নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে সজিব গ্রুপের কারখানা হাশেম ফুডসের ভবনে অগ্নিকাণ্ডে ৫২ জনের প্রাণহানির ঘটনায় পুলিশের করা মামলার তদন্ত শুরু করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। শনিবার সকালে সিআইডির অতিরিক্ত উপমহাপরিদর্শক ইমাম হোসাইন একটি দল নিয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।

পরিদর্শনকালে ইমাম হোসাইন বলেন, এই তদন্তে যে কোনো ব্যাক্তি বা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অনিয়ম পেলে ব্যবস্থা নেয়া হবে। এ ছাড়া পুলিশের করা মামলার ১০টি বিষয় নিয়ে তারা তদন্ত শুরু করেছেন বলে জানান তিনি।

এর আগে গত ১৫ জুলাই সন্ধ্যায় পুলিশ সদর দপ্তর মামলাটি সিআইডির নিকট হস্তান্তরের নির্দেশ দেয়। অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে মামলাটি করেছিল। রুপগঞ্জ থানার ওসি তদন্ত হুমায়ুন কবীর মোল্লা বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেন।

পুলিশের মামলায় কারখানা কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে শিশু শ্রম, নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনা না রাখা, ঘটনার সময় চতুর্থতলায় কলাপসিবল গেট বন্ধ থাকা, শ্রমিক সংখ্যার সামঞ্জস্য না রাখা, কারখানার ভেতরে অসাবধানতার সাথে দাহ্য পদার্থ রাখা, কর্মপরিবেশ সুষ্ঠ না রাখা, পরিবেশ দূষণ, বেতন ভাতা নিয়ে শ্রমিকদের আন্দোলনের সংযোগ ও ১১২ বিক্রয় প্রতিনিধিকে চাকরিচ্যুত করে তাদের বরাদ্দ মোটর সাইকেল ফেরত নিয়ে নিলামের তোলার অভিযোগ করা হয়।

এদিকে শ্রমিকদের নিরাপত্তার ব্যবস্থাপনা না থাকাসহ অন্যান্য অভিযোগে শুক্রবার কারখানা কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে শ্রম আদালতে মামলা করেন কলকারখানা অধিদপ্তরের উপমহাব্যবস্থাপক সৌমেন বড়ুয়া ।

উল্লেখ্য, ৮ জুলাই বিকেলে রূপগঞ্জে হাসেম ফুডের সেজান জুস কারখানায় আগুনে পুড়ে ৫২ জনের মৃত্যু হয়। ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের ১৮টি ইউনিট একটানা ২৯ ঘণ্টা চেষ্টা চালিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। ওই ঘটনায় জেলা প্রশাসন, ফায়ার সার্ভিস, কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তর পৃথক তিনটি তদন্ত কমিটি গঠন করে।

আগুনে পুড়ে মৃত্যুর ঘটনায় রূপগঞ্জ থানার পরিদর্শক (তদন্ত) হুমায়ূন কবীর বাদী হয়ে কারখানা মালিক আবুল হাসেম, তার চার ছেলে, প্রতিষ্ঠানের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তাসহ আটজনের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের করেন।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা হাসেম ফুড কারখানার মালিক আবুল হাসেমসহ আটজনকে চার দিনের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করেন। জিজ্ঞাসাবাদ শেষে গত ১৪ জুলাই আদালতে হাজির করা হলে কারখানার মালিক আবুল হাসেমসহ ছয়জনকে কারাগারে পাঠান বিচারক। জামিন পান কারখানার মালিক আবুল হাসেমের দুই ছেলে।

এবিএস