যশোরে তিন যুবককে ধরে নির্যাতন করে হাত-পা ভেঙে দিয়েছে পুলিশ। সঙ্গে তাদেরকে বোমা বিস্ফোরণের মামলার আসামি করা হচ্ছে বলে অভিযোগ তাদের স্বজনদের। তবে পুলিশ এ অভিযোগ অস্বীকার করেছে।
পুলিশের নির্মম অত্যাচারের শিকার ব্যক্তিরা যশোরের ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালের বিছানায় কাঁতরাচ্ছেন। তারা হলেন- যশোর শহরের খালধার রোড এলাকার দুলালের ছেলে আল আমিন, ঘোপ এলাকার মোতারেব হোসেনের ছেলে শামীম ও বারান্দীপাড়ার সাঈদ।
বিশেষ সূত্র জানায়, রোববার রাতে মোটরসাইকেলে করে আল আমিন, সাঈদ ও শামীম তাদের পাওনা টাকা আনতে বসুন্দিয়া বাজারে ফারুকের কাছে যান। টাকা নিয়ে ফেরার সময় বসুন্দিয়া পুলিশ ফাঁড়ির সদস্যরা তাদের আটক করে। এরপর ওই তিন যুবকের কাছে থাকা মোটরসাইকেলটি নিজেদের দাবি করে। মোটরসাইকেলটি দিতে অস্বীকৃতি জানানোয় পুলিশ তাদের ধরে নির্জন স্থানে নিয়ে যায়। এরপর তাদেরকে উল্টো করে ঝুলিয়ে বেধড়ক মারপিট করে। এক পর্যায়ে বাঁশকলে ফেলে বুট দিয়ে তাদেরকে পাড়াতে থাকে। মুমূর্ষু অবস্থায় তাদেরকে হাসপাতালে নিয়ে আসে পুলিশ। সোমবার সকালে বাড়ির লোকজন তাদের খবর পায়।
আহতদের স্বজন লাবনি জানান, তাদের ভাই কোনো অপরাধী নয়। পুলিশ তাদেরকে ধরে অপরাধী বানানোর চেষ্টা চালাচ্ছে। পুলিশ তাদের কাছে থাকা টাকা পয়সাও ছিনিয়ে নিয়েছে। এখন তাদের বোমা মারার (বিস্ফোরণ) মামলার আসামি বানানোর চেষ্টা চালাচ্ছে।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে বসুন্দিয়া পুলিশ ফাঁড়ির টুআইসি আনিসুর রহমান জানান, রোববার রাতে ওই তিন যুবক যশোর-নওয়াপাড়া সড়কের টাটা মোটরসের সামনে বোমা বিস্ফোরণ ঘটায়। এরপর বসুন্দিয়া মোড়ে এসে জঙ্গলবাঁধল গ্রামের দিকে চলে যায়। সেখানে তারা দিক হারিয়ে ফেলে। এ সময় গ্রামবাসী তাদেরকে ধরে গণধোলাই দেয়। পরে পুলিশ গিয়ে তাদের উদ্ধার করে নিয়ে আসে।
বসুন্দিয়া পুলিশ ফাঁড়ির আইসি (এসআই) জাহাঙ্গীর জানান, ঘটনার দিন নিটোল টাটায় একটি টেন্ডার ছিল। টেন্ডার নিয়ে দুই গ্রুপের মধ্যে বিবাদ বেঁধে যায়। তারা যশোর থেকে এসে বোমা বিস্ফোরণ ঘটায়। পালিয়ে যাওয়ার সময় প্রতিপক্ষ গ্রুপ তাদেরকে ধাওয়া করে। এরপর তাদেরকে ধরে গণধোলাই দেয় জনগণ। পুলিশ তাদেরকে উদ্ধার করে নিয়ে আসে। এ ঘটনায় একটি মামলা হয়েছে।
এএইচ





