রাজধানীর খিলগাঁও থানার উত্তর গোড়ান এলাকায় নিজ বাসার ভেতর প্রবেশ করে নিলয় চক্রবর্তী নীল (৪০) নামে এক ব্লগারকে গলা কেটে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা।
শুক্রবার দুপুরে ওই এলাকার ১৬৭ নম্বর বাসার ৫ম তলার একটি ফ্ল্যাটে এ হত্যাকাণ্ড ঘটে। নির্মম এ হত্যাকাণ্ডের বর্ণনা দিয়েছেন নিহতের স্ত্রী আশামনি।
শুক্রবার বিকালে সাংবাদিকদের কাছে আশামনি বলেন,মাসখানেক আগে আমার স্বামীর মোবাইলে কল করে হত্যার হুমকি দিয়েছিল দুর্বৃত্তরা। ব্লগার অনন্ত হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের বিচার দাবিতে অনুষ্ঠিত মানববন্ধন থেকে ফেরার পথেও তাকে দুই ব্যক্তি ফলো করেছিল।
এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি জানান,তিনি থানায় জিডি করতে গিয়েছিলেন। তবে পুলিশ জিডি নিয়েছিলো কিনা তা আমি জানি না।
নিলয়ের স্ত্রী আশামনি বলেন, দুপুর ১২টার দিকে আমার স্বামী বাজার থেকে ফিরে ড্রয়িংরুমে ল্যাপটপ নিয়ে বসেন। এসময় আমি ছাড়াও আমার ছোটবোন তন্বী ছিলাম বাসায়।
হঠাৎ করে ২০-২১ বছর বয়সী জিন্সের প্যান্ট পরা এক যুবক দরজা খুলতেই বাসায় ঢোকেন। তিনি বাসা ভাড়া নেবেন বলে নিজ থেকেই দু’বার পুরো ফ্ল্যাট ঘুরে দেখেন।
তখন আমি বলি, আমরা তো বাসা ছাড়ছি না, বাসা ভাড়া নেবেন কীভাবে? বাড়িওয়ালাকেও তো এ বিষয়ে কিছু বলিনি। এসময় ওই যুবক বলেন, ''বাড়িওয়ালাই আমাকে দেখে যেতে বলেছেন'' বলে হাতে মোবাইলেও যেন কী যেন করছিলেন।
আশামনি আরো বলেন, আমি বিষয়টি ড্রয়িংরুমে আমার স্বামীকে জানাতে যাই। এইমধ্যে আরও তিন যুবক বাসায় ঢোকেন। এরমধ্যে একজনের মুখে দাড়িও ছিল। তারা ভেতরে ঢুকেই দরজা বন্ধ করে দেন। তিনজন যুবকের হাতে রামদা ও একজনের হাতে পিস্তল ছিল।
বারবার মূর্ছা যাওয়া নিলয়ের স্ত্রী বলেন, একজন আমার মাথায় পিস্তল ঠেকিয়ে বারান্দায় রেখে ভেতর থেকে দরজা লক করে দেয়। একইভাবে অন্য রুম থেকে তন্বীকেও এখানে নিয়ে আসে।
পরে এক সঙ্গে ‘আল্লাহু আকবর’ বলে আমার স্বামীকে কুপিয়ে হত্যা করে চলে যায় তারা। বারান্দায় আমি বারবার ‘বাঁচাও, ‘বাঁচাও’ বলে চিৎকার দিলেও কেউ এগিয়ে আসেনি আমার স্বামীকে বাঁচাতে।
স্বামী হত্যার বিচার চেয়ে আশামনি বলেন, ‘অতীতেও এ ধরনের হত্যাকাণ্ড ঘটেছে। কিন্তু বিচার হতে দেখিনি। বিচার হলে আজ আমাকে স্বামী হারাতে হতো না।’
স্বামী হত্যাকাণ্ডের পর নিজেকেও ‘নিরাপত্তাহীন’ মনে করছেন যুবমৈত্রীর কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য আশামনি।
এআর





