গত ৫ জানুয়ারির নির্বাচনের আগে রাজশাহী মহানগরীতে বোমা মেরে পুলিশ কনস্টেবল সিদ্ধার্থ সরকার হত্যাসহ ১৩ মামলার এক আসামিকে পুলিশ গ্রেফতার করেছে। নগরীর বোয়ালিয়া থানার শিরোইল এলাকা থেকে সোমবার রাতে মেরাজুল ইসলাম নামের ওই ব্যক্তিকে গ্রেফতার করা হয়।
স্বামী সিদ্ধার্থ সরকারের আহত হওয়ার পর মুষড়ে পড়েন কনস্টেবল দীপ্তি সরকার। দুপুরে হামলার পর রাতে মারা যান সিদ্ধার্থ।
মঙ্গলবার মহানগর হাকিম শারমিন আক্তারের আদালতে হাজির করে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হেফাজতের (রিমান্ড) আবেদন করে পুলিশ।
আদালত বুধবার রিমান্ড আবেদন শুনানির দিন ধার্য করে তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেয়।
নগরীর বোয়ালিয়া মডেল থানার সহকারী কমিশনার (এসি) ইফতেখায়ের আলম বলেন, মেরাজুল জামায়াতের কর্মী। তার বিরুদ্ধে দুইটি হত্যাসহ ১৩টি মামলা রয়েছে।
তিনি বলেন, “রাজশাহী শিক্ষাবোর্ড মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ ড. মোকবুল হোসেনকে মোবাইল ফোনে আগামী শনিবারের মধ্যে হত্যার আল্টিমেটাম দিয়েছিল মেরাজুল।
“এ ঘটনায় অধ্যক্ষ মোকবুল হোসেন থানায় লিখিত অভিযোগ দিলে রাতেই পুলিশ নগরীর শিরোইল এলাকা থেকে মেরাজুলকে গ্রেফতার করে।”
এসি ইফতেখার আরও বলেন, কনস্টেবল সিদ্ধার্থ হত্যা মামলার আসামি মেরাজুল ইসলাম কয়েকমাস হাজতে থাকার পর ২৪ জুলাই উচ্চ আদালত থেকে জামিনে বেরিয়ে আসে। এরপর থেকে চাকরি ফিরে পেতে দুই দফায় অধ্যক্ষকে হুমকি দেয়।
রাজশাহী শিক্ষাবোর্ড মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজের চতুর্থ শ্রেণির বরখাস্ত এই কর্মচারীর বিরুদ্ধে ১৩টি মামলা রয়েছে বলে জানান তিনি।
রাজশাহী শিক্ষাবোর্ড মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ ড. মোকবুল হোসেন বলেন, গত ৭ ডিসেম্বর সন্ধ্যা ৭টা ২৮ মিনিটে ০১৯৮৭২২৩১৮০ নম্বর থেকে তার মোবাইলে ফোন দিয়ে হত্যার হুমকি দেয়। এর আগে ৩ ডিসেম্বর কলেজে এসে মেরাজুল ইসলাম তাকে প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে এসেছিল।
অধ্যক্ষ বলেন, রাজশাহী শিক্ষাবোর্ড মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজে মেরাজুল ইসলাম চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী হিসেবে কাজ করতেন। ২০১২ সালের ৬ অক্টোবর অনৈতিক আচরণ ও শৃঙ্খলা ভঙ্গের কারণে বোর্ড অব গভর্নেন্সের সভাপতি ও শিক্ষাবোর্ডের চেয়ারম্যানের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী মেরাজুল ইসলামকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়।
জেআই





