রংপুরে সাম্প্রতিক কয়েক দিনের টানা বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে সৃষ্ট বন্যায় প্রায় ৩৫ কোটি টাকা মূল্যের মাছের ক্ষতি হয়েছে।
জেলা মৎস্য অফিসের প্রাথমিক ক্ষয়ক্ষতির বিবরণ থেকে জানা গেছে, মাছচাষীরা পোনা মাছ, বড় মাছ ও অবকাঠামোসহ মোট তিন ধরনের ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছেন। এর আনুমানিক মূল্য প্রায় ৩৫ কোটি টাকা। তবে ক্ষতিগ্রস্ত মাছচাষীদের দাবি মাছের ক্ষতির পরিমাণ উল্লেখিত পরিমাণের চেয়েও বেশি।
সরেজমিন দেখা গেছে, বৃহস্পতিবার থেকে শনিবার পর্যন্ত টানা ভারি ও মাঝারি বৃষ্টি এবং পাহাড়ি ঢলে নদনদী প্লাবিত হওয়ায় এখনো জেলার বিভিন্ন উপজেলায় একরের পর একর জমি বন্যার পানিতে তলিয়ে রয়েছে।
মিঠাপুকুর উপজেলার পায়রাবন্দ ইউনিয়নের বিরাহীমপুর গ্রামের বাসিন্দা পল্লী চিকিৎসক আব্দুল বাতেন জানান, তিনি ৪০ শতাংশের পুকুরে মাছ চাষ করেছেন। তার পুকুরে ৩ বছরের পুরাতন মাছও রয়েছে। ৮৮ সালের বন্যায় তার পুকুর পানিতে ভেসে গিয়েছিল ঠিকই। কিন্তু তিনি দাবি করেন সাম্প্রতিক বন্যা ৮৮ সালের বন্যাকে হার মানিয়েছে। এ বন্যায় তার প্রায় ৩ লাখ টাকা মূল্যের মাছের ক্ষতি হয়েছে।
মাছচাষী রফিকুল ইসলাম জানান, মৎস্য অফিসের প্রাথমিক হিসেবে অনেক ক্ষতিগ্রস্ত পুকুর এবং জলাশয়ের নাম আসেনি। যদি আসত তবে ক্ষতির পরিমাণ আরও কয়েকগুণ বেশি হতো। তিনি প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্ত মাছচাষীদের তালিকা এবং ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণের দাবি জানান।
ক্ষতিগ্রস্ত নার্সারি রমিকা বহুমুখী মৎস্য খামারের প্রোপাইটার সামিউল ইসলাম বলেন, ‘তার নার্সারিতে ১২ মণ পোনা মাছ ছিল। এ পোনা মাছ থেকে তিনি এবার ৮-১০ লাখ টাকা আয় করতেন বলে তার দাবি। এ ছাড়া তার সাড়ে তিন একর পুকুরের মাছ ভেসে গেছে বলে তিনি দাবি করেন।
তিনি আরও বলেন, ‘কৃষি ব্যাংক, গ্রামীণ ব্যাংক এবং ব্র্যাক এনজিও থেকে প্রায় দেড় লাখ টাকা ঋণসহ ধারদেনা করে মাছের রেনু ও মাছের খাবার কিনেছিলাম। কিন্তু বন্যায় মাছ ভেসে যাওয়ায় ঋণের টাকা পরিশোধ কিভাবে করব তা নিয়ে চিন্তায় আছি।’
জেলা মৎস্য কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, জেলায় আনুমানিক ১৭ হাজার ১৮ হেক্টর আয়তনের ৬ হাজার ৪৬৬টি পুকুর সম্পূর্ণ পানিতে ভেসে গেছে। এতে প্রায় ৩ হাজার ৩১ টন মাছ ভেসে গেছে। এর আনুমানিক মূল্য ৩৩ কোটি ৮২ লাখ টাকা। জেলায় বন্যায় ভেসে যাওয়া মাছের পোনা উৎপাদনকারী নার্সারির সংখ্যা ১২৯টি। ক্ষতির পরিমাণ আনুমানিক ৪২ লাখ টাকা। জেলায় পুকুর মালিকদের অবকাঠামোগত ক্ষতি অর্থ্যাৎ জলাশয়ের পাড় ভাঙা, জাল ও বানার যে ক্ষতি হয়েছে তার আনুমানিক মূল্য ৭৪ লাখ টাকা।
জেলা মৎস্য কর্মকর্তা ড. জিল্লুর রহমান বলেন, ‘প্রাথমিকভাবে জেলার বন্যায় ভেসে যাওয়া পুকুরের অবকাঠামো, মাছ এবং পোনা মাছের ক্ষতির পরিমাণের তালিকা প্রস্তুত করা হয়েছে। তবে এটি চূড়ান্ত তালিকা নয়। প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্ত পুকুরের সংখ্যা পেতে আরও কিছুদিন অপেক্ষা করতে হবে। বর্তমানে ক্ষতিগ্রস্ত মাছচাষীদের নামের তালিকা তৈরির কাজ চলছে।’
এমআর





