রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) ইংরেজি বিভাগের অধ্যাপক ড. এএফএম রেজাউল করিম সিদ্দিকী হত্যাকাণ্ডের মোটিভ নিয়ে এখনও ধোঁয়াশায় আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

হত্যাকাণ্ডের ৭২ ঘণ্টা পেরিয়ে গেলেও তদন্তে দৃশ্যত কোনো অগ্রগতি নেই। নিহতের গ্রামের বাড়ি বাগমারার দরগামারিয়া গানের স্কুল নিয়ে দ্বন্দ্বের বিষয়টি সামনে এলেও তার সত্যতা পায়নি পুলিশ। সেখানে এ নিয়ে কোনো ব্যক্তিগত দ্বন্দ্ব নেইও বলছে পুলিশ।

ফলে সংস্কৃতিমনা নিরীহ প্রকৃতির এ অধ্যাপকের চাঞ্চল্যকর হত্যার রহস্যের জট খুলতেই পারছে না আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। এতে ক্রমেই ক্ষোভ বাড়ছে নিহতের পরিবার, সহকর্মী ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে।

হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকতে পারে-এমন সন্দেহে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আরও এক যুবককে আটক করা হয়েছে। রোববার (২৪ এপ্রিল) রাতে মহানগরীর খড়খড়ি এলাকা থেকে তাকে আটক করে মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ। তবে তদন্তের স্বার্থে তার নাম-পরিচয় প্রকাশ হয়নি। এ নিয়ে সন্দেহভাজন দু‘জনকে আটক করা হল।

এর আগে, শনিবার (২৩ এপ্রিল) রাতে শালাবাগান এলাকা থেকে রাবির লোক প্রশাসন বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র হাফিজুর রহমানকে আটক করা হয়। হাফিজুর নগরীর ১৯নং ওয়ার্ড ছাত্র শিবিরের সাধারণ সম্পাদক বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।

এ দু’জনকেই মহানগর ডিবি কার্যালয়ে রেখে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।

রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশ (আরএমপি) কমিশনার মো. শামসুদ্দিন বলেন, অধ্যাপক রেজাউলের গ্রামের বাড়িতে তদন্ত করে কোনো ব্যক্তিগত দ্বন্দ্বের বিষয় পায়নি পুলিশ। তাই এখনও পর্যন্ত কোনো ক্লু পাওয়া যায়নি।

তবে পুলিশ গুরুত্ব দিয়েই মামলার তদন্ত কাজ করছে। শনি ও রোব রাতে সন্দেহভাজন দু’জনকে আটক করা হয়েছে। তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। জিজ্ঞাসাবাদ শেষ হলে তথ্য জানানো হবে।

রাজশাহী মহানগর ডিবির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খন্দকার জাহিদুল হাসান বলেন, তারা সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে মামলার তদন্ত কাজ করে যাচ্ছেন। তবে দ্রুত ঘাতকদের চিহ্নিত করার যাবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

শনিবার (২৩ এপ্রিল) সকাল পৌনে ৮টার দিকে রাজশাহী মহানগরীর শালাবাগান এলাকায় নিজ বাড়ি থেকে খানিক দূরে রাবি অধ্যাপক ড. রেজাউল করিম সিদ্দিকীকে কুপিয়ে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা।

এমই