেদের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সরকার ও রাজনীতি বিভাগের সাবেক অধ্যাপক ড. দিলারা চৌধুরী, নেক্সাস ডিফেন্স এন্ড জাস্টিসের প্রধান নির্বাহী বিগ্রেডিয়ার জেনারেল (অব.) মোহাম্মদ হাসান নাসির, মালয়েশিয়ার সুলতান জয়নুল আবেদিন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও গবেষক ড. মাহবুবুল হক ।
মানবিক করিডোর নিয়ে অধ্যাপক দিলারা চৌধুরী বলেন, মানবিক করিডোর নিয়ে এদেশে প্রোপাগান্ডা ছড়ানো হয়েছে। বিশেষ করে একটি ভারতীয় পত্রিকা থেকে এই প্রোপাগান্ডা ছড়ানো হয়। এই করিডোর নিয়ে সার্বভৌমত্বের যে হুমকির কথা বলা হয়েছিলো, তা আসলে সত্য নয়।
হাসান নাসির রোহিঙ্গা সমস্যার কারণে বাংলাদেশের নিরাপত্তা হুমকি সম্পর্কে আলোচনা করেন। এছাড়া এর কারণে বাংলাদেশের সৃষ্ট সামাজিক সমস্যাগুলোও তুলে ধরেন। তিনি বলেন, রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে কূটনৈতিক তৎপরতা জোরদা করতে হবে। চীন ও আসিয়ানভুক্ত দেশগুলোর মাধ্যমে চাপ প্রয়োগ করতে হবে। কেননা রোহিঙ্গা সমস্যা বাংলাদেশের জন্য একটি স্থায়ী সমস্যা হিসেবে প্রতীয়মান হতে পারে। এক্ষেত্রে সীমান্তে নিরাপত্তা জোরদার করতে হবে। একই সঙ্গে গোয়েন্দা নজরদারি বাড়াতে হবে।
মাহবুবুল হক বলেন, মিয়ানমারের রেঙ্গুনে বাংলাদেশ বিরোধী মনোভাব বিদ্যমান। আমাদের প্রতি তাদের অবিশ্বাস রয়েছে। মিয়ানমার আমাদের প্রতিবেশী। কিন্তু তাদের সঙ্গে আমাদের কিছু বাণিজ্য যোগাযোগ থাকলেও সাংস্কৃতিক যোগাযোগ একেবারেই নেই। এর বাইরে মিয়ানমারের সঙ্গে আমাদের জায়গাটা অবিশ্বাসের। এই অবিশ্বাসটা কমাতে হবে। আসিয়ান রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানে ইতিবাচক ভূমিকা পালনের চেষ্টা করছে। আসিয়ানের মাধ্যমে এই সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করা যেতে পারে।
এমএম