১৭ই রমজান ঐতিহাসিক বদর দিবস উপলক্ষ্যে আলোচনা সভা করেছে ইসলামী ছাত্রশিবির খুলনা মহানগরী। নগরীর একটি মিলানায়তনে এ আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

কেন্দ্রীয় কার্যকরী পরিষদ সদস্য ও খুলনা মহানগরী শিবিরের সভাপতি মু তারিকুর রহমান তারেক এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন, সংগঠনের সাবেক কেন্দ্রীয় কার্যকরী পরিষদ সদস্য ও খুলনা মহানগরীর সাবেক সভাপতি মোকাররম বিল্লাহ আনসারি। এ সময় উপস্থিতছিলেন, মহানগরী সেক্রেটারী হাফেজ ইমরান খালিদ, সাংগঠনিক সম্পাদক ফাহিম ফয়সাল, তাসকিন আহমেদ, মোশারফ আনসারি, মুজাহিদুল ইসলাম, কে এম রাতুল, আবু হাসান, আবুল কাশেম প্রমুখ।

সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে মোকাররম বিল্লাহ আনসারি বলেন, আজ ১৭ই রমজান,ঐতিহাসিক বদর দিবস।৬২৪ খ্রিস্টাব্দের ১৬ মার্চ, হিজরি দ্বিতীয় বর্ষের ১৭ রমজান ৩১৩ জন সাহাবিকে সঙ্গে নিয়ে মহানবী (সা.) মদিনা শরিফের বদর নামক স্থানে কাফেরদের সঙ্গে এক রক্তক্ষয়ী যুদ্ধে অবতীর্ণ হন। ইতিহাসে এ যুদ্ধকে বদর যুদ্ধ বলে অবহিত করা হয়। ঐতিহাসিক এ যুদ্ধের সেনাপতি ছিলেন বিশ্বনবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)। মহান আল্লাহ দয়া করে সেদিন ফেরেশতাদের মাধ্যমে মুমিনদের সাহায্য করেছিলেন।মহানবী (সা.)-এর সঙ্গে জনবল ছিল মাত্র ৩১৩ জন। এর মধ্যে ৭০ জন মুহাজির ও বাকিরা আনসার। অন্যদিকে কাফের কুরাইশ বাহিনীর সংখ্যা ছিল এক হাজার।

ইসলামের জিহাদ বলতে যে কেবল জয়ের জন্য যুদ্ধ কিংবা রক্ত ও মৃত্যুর বিভীষিকা জিহাদের মূল চিত্র ও চেতনা নয়, তা বদরের প্রান্তরে প্রার্থনার কান্না, যুদ্ধকালে রোজা রেখে ক্ষুধার্ত থাকা আর শান্তি ও সত্য প্রতিষ্ঠার প্রত্যয় ধরে রাখার মধ্য দিয়ে বদর যুদ্ধ তার এক উজ্জ্বল মানবিক রূপ উপহার দিয়েছে।

তিনি আরো বলেন বদর যুদ্ধের শিক্ষা মুসলমানদের জন্য অত্যাধিক তাৎপর্যপূর্ণ,এ যুদ্ধের সফলতা হচ্ছে, ইসলামের ঐতিহাসিক বিজয়, মুসলমানদের ইমানের পরিপক্বতা অর্জন, সর্বোত্তম ইতিহাস সৃষ্টি, প্রথম সামরিক বিজয়, কুরাইশদের শক্তি খর্ব, জিহাদের অনুপ্রেরণা, আল্লাহর ওপর প্রগাঢ় আস্থাঅর্জন, ইসলাম ও মহানবী (সা.)-এর প্রতিষ্ঠা, এবং মুসলমানদের পক্ষে আল্লাহ তাআলার গায়েবি সাহায্যের জ্বলন্ত প্রমাণ। সুতরাং রমজান নফসের বিরুদ্ধে জিহাদ করার মাস। এ রমজানে সাহাবায়ে কেরাম নফসের বিরুদ্ধে জিহাদ করার পাশাপাশি নফস পূজারি তাগুতি শক্তির বিরুদ্ধে যেভাবে নিজেদের আত্মনিয়োজিত করেছেন, ইতিহাসে তার দৃষ্টান্ত বিরল। তাই আল্লাহ তাআলা তাদের সর্বাধিক মর্যাদার অধিকারী মুসলমান হিসেবে কবুল করে নিয়েছেন। আমাদের উচিত তাদের অনুসরণ করা।

এফএফ